দিনাজপুরের হিলির ছাতনীতে (বিলপাড়া) অসহায় বাকপ্রতিবন্ধী আলেমন বেগমের (৫৫) পরিত্যক্ত ভাঙা ঘরটি নিজ অর্থায়নে পাকা করে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপিকর্মী ও পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) হাকিমপুর হিলি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ছাতনী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছানাউল ইসলামের নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে বাকপ্রতিবন্ধী আলেমনের থাকার জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। রাজমিস্ত্রিরা ইতোমধ্যে ঘরের মেঝে ও চারদিকের দেওয়ালে প্লাস্টারের কাজ শেষ করেছেন।
আলেমন বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পাগলী’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দিয়ে এবং দোকানদারদের দেওয়া সাহায্য ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় কোনো রকমে তার সংসার চলে। বর্ষাকালে তার থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। আগের ভাঙা ঘরে পানি ঢুকত। ইঁদুরের গর্ত থাকায় ঘর থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ছানাউল ভাই নিজের খরচে মেঝে পাকাসহ একটি টিনশেড ঘরে থাকার পরিবেশ করে দেন।’
একই এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন খুবই অসহায় একজন মানুষ। তার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খুব প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেশী ছানাউল ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আজ থেকে আলেমনের স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হলো। এতে আমরা গ্রামবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।’
হাকিমপুর পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করেন। যেকোনো সমস্যায় তিনি আমার কাছে আসতেন। এর আগে তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থাও আমি করে দিয়েছি। কিন্তু তার রাতে থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। অনেক দিন থেকেই তাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার চিন্তা করছিলাম। আর্থিক সংকটের কারণে একটু সময় লেগেছে। আগে থেকেই ইট, বালু ও সিমেন্ট জোগাড় করে রেখেছিলাম। রাজমিস্ত্রী লাগিয়ে ঘরের মেঝে পাকাকরণ, চারপাশের ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারসহ টিনশেড ঘরটির কাজ সম্পন্ন করা হলো। আগামীতে এই ঘরে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিনের ব্যবস্থাও করে দেব।’
তিনি আরও বলেন দলের একজন কর্মী হিসেবে আমার এলাকার এই অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকব।
হাকিমপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম পেশায় একজন সাধারণ কৃষক হলেও তিনি অত্যন্ত বড় মনের মানুষ। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আলেমন বেগমকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ছানাউল ইসলামের এই উদ্যোগের পাশাপাশি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে ওই ঘরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’
কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/