চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ডলু নদীর আশেপাশের এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতি হতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন খালের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বেড়ে সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকা ও উপজেলার বাজালিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ, কাঞ্চনা ও কেঁওচিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
এ ছাড়াও অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
শুক্রবার সকাল থেকে লোকালয় থেকে বন্যার পানি কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমেছেন। তবে নিচু এলাকাগুলোতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।
সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা তুষার রুদ্র বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি কমতে শুরু করেছে। মূলত ডলু নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আর বৃষ্টিপাত না হলে আগামীকাল সকালের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।
একই এলাকার খায়ের আহমদ বলেন, গতকালের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো শুকনো খাবারের প্যাকেট পেয়েছি।
ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, পানি কমার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। দস্তিদারহাট থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পুনরায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগ চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৬টায় ৬.৮২ মিটার, ৯টায় ৬.৭৮ মিটার, বেলা ১২টায় ৬.৭২ মিটার এবং বিকাল ৩টায় ৬.৬৮ সীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ক্রমেই পানির স্তর কমছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
আরিফুল ইসলাম/হীরা