ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার
Nagad desktop

রাজশাহীতে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
রাজশাহীতে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
রাজশাহীর তানোরে শিব নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে/ খবরের কাগজ

রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলকুমারীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া শিব নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পড়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই পথে চলাচল করেন। ছোট-বড় গর্ত, উঠে যাওয়া ইট, ভাঙা অংশ, কাদাপানি আর ধসে পড়া রাস্তার কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সেতু একসময় শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই ছিল না, ছিল দুই উপজেলার মানুষের প্রাণকেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সেতুটি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসতেন।

বিশেষ করে বিকেলের দিকে সেতুর ওপর মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ যেমন চলাচলে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন, তেমনি কমে গেছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের কয়েক শ’ মিটার এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে কাঁচা মাটির স্তর বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই অংশ কাদায় পরিণত হয়। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রায়ই যানবাহন আটকে যাচ্ছে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাস্তার এমন দুরবস্থার কারণে এই সড়কে যান চলাচল কমে গেছে। ভাঙা রাস্তার কারণে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যান চালকদের আয়ের একটি বড় অংশ গাড়ি মেরামতের পেছনে খরচ করতে হচ্ছে। তারা চাইছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটির সংস্কার করা হোক। এমনকি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভাঙা রাস্তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সংস্কার শুরু হবে।

স্থানীয় ইজিবাইকচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে প্রতি মুহূর্ত জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়, তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। এতে যাত্রীদের কাছ থেকেও অভিযোগ শুনতে হয়। রাস্তাটির কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেরামতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আয় যা হয়, তার বড় একটা অংশ গাড়ি ঠিক করতেই চলে যায়।’

মোটরসাইকেল চালক সোহানুর ইসলাম বলেন, ‘রাতে এই সড়কে চলাচল করা খুবই ভয়ংকর। কোথায় গর্ত, কোথায় রাস্তা ভাঙা–তা বোঝার উপায় থাকে না। সামান্য অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চলাচল একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

শুধু সড়ক নয়, সেতুর বিভিন্ন অংশেও ক্ষয়ের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। কয়েকটি স্থানে ঢালাই উঠে গেছে এবং রেলিংয়ের কিছু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় চা দোকানি সোহেল রানা বলেন, ‘আগে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসত। এখন রাস্তার কারণে মানুষ কমে গেছে। বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কম।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দায়সারা সংস্কার করা হলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাবেই বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার নিচের মাটি দুর্বল হওয়ায় ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে পারছে না। ফলে মাটি সরে গিয়ে রাস্তা ধসে পড়ছে।

আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেকসই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- অটোরিকশাচালক মাহবুব (৪৫), অটোরিকশার যাত্রী জোসনা বেগম (৪০) ও তার শিশুপুত্র আশরাফুল (৫)। 

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন জোসনার স্বামী কাউসার (৫০) ও তার মেয়ে আদিবা (৪)। আহতরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বাড়ি জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে।

পুলিশ জানায়, সকালে কসবা থেকে অটোরিকশায় করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সরাইল-বিশ্বরোড যাচ্ছিলেন কাউসার। পথিমধ্যে বিয়াল্লিশহর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি মাছভর্তি পিকআপভ্যান অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ওই তিনজনের মৃত্যু হয়।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপের চালক ও সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।

আজিজুল সঞ্চয়/তামান্না রুপা/

লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। 

শুক্রবার (৫ জুন) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র খবরের কাগজকে জানান, তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীন বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১১ জন (৩ পুরুষ ও ৮ নারী) এবং পয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ জনকে (৫ পুরুষ ও ৫ নারী) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় বাহিনী। খবর পেয়ে বিজিবি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।

এদিকে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৯২৫ ও ৯২৭/৭-এস এর নিকট ভারতীয় সীমান্তে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখেন। বিজিবি সদস্যরা মাইকিং করে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় বিচরণ করতে থাকেন।

বিজিবি খবরের কাগজকে জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

বকুল/থিও

উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৬৪ বিজিবি। তবে এ সময় কোনো মাদক পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, গত ৪ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিওপি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুইজারখাল এলাকায় অবস্থান নেয়।

রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে টহল দল দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত মায়ানমারের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি নন-লেথাল (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাচারকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা নীল রঙের বায়ুরোধী ৩০টি প্যাকেট থেকে মোট ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, ৫ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিওপি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছাকের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়।

রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে থার্মাল ডিভাইসের মাধ্যমে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র থেকে তাৎক্ষণিক দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাচারকারীরা তাদের বহন করা তিনটি পলিথিনের পোটলা ফেলে রেখে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা বায়ুরোধী ২০টি প্যাকেট থেকে মোট ২ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট পরিমাণ ৫ লাখ ১২ হাজার পিস। তবে পলাতক চোরাকারবারীদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এলাকায় চিরুনি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পলাতক মাদক পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শাহীন/তামান্না রুপা

ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। ছবি: খবরের কাগজ

বরগুনায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরদিন রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে শহরের কালীবাড়ি এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধও করা হয়। এর আগে হাসপাতালের মর্গের সামনেও বিক্ষোভ হয়।

নিহতরা হলেন জেলা পরিষদের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী এবং তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাস।

পুলিশ জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোতে কাজে যান। পরে তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য কর্মীরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে ঘুমের ওষুধের খালি পাতা ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, তাদের পরিবারে বড় কোনো বিরোধ ছিল না। তবে কিছু আর্থিক সমস্যা ছিল। 

বিক্ষোভকারীরা বলেন, সরকারি স্থাপনায় এমন ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার দাবি করেন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

মহিউদ্দিন অপু/ আজহার/

চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদরের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পূর্বাশা পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আকিব হোসেন (২৬) নামের এক ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঘোড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকিব হোসেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা খবরের কাগজকে জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আকিব হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের পকেটে পাওয়া একটি ভিজিটিং কার্ড থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ওষুধ ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

মিজানুর রহমান /থিও