যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সফল হয়, তবে দেশটির ওপর ব্যাপক মাত্রায় বোমা বর্ষণ করার জন্য তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের হিট লিস্টে রয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের তালিকায় আছি। আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি। তবে বড় কথা হলো, আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যে, যদি আমার কোনো ক্ষতি হয়, তবে আক্ষরিক অর্থেই তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমা হামলা চালানো হবে যা তারা এর আগে কখনো দেখেনি।'
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার নতুন ইরানি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এই নতুন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘নতুন কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং বহু বছর ধরেই ইরান তাকে মৃত দেখতে চায়’।
তিনি বলেন, ‘না, না। ইসরায়েল নতুন কিছু বের করেনি। আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের তালিকায় এক নম্বরে আছি এবং এটাই জীবন, আপনারা জানেন।’ রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘আশাকরি আপনারা আমাকে মিস করবেন’।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে ট্রাম্প তার ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। পরে হোয়াইট হাউস স্বীকার করে যে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশনায় ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এটিই প্রথম নয়, এর আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি ইরানের তথাকথিত ‘হিট লিস্টে’ এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।
আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের (ইরানের) একদল নেতা চলে গেছেন। তারপর আরেক দল নেতা এসেছিলেন, তারাও শেষ। এখন আরেক দল নেতা আছেন, তারাও হয়তো চলে যাবেন, কে জানে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এবং আপনারা জানেন কি? আমিও হয়তো চলে যেতে পারি। কারণ আমিই তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু। এটি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে যে আমি তাদের প্রধান লক্ষ্য।’
রিপাবলিকান এই নেতা আরও দাবি করেন, ‘‘এতদিন তিনি ‘ভাগ্যবান’ হলেও, সবসময় ভাগ্য একরকম নাও থাকতে পারে। গত বুধবার তিনি বলেছিলেন, ‘আজ সকালে আমি একটি বিষয় দেখলাম, আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। এ পর্যন্ত আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম বলতে হবে। তবে হয়তো এটি খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না।’’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি শেষ
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের তিনি মোটেও পছন্দ করেন না।
ইরানের ৮০টি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের একেবারেই পছন্দ করি না। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমরা তাদের পেছনে অনেক সময় নষ্ট করেছি, এখন আমাদের নিজেদের কাজ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রকৃতির মানুষ। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, সব শেষ।’
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে এর ফলাফল নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা আলোচনা করতে পারে, তবে আমার মনে হয় তারা শুধু সময়ই নষ্ট করছে।’
সম্প্রতি গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সেখানকার বিভিন্ন পোস্টার ও গ্রাফিতিতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ইরান তাকে হত্যা করতে চায় বলে ট্রাম্প এই দাবি করলেন। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/অমিয়/