দিনাজপুর বীরগঞ্জের কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছে রাকিব ও ফয়সাল নামে দুই স্কুলছাত্র।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাদায় ডুবে থাকা সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে তারা নীরব প্রতিবাদ জানায়। তাদের এ প্রতীকী কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘাগড়াবাদ-কাজল গ্রাম সড়ক, ঘাগড়াবাদ-সনকাগামী সড়ক এবং ঘাগড়াবাদ-কালীরহাটগামী সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর এসব সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে তাদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্ষাকালে সড়কের কাদার কারণে প্রায়ই পিছলে পড়তে হয়। অনেক সময় পোশাক, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা এই প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মকছুর রহমান বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সাধারণ যাতায়াত- সব ক্ষেত্রেই মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহুবার দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়ুব আলী বলেন, প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার জরুরি।
কৃষক মজনু মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কাদামাখা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনায়ও নানা সমস্যা হচ্ছে। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনচালক এ পথে চলাচল করতে অনীহা প্রকাশ করায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার সড়ক সংস্কারের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে উন্নয়ন প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়টি আমার জানা রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সুলতান মাহমুদ/অদিতি/