ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসরকে হারানোর পর এএফএর ই-মেইল সিস্টেমে সাইবার হামলা শত বছরের অমলিন কীর্তি তাজহাট জমিদারবাড়ি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’ নীলাম্বরী সাজে লালপুরে মেয়ের ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার বাবা কোয়ার্টারের আগে রক্ষণে সতর্ক আর্জেন্টিনা জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিক্রি করছে, আপনি কিনবেন বিশ্বকাপ ফাইনাল ভেন্যুর মাঠের ঘাস? কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ খুলনায় নিখোঁজ তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, দুই বার পালিয়ে বিয়ে করায় হত্যা! মিসর কোচের অভিযোগ ভিত্তিহীন: লিওনেল স্কালোনি ১১ দলের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ বয়কট : সহকারী পরিচালক মাগুরার সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের ত্রাণ বিতরণ সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি পেনাল্টিতে মেসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: স্কালোনি বীরগঞ্জে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ জ্বালানি সংকটে কিউবাজুড়ে লোডশেডিং ভোমরা স্থলবন্দরে বিজিবির অভিযানে ডায়মন্ডের নাকফুলসহ ২ ভারতীয় আটক ফ্রান্সকে হারাতে আমরা প্রস্তুত: স্প্যানিশ কোচ ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল মেডিকেলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন বাভির আঘাত বেলকুচিতে পানির পাম্পে আবারও পাওয়া গেল গ্যাসসদৃশ পদার্থ গাজীপুরে জখম হাতির চিকিৎসায় থাই বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেরই স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত: ইয়ামাল জয়পুরহাটে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০ বারবার দুর্যোগ নয়, স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধার
নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধার/ ছবি: খবরের কাগজ

নরসিংদীর শিবপুরে একটি মোটর ওয়ার্কস গ্যারেজ থেকে মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ হওয়া দুটি ড্রাম্পট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মোটর ওয়ার্কস’ গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন নরসিংদী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ভারী যানবাহনগুলোতে কোনো নিবন্ধন (নাম্বার) প্লেট ছিল না। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল আমিন ও শহীদ ঘটনাস্থলে এসে গাড়িগুলো পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন। গ্যারেজ মালিকও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া যানবাহনসমূহ দ্রুত মাধবদী পৌরসভায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গ্যারেজ মালিক তাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রশাসন জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বেশ কিছুদিন আগে মাধবদী পৌরসভার মোট চারটি ড্রাম্পট্রাক ও একটি পে-লোডার মেরামতের জন্য এই গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ড্রাম্পট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট দুটি ড্রাম্পট্রাক এবং একটি পে-লোডার দীর্ঘদিন ধরে এই গ্যারেজেই পড়ে ছিল।

ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শাওন খন্দকার শাহিন/তামান্না রুপা/

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকার একটি বাসায় গ্যাসলাইনের কাজ করার সময় পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। 

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)। 

তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনজনই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

তাদের সঙ্গে থাকা সহকর্মী সজীব জানান, রাতে কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকার আরিফ মিয়ার বাসায় গ্যাসলাইনের কাজ করছিলেন তারা। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। এতে রাকিব, রাজন ও সুমন দগ্ধ হন। পরে অন্য সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহত রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অপর দুই শ্রমিক রাজন ও সুমনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তবে তাদের শরীরে ড্রেসিং চলমান থাকায় এ মুহূর্তে দগ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনজনের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 তিনি জানান, আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এএফ/ 

মাগুরার সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ পিএম
মাগুরার সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

অতিবৃষ্টি ও প্রবল পানির স্রোতে মাগুরার শালিখা উপজেলার গোবরা গ্রামে খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবা রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে খালের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) স্রোত ও পানির চাপে সেতুটির নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেটি ধসে পড়ে। এর ফলে গোবরা গ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় টানা বর্ষণে পানির চাপে শেষ পর্যন্ত সেতুটি ধসে পড়ে। তারা দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ধসেপড়া সেতুটি পরিদর্শনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন করে সেতু নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাসেমুর রহমান/তামান্না রুপা/

সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পিএম
সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের ত্রাণ বিতরণ
ছবিঃ খবরের কাগজ

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে টানা এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে বিপাকে পড়েছেন দ্বীপবাসী। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কোস্টগার্ড।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের ব্যবস্থাপনায় কোস্টগার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা করে আসছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি বলেন, চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের নৌযোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় দ্বীপের অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়ে। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলবে।

শাহীন/অদিতি/

সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি
ছবিঃখবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ডলু নদীর আশেপাশের এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতি হতে শুরু করেছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন খালের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। 

বৃহস্পতিবার সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বেড়ে সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকা ও উপজেলার বাজালিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ, কাঞ্চনা ও কেঁওচিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

এ ছাড়াও অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে লোকালয় থেকে বন্যার পানি কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমেছেন। তবে নিচু এলাকাগুলোতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। 

সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা তুষার রুদ্র বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি কমতে শুরু করেছে। মূলত ডলু নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আর বৃষ্টিপাত না হলে আগামীকাল সকালের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।

একই এলাকার খায়ের আহমদ বলেন, গতকালের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো শুকনো খাবারের প্যাকেট পেয়েছি।

ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, পানি কমার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। দস্তিদারহাট থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পুনরায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগ চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৬টায় ৬.৮২ মিটার, ৯টায় ৬.৭৮ মিটার, বেলা ১২টায় ৬.৭২ মিটার এবং বিকাল ৩টায় ৬.৬৮ সীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ক্রমেই পানির স্তর কমছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আরিফুল ইসলাম/হীরা

বীরগঞ্জে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
বীরগঞ্জে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ
ছবিঃ খবরের কাগজ

দিনাজপুর বীরগঞ্জের কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছে রাকিব ও ফয়সাল নামে দুই স্কুলছাত্র।  

শুক্রবার (১০ জুলাই) কাদায় ডুবে থাকা সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে তারা নীরব প্রতিবাদ জানায়। তাদের এ প্রতীকী কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘাগড়াবাদ-কাজল গ্রাম সড়ক, ঘাগড়াবাদ-সনকাগামী সড়ক এবং ঘাগড়াবাদ-কালীরহাটগামী সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর এসব সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে তাদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্ষাকালে সড়কের কাদার কারণে প্রায়ই পিছলে পড়তে হয়। অনেক সময় পোশাক, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা এই প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মকছুর রহমান বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সাধারণ যাতায়াত- সব ক্ষেত্রেই মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহুবার দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  

সনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়ুব আলী বলেন, প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার জরুরি।

কৃষক মজনু মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কাদামাখা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনায়ও নানা সমস্যা হচ্ছে। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনচালক এ পথে চলাচল করতে অনীহা প্রকাশ করায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার সড়ক সংস্কারের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে উন্নয়ন প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়টি আমার জানা রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
 
সুলতান মাহমুদ/অদিতি/