মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি। এই স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী লাখো শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিসৌধ ও স্মারক নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মারক, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি শিখা অনির্বাণের শিখা নিভিয়ে রাখার বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, বিশ্লেষণ ও দাবি প্রচারিত হচ্ছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সমীচীন। শিখা অনির্বাণ কোনো ধর্মীয় উপাসনা বা আচার-অনুষ্ঠানের প্রতীক নয়; বরং এটি একটি জাতীয় স্মারক, যা মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও জাতীয় স্মৃতিরক্ষার উদ্দেশ্যে অনুরূপ অনির্বাণ শিখা বা স্মারক সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্মারকের মূল উদ্দেশ্য ইতিহাস সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দেওয়া এবং জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমকে শক্তিশালী করা। তাই সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিখা অনির্বাণ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি, এটি বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জনসমক্ষে তুলে ধরা হলে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় স্মৃতিচিহ্নের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
খান ইয়ামিন
আহ্বায়ক আলেয়া সুলতানা স্মৃতি পাঠাগার
২ নং হাবেলী গোপালপুর সদর ফরিদপুর
[email protected]