ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে সুইজারল্যান্ড শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার দাবি বিএসকেএফ সভাপতির ইরানের দিকে তাক করা আছে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র: ট্রাম্প শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু গৌরীপুরে ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাবের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ মিসরকে হারানোর পর এএফএর ই-মেইল সিস্টেমে সাইবার হামলা বৃক্ষরোপণে নিষেধাজ্ঞা জাককানইবি প্রশাসনের শত বছরের অমলিন কীর্তি তাজহাট জমিদারবাড়ি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’ নীলাম্বরী সাজে লালপুরে মেয়ের ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার বাবা কোয়ার্টারের আগে রক্ষণে সতর্ক আর্জেন্টিনা জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিক্রি করছে, আপনি কিনবেন বিশ্বকাপ ফাইনাল ভেন্যুর মাঠের ঘাস? প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেম দেখে অনেকেই অপপ্রচারে লিপ্ত: এমপি খোকন কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ খুলনায় নিখোঁজ তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, দুই বার পালিয়ে বিয়ে করায় হত্যা! মিসর কোচের অভিযোগ ভিত্তিহীন: লিওনেল স্কালোনি ১১ দলের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ বয়কট : সহকারী পরিচালক মাগুরার সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের ত্রাণ বিতরণ সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি পেনাল্টিতে মেসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: স্কালোনি বীরগঞ্জে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ জ্বালানি সংকটে কিউবাজুড়ে লোডশেডিং ভোমরা স্থলবন্দরে বিজিবির অভিযানে ডায়মন্ডের নাকফুলসহ ২ ভারতীয় আটক ফ্রান্সকে হারাতে আমরা প্রস্তুত: স্প্যানিশ কোচ ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, লোকালয়ে কমছে বন্যার পানি
ছবিঃখবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ডলু নদীর আশেপাশের এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতি হতে শুরু করেছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন খালের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। 

বৃহস্পতিবার সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বেড়ে সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকা ও উপজেলার বাজালিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ, কাঞ্চনা ও কেঁওচিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

এ ছাড়াও অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে লোকালয় থেকে বন্যার পানি কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমেছেন। তবে নিচু এলাকাগুলোতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। 

সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা তুষার রুদ্র বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি কমতে শুরু করেছে। মূলত ডলু নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আর বৃষ্টিপাত না হলে আগামীকাল সকালের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।

একই এলাকার খায়ের আহমদ বলেন, গতকালের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো শুকনো খাবারের প্যাকেট পেয়েছি।

ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, পানি কমার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। দস্তিদারহাট থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পুনরায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগ চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৬টায় ৬.৮২ মিটার, ৯টায় ৬.৭৮ মিটার, বেলা ১২টায় ৬.৭২ মিটার এবং বিকাল ৩টায় ৬.৬৮ সীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ক্রমেই পানির স্তর কমছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আরিফুল ইসলাম/হীরা

জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা
সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা/ ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে দুই নারীসহ তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ।

​শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮ এস সাব-পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে সীমান্তের লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে দিয়ে বিএসএফ ওই তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসীরা তাদের আটকে দিয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের হেফাজতে নেয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান জোরালো করে।

​আটকদের মধ্যে এক বৃদ্ধের নাম হাফিজুর রহমান (৬৫)। তার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে সঙ্গে থাকা দুই নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

​সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা ওই তিন ব্যক্তিসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সাগর কুমার/তামান্না রুপা/

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু
দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ
দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। প্রথমবার গণনার ১৯ দিনের ব্যবধানে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে এই মাজারের টাকা। এই গণনা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একই কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা।

এবার বাক্স থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। প্রথমবার গণনায় ১ হাজার ও পাঁচশ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেলেও এবার সংখ্যার দিক থেকে লাল রংয়ের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে দেখা গেছে।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার পরিদর্শনে যান। মাত্র চারদিকে ওই সময় দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে খোলা সিলেটের সোনালী ব্যাংকে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

আজহার/

গৌরীপুরে ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাবের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
গৌরীপুরে ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাবের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাবের উদ্যোগে কুইজ প্রতিযোগিতা, ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ধান মহালে ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

প্রতিযোগিতায় রাইসা তাজরিয়ান প্রথম, মারিয়াম দ্বিতীয় এবং হোমায়রা তাসনিম হিমি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্লাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার এবং অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা সহকারী অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন সোহেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার শামীম খান (ইসলামী ব্যাংক) ও সহকারী শিক্ষক আ. হামিদসহ ক্লাবের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাই ক্লাবের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবনী চিন্তা, যুক্তিবাদী মনোভাব এবং গবেষণার আগ্রহ বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

তারা জানান, ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ, বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অতিথি ও আয়োজকদের অংশগ্রহণে একটি ফটোসেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

রায়হান উদ্দিন সরকার/অন্তরা/

বৃক্ষরোপণে নিষেধাজ্ঞা জাককানইবি প্রশাসনের

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
বৃক্ষরোপণে নিষেধাজ্ঞা জাককানইবি প্রশাসনের
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে। যত্রতত্র এভাবে গাছ রোপণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান এবং ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি লাইন (বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এখন থেকে ক্যাম্পাসের যেকোনো স্থানে গাছ রোপণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসের কোনো স্থানেই বৃক্ষরোপণ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের স্বার্থে বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করা উচিত, সেখানে গাছ লাগানোর আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার শর্ত অপ্রয়োজনীয়।

কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বৃক্ষরোপণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগের ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ কতটা যুক্তিসঙ্গত।

আবার কেউ ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন, "গাছ কাটা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে এবার গাছ লাগানোই কঠিন করে দিল প্রশাসন।"

তবে অন্য একটি অংশের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, পরিকল্পিত সবুজায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার বিধান ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের অজুহাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের গাছ অপসারণের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশের গাছ কাটার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে অপসারিত গাছের পরিবর্তে কোথায় এবং কীভাবে নতুন গাছ রোপণ করা হবে কিংবা ক্যাম্পাসের সবুজায়ন রক্ষায় কোনো সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কি না- সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ধারাবাহিকভাবে গাছ কমে যাওয়ায় ক্যাম্পাসের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ছায়াবৃক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বাড়ছে দুর্ভোগ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ক্লাবের সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান সাদী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যায়ের পরিবেশসচেতন শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বৃক্ষরোপণ করবে, এখন যেহেতু বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত মৌসুম। কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে নিয়মিত গাছ কাটা হচ্ছে বা গাছগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে লাগানো গাছগুলো কাটা পড়ে যাচ্ছে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত নকশাটিই এখনো জানি না। আমাদের ক্যাম্পাসে অনেক কনস্ট্রাকশন কাজ চলমান, কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বলতে পারবে না কোনটা আসলে কী। উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, এবং আমরা চাই না কোনো প্রাণের বিনাশ হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনক্যাম্পাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নিজেদের পছন্দের গাছ রোপণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার ওপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত মাস্টারপ্ল্যান আসলে কেমন প্ল্যান? আর যে প্ল্যান বছর বছর পাল্টে যায়, সেটি কীভাবে মাস্টার প্ল্যান হয়? প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন বছর আগে কদমতলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেট-সংলগ্ন সড়কের পশ্চিম পাশে প্রশাসনের উদ্যোগে গাছ লাগানো হয়েছিল। এখন আবার প্রশাসন সেই গাছগুলো তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাই কি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামীর পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের নমুনা? 

এখানেই শেষ নয়। এমন অসংখ্য উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তর ইতোপূর্বে সৃষ্টি করে রেখেছে। পরিকল্পনা দপ্তরের পরিকল্পনা কতখানি নির্ভরযোগ্য ও ভরসাযোগ্য তার কোনো সুরাহা নেই, স্থানীয় পরিবেশ ও বিদ্যমান প্রকৃতির সঙ্গে পরিকল্পনা কেন সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় না? প্রশ্ন থেকে যায়, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের নামে বৃক্ষনিধনের মহাযজ্ঞ হতে যাচ্ছে না কিনা, প্রকৃতির সুরক্ষা ও উন্নয়ন একটি আরেকটির পরিপূরক হলেও উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতিকে সাংঘর্ষিকভাবে দেখানোর কারণ কী?’

তাসনিম হক/হীরা/

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকার একটি বাসায় গ্যাসলাইনের কাজ করার সময় পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। 

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)। 

তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনজনই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

তাদের সঙ্গে থাকা সহকর্মী সজীব জানান, রাতে কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকার আরিফ মিয়ার বাসায় গ্যাসলাইনের কাজ করছিলেন তারা। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। এতে রাকিব, রাজন ও সুমন দগ্ধ হন। পরে অন্য সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহত রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অপর দুই শ্রমিক রাজন ও সুমনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তবে তাদের শরীরে ড্রেসিং চলমান থাকায় এ মুহূর্তে দগ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনজনের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 তিনি জানান, আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এএফ/