ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় অনুষ্ঠিত হলো এডাস্টের বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতে সতর্ক হোন শিখা অনির্বাণ চালুর উদ্যোগ নিন বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক শাসনে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’ আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী, নিরপরাধকে হয়রানি না করার নির্দেশ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ- এ নিয়োগ, এসএসসি পাসেই নেবে ১,৪৬০ জন পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের, তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: স্পিকার রাজশাহীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যাংকিংয়ে কাজ করবে পূবালী ব্যাংক: ভূমিমন্ত্রী বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের বৃষ্টিভেজা আনন্দনগর ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা আর নতুন প্রজন্মের স্বপ্নকে ঘিরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামানজার সাঈদ-এর মাথায় ওঠে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুট। প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা আর দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব অর্জন করেছেন লাবিবা মানজুর।

শুধু সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার—এসব গুণাবলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন এবারের বিজয়ী। এর মধ্য দিয়ে তিনি আগামী আগস্টে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন। তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৫ আকলিমা আতিকা কনিকার উত্তরসূরি হিসেবে।

এবারের প্রতিযোগিতার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন আয়শা রহমান, যুক্তা ভৌমিক, লাবিবা মানজুর, সামানজার সাঈদ এবং স্বাগতা সাহা ঐশী। এই পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্য থেকেই বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা নির্বাচিত হন সামানজার সাঈদ।

প্রতিযোগীদের মূল্যায়নে দায়িত্ব পালন করেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ শিরিন আক্তার শীলা, মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ ইফা তাবাসসুম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯ রাফাহ নানজেবা তোরসা, দ্য ডেইলি স্টার–এর লাইফস্টাইল সম্পাদক মেহরিন আফরোজ চৌধুরী এবং হাল ফ্যাশন–এর কনসালট্যান্ট শেখ সাইফুর রহমান। বিচারকরা প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, মঞ্চে উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজন শুধু একজন সুন্দরী নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সূচনা। ২০২৫ সালে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিযোগিতাটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো এমন তরুণীদের খুঁজে বের করা, যারা সৌন্দর্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক এবং আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ বলেন, “এটি শুধু নতুন একজন বিজয়ীর অভিষেক নয়; এটি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা। আমাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব এবং সমাজসেবা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীরা পরিবর্তনের দূত, সমাজের প্রতিনিধি এবং আগামী প্রজন্মের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। একজন বিজয়ী যেন শুধু একটি মুকুট নয়, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তি নিয়েও ঘরে ফেরেন।”

নতুন মুকুটধারী সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সামানজার সাঈদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা, সৌন্দর্যের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলে আমি আশাবাদী।

মুকুট জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করবেন সামানজার সাঈদ। আগামী কয়েক সপ্তাহ তিনি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’-এর আওতায় মানবিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করবেন। এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা।

বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। কারণ ২০২৬ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা উদযাপন করছে তাদের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগামী ৯ আগস্ট ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হবে প্রায় এক মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা সাংস্কৃতিক বিনিময়, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সবশেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবারের বিজয়ী।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ আয়োজনের সহযোগী ছিল আমিশি (জুয়েলারি পার্টনার), রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন (হসপিটালিটি পার্টনার), পারসোনা (অফিশিয়াল মেকওভার পার্টনার), আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (গ্রুমিং পার্টনার), ভি ফ্রেম (ফটোগ্রাফি পার্টনার) এবং সিনে স্ক্রিপচার (ভিজ্যুয়াল পার্টনার)।

আয়োজকদের আশা, নতুন এই দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির মাধ্যমে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ শুধু একটি প্রতিযোগিতা হিসেবেই নয়, বরং তরুণ নারীদের নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ 

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন-এর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় পরিচালক আজরা মাহমুদের নেতৃত্বে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) এই প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু সুন্দরী নির্বাচন নয়; বরং মেধা, মানবিকতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণে উজ্জ্বল তরুণ বাংলাদেশি নারীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা। পেশাগত বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং একই সঙ্গে দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন।

তারেক/

‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা

ঋতু বৈচিত্র্যতায় বর্ষার অবস্থান ভিন্নতর। তাই ‘ইয়েস ফ্যাশন’ বর্ষা ঋতু উপযোগী, বেশ রুচিশীল ও উৎসব নির্ভর পোশাক তৈরি করেছে। ‘ইয়েস ফ্যাশন’ নিজের সৃজনশীলতায় তৈরি করছে একদম আলাদা স্টাইলের স্টাইলিস্ট সব পাঞ্জাবি। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড ‘ইয়েস ফ্যাশন’ এ পাবেন আধুনিক ফ্যাশনেবল ক্যাজুয়াল বা ফরমাল স্লিমফিট পাঞ্জাবি। 

‘ইয়েস ফ্যাশন’ এন্ড লাইফ স্ট্যাইল এর পাঞ্জাবিতে উৎসবের ছোঁয়া দিতে এবং আরামদায়ক পাঞ্জাবি তৈরির জন্য বরাবরই ভারত-চায়নার বিভিন্ন মিল কারখানা ঘুরে ভালো মানের উইন কটন, ডোবি কটন, ফেন্সি কটন কাপড় সংগ্রহ করে থাকে। 

সেই কাপড় দিয়ে সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী দ্বারা নিজস্ব কারখানায়, নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি ‘ইয়েস ফ্যাশন’র সমস্ত পাঞ্জাবি। এই আবহাওয়ায় নিজেকে মানানসই করে তুলে ধরতে বেছে নিন পছন্দের পাঞ্জাবিটি। 

/এমটি

মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে

হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল মেহজাবীন চৌধুরীর হাত ধরেই ২০২৪ সালে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ওসান লাইফস্টাইল’র যাত্রা শুরু হয়েছিলো রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে। যাতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন সানজিদা আলম। ‘ওসান লাইফস্টাইল’র ক্রেতা চাহিদা বাড়ার কারণে এবার নতুন আউলেট-এর যাত্রা শুরু হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১০-এর আগোরা বিল্ডিংয়ে।

যথারীতি দ্বিতীয় শো-রুমটিও উদ্বোধন করেন মেহজাবীন চৌধুরী এবং সঙ্গে ছিলেন সানজিদা আলম। ওসান লাইফস্টাইল এমন একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেখানে এখানে ছেলে ও মেয়েদের যাবতীয় ট্রেন্ডি পোশাক, ডিজাইনারের করো পোশাকও পাওয়া যায়। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ওসান লাইফস্টাইল’র দ্বিতীয় শো-রুমটি উদ্বোধন শেষে ‘ওসান লাইফস্টাইল’ প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘শুরুতেই ধন্যবাদ জানাই সানজিদা আপুকে আমাকে ওসানের সাথে যুক্ত রাখার জন্য। সানজিদা আপু আসলে আমাকে অনেক ভালোবাসেন। মিরপুর বাসীদের জন্য সুখবর যে ওসান এখন মিরপুরে।

আর সত্যি বলতে কী ওসান খুউব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের কাছে পছন্দের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একেকজনের পছন্দ একেকরকম। কারো ওয়েষ্টার্ন গাউন পছন্দ, কারো বা শাড়ি আবার কারো সালোয়ার কামিজ পছন্দ। তো ওসানে আসলে সবকিছুই পাওয়া যাবে। এবার দেখলাম কিছু এক্সেসরিজও যুক্ত করা হয়েছে।

এখানে আসলে মেয়েদের ব্যবহারের জন্য সব ধরনের আইটেমই পাওয়া যায়। এই শো-রুমে ছেলেরদেরও আইটেম রাখা হয়েছে। যে কেউ এই ওসানে আসলে মা কিংবা বোন কিংবা স্ত্রী’র জন্য কিছু না কিছু ক্রয় করে নিতে পারবেন। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে ওসানে আরো অনেক কিছুই যুক্ত হবে।’ 

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সানজিদা আলম বলেন, ‘এটা বলতেই হয় যে ওসান মানেই মেহজাবীন আপু। তিনি ওসানের একটা পার্ট। আর আমি চাই ওসান বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার একটা ব্র্যা- হয়ে উঠুক। আমার স্বপ্ন, একদিন দেশের প্রতিটা জায়গায় ওসান থাকবে যেখানে আমাদের ওসান কুইনস’রা ভালোবাসা আর বিশ্বাস নিয়ে আসবেন। দেশীয় ব্র্যান্ড হয়েও আমরা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাবো ওসানকে ইনশাআল্লাহ। আর মিরপুরে আমাদের স্বপ্নের আরেকটা অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হলো।’ 

/এমটি 

 

ঘরেই বানান প্রাকৃতিক সাবান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ঘরেই বানান প্রাকৃতিক সাবান

সুন্দর ত্বক ও পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবান একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ। তবে বাজারে পাওয়া অনেক সাবানেই থাকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সব সময় উপযোগী নাও হতে পারে। তাই অল্প কিছু উপকরণ ও সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই কীভাবে সাবান তৈরি করা যায় সে বিষয়ে জানাচ্ছেন আফরোজা খানম মুক্তা

রোজমেরি সাবান
উপকরণ
স্বচ্ছ সাবান বেস ১০০ গ্রাম, রোজমেরি তেল ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, পছন্দমতো রং (গোলাপি), প্রয়োজনমতো রাবিং অ্যালকোহল, পছন্দমতো সিলিকন ছাঁচ। স্প্রে বোতল।

প্রণালি
একটা হাঁড়ির অর্ধেক পানি ভরে পানি ফুটিয়ে নিন। আরেকটা ছোট সসপ্যানে সাবানের বেস ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন। পরে ফুটন্ত পানির ওপরে সসপ্যানের সাবানগুলো ৩০ সেকেন্ড গলিয়ে নিন। এবার গোলানো বেসের সঙ্গে রোজমেরি ওয়েল এবং গোলাপি রং ভালো করে মেশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সিলিকন মোল্ডে ঢালুন।

সাবানের ওপর বুদবুদ থাকলে স্প্রে বোতল দিয়ে সামান্য অ্যালকোহল ছিটিয়ে দিন। বুদবুদ দূর হবে। সাবান শক্ত হলে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন। সাবান শক্ত হলে মোল্ড থেকে বের করে নিন। তারপর সাবান প্যাকেট করে নিন। রোজমেরি সাবান ত্বককে সতেজ রাখে এবং তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। 

হলুদের সাবান
উপকরণ
সাবান বেস (গ্লিসারিন বা শিয়া বাটার বেস) ১০০ গ্রাম, হলুদের গুঁড়া আধা চা-চামচ, হলুদ রঙের মাইকা পাউডার আধা চা-চামচ, পছন্দমতো এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি অয়েল) ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, প্রয়োজনমতো রাবিং অ্যালকোহল, পছন্দমতো সিলিকন সাবানের ছাঁচ, স্প্রে বোতল, ডাবল বয়লারের জন্য দুটি পাত্র।

প্রণালি
সোপ বেজগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। পানির পাত্রের ওপর অন্য একটি পাত্র বসিয়ে (ডাবল বয়লার) বেজটি পুরোপুরি গলিয়ে নিন। গলানো তরল সাবানের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে। এবার আপনার পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিন। আর হলুদ রঙের মাইকা পাউডার দিন আধা চা-চামচ। তরল সাবানটি সাবানের সিলিকন মোল্ডে ঢেলে দিন। কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সাবান শক্ত হয়ে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে নিন।

অ্যালোভেরা সাবান
উপকরণ
গ্লিসারিন সাবান বেস ১০০ গ্রাম, তাজা অ্যালোভেরা জেল ১ থেকে ২ টেবিল-চামচ, পছন্দমতো এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি) ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, ভিটামিন ই ক্যাপসুল ১ থেকে ২টি, সবুজ খাদ্য রং সামান্য (ঐচ্ছিক), গোট মিল্ক সোপ বেস প্রয়োজনমতো (ছোট ফুল তৈরির জন্য), সিলিকন সাবানের ছাঁচ।

প্রণালি
প্রথমে গোট মিল্ক সোপ বেস গলিয়ে ছোট ফুলের আকৃতির ছাঁচে ঢেলে নিন। ফুলের আকৃতির সাবানগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে আলাদা করে রেখে দিন।

এরপর গ্লিসারিন সাবান বেস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ গলিয়ে নিন। গলে যাওয়া মিশ্রণটি কিছুটা ঠাণ্ডা হলে এতে অ্যালোভেরা জেল, এসেনশিয়াল অয়েল এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতরের তরল যোগ করুন। চাইলে আকর্ষণীয় রঙের জন্য সামান্য সবুজ ফুড কালারও মেশাতে পারেন।

সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে সিলিকন ছাঁচের নিচে আগে থেকে তৈরি করা ফুলের আকৃতির সাবানগুলো সাজিয়ে রাখুন। এরপর প্রস্তুত তরল সাবানের মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ছাঁচে ঢেলে দিন।

ছাঁচটি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে অথবা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সাবান সম্পূর্ণ শক্ত হয়ে গেলে সাবধানে ছাঁচ থেকে বের করে নিন। প্রয়োজনে প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ করতে পারেন।

/এমটি 

নীলাম্বরী সাজে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
নীলাম্বরী সাজে

বর্ষা এলে প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে ওঠে। এই ঋতুর আবহের সঙ্গে নীল রঙের রয়েছে এক গভীর সম্পর্ক। আকাশের বিস্তৃতি, বৃষ্টির জল আর প্রকৃতির প্রশান্ত সৌন্দর্য যেন নীলের নানা শেডে ধরা দেয়। তাই বর্ষা মৌসুমে ফ্যাশন সচেতনদের পোশাক নির্বাচনে নীল রং বিশেষ গুরুত্ব পায়। কামিজ, শাড়ি কিংবা বিভিন্ন ধরনের নকশাদার পোশাকে নীলের উপস্থিতি এই সময় হয়ে ওঠে আরও বেশি আকর্ষণীয়। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন

কামিজে নীলের স্নিগ্ধতা
প্রাত্যহিক পোশাক হিসেবে কামিজের জনপ্রিয়তা সব সময়ই বেশি। বর্ষাকালে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ লুকের জন্য বিভিন্ন শেডের নীল কামিজ হতে পারে চমৎকার পছন্দ। স্কাই ব্লু, পাউডার ব্লু, টারকোয়েজ, রয়্যাল ব্লু কিংবা নেভি ব্লু প্রতিটি শেডই ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

এই মৌসুমে কটন, লিনেন কিংবা সফট ভিসকস কাপড়ের কামিজ বেশি আরামদায়ক। নীল রঙের কামিজে সাদা, রুপালি বা হালকা ধূসর সূচিকর্ম বর্ষার আবহকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঙ্গে সাদা বা অফ-হোয়াইট পালাজ্জো, স্ট্রেইট প্যান্ট কিংবা সিগারেট প্যান্ট যোগ করলে লুক হয়ে ওঠে পরিপাটি ও আধুনিক। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দৈনন্দিন আড্ডা সব ক্ষেত্রেই নীল কামিজ একটি সহজ কিন্তু রুচিশীল ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করতে পারে।

শাড়িতে ধরা পড়ে বর্ষার স্নিগ্ধ সৌন্দর্য
বাংলাদেশের নারীদের পোশাকের ভান্ডারে শাড়ির স্থান সব সময়ই বিশেষ। আর বর্ষাকালে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকটি যেন পায় নতুন মাত্রা। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি আর নীলাভ আবহের সঙ্গে নীল রঙের শাড়ির মেলবন্ধন তৈরি করে এক অনন্য সৌন্দর্য।
এই মৌসুমে জামদানি, তাঁত, কটন কিংবা মসলিনের নীল শাড়ি নারীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।

গাঢ় নীল, নেভি ব্লু, আকাশি কিংবা ফিরোজা প্রতিটি শেডই বর্ষার আবহে আলাদা আবেদন তৈরি করে। বিশেষ করে সাদা, রুপালি বা হালকা রঙের নকশায় সাজানো নীল শাড়ি বৃষ্টিভেজা দিনের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

বর্তমান ফ্যাশন ধারায় ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, টাই-ডাই এবং হ্যান্ডপেইন্টের নকশায় তৈরি নীল শাড়ির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। এসব শাড়িতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি হয় আকর্ষণীয় এক স্টাইল স্টেটমেন্ট।

ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন ড্রেসে নীলের আধিপত্য
ফ্যাশনের পরিবর্তিত ধারায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন পোশাকের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আর বর্ষাকালের ফ্যাশনে নীল রং যেন এসব পোশাকে যোগ করে আলাদা মাত্রা। আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং ঋতুর আবহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় নীল রঙের ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন ড্রেস এখন অনেকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

বর্ষার দিনে হালকা ও স্বস্তিদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি থাকে। সে কারণে নীল রঙের ম্যাক্সি ড্রেস, মিডি ড্রেস, কাফতান, টিউনিক কিংবা কো-অর্ড সেটগুলো হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এসব পোশাক যেমন সহজে পরা যায়, তেমনি বৃষ্টিভেজা আবহে এনে দেয় স্নিগ্ধ ও ফ্যাশনেবল লুক। বিশেষ করে আকাশি, পাউডার ব্লু , টারকোয়েজ কিংবা রয়্যাল ব্লুর মতো শেডগুলো বর্ষার মেঘলা দিনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়।

ফিউশন ফ্যাশনের ক্ষেত্রে নীল রঙের কুর্তির সঙ্গে পালাজো, ক্রপ টপের সঙ্গে স্কার্ট কিংবা লং জ্যাকেটের সঙ্গে ফ্লোই ড্রেসের সমন্বয় বেশ জনপ্রিয়। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি এসব পোশাক তরুণীদের মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ছোটখাটো সামাজিক আয়োজনে ফিউশন পোশাক সহজেই তৈরি করে স্মার্ট ও রুচিশীল উপস্থিতি।

ডেনিম ব্লু শেডের পোশাকও বর্ষাকালের একটি উল্লেখযোগ্য ট্রেন্ড। ডেনিম ড্রেস, শার্ট ড্রেস কিংবা ডেনিম জ্যাকেটের সঙ্গে নীল টপ বা কুর্তির সমন্বয় তৈরি করতে পারে একটি ক্যাজুয়াল অথচ স্টাইলিশ লুক। যারা আরাম ও ফ্যাশনকে সমান গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।

অনুষঙ্গ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নীল ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন পোশাক বেশ বহুমুখী। সাদা স্নিকার্স, বেইজ স্যান্ডেল, মিনিমাল গহনা কিংবা ছোট ক্রসবডি ব্যাগ পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বর্ষার দিনে স্বাভাবিক মেকআপ, হালকা কাজল এবং খোলা চুল বা সহজ হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে নীল পোশাকের সমন্বয় এনে দেয় সতেজ ও আধুনিক উপস্থিতি।

অনুষঙ্গের সঠিক সমন্বয়
নীল রঙের পোশাকের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অনুষঙ্গ নির্বাচনে থাকতে হবে রুচিশীলতা ও ভারসাম্য। শাড়ি, কামিজ কিংবা ওয়েস্টার্ন ড্রেস যে ধরনের পোশাকই হোক না কেন, এর সঙ্গে মানানসই ব্যাগ, জুতা ও গহনা পুরো লুককে এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

নীল পোশাকের সঙ্গে সাদা, অফ-হোয়াইট, রুপালি, বেইজ কিংবা ধূসর রঙের অনুষঙ্গ বেশ মানানসই। ব্যাগ ও জুতার ক্ষেত্রে এসব রঙের ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। গহনায় অক্সিডাইজড সিলভার, মুক্তা বা হালকা নকশার মিনিমাল অলংকার বেছে নিলে লুক হয়ে ওঠে মার্জিত ও পরিশীলিত।

বর্ষার দিনগুলোর কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক ও ব্যবহারিক জুতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট স্যান্ডেল, ফ্ল্যাটস কিংবা ব্লক হিল হতে পারে ভালো পছন্দ। চুলের সাজে খোঁপা, ঢিলেঢালা বেণি বা খোলা চুলের সঙ্গে কদম ফুলের স্পর্শ কিংবা ছোট্ট ফুলেল হেয়ার অ্যাকসেসরি যোগ করলে পুরো সাজে ফুটে উঠবে বর্ষার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা।

বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস

বর্ষাকালে প্রকৃতি যেমন সতেজ ও মনোরম হয়ে ওঠে, তেমনি এই সময় দৈনন্দিন জীবনেও আসে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ–হঠাৎ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, আর যাতায়াতে অনিশ্চয়তা। তাই বর্ষা মৌসুমকে আরামদায়ক ও ঝামেলাহীন রাখতে সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য প্রস্তুতিই অনেক বড় অস্বস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে। লিখেছেন মুশফিরাত 

ছাতা: বর্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী
বর্ষাকালে সবচেয়ে প্রথম ও অপরিহার্য জিনিস হলো একটি ভালো মানের ছাতা। ছোট ও ভাঁজ করা যায় এমন ছাতা বহন করা সহজ এবং ব্যাগে বেশি জায়গাও নেয় না। হালকা বাতাসে উল্টে না যায় এমন শক্ত ফ্রেমের ছাতা বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে বের হওয়ার সময় আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলেও ছাতা সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ বর্ষায় বৃষ্টি কখন যে শুরু হবে তা বোঝা যায় না।

রেইনকোট বা পঞ্চো
ছাতার পাশাপাশি রেইনকোট বা পঞ্চো খুবই কার্যকর একটি জিনিস। বিশেষ করে যারা সাইকেল বা মোটরসাইকেলে চলাচল করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রেইনকোট শরীরকে পুরোপুরি ঢেকে রাখে এবং বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকতে দেয় না। হালকা ও ভাঁজযোগ্য রেইনকোট ব্যাগে রাখা সহজ হয়, তাই অফিস বা কলেজে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি আদর্শ।

ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ কভার
ল্যাপটপ, বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যাগের জন্য ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় ছোট বৃষ্টিতেও ব্যাগ ভিজে ভেতরের জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি মানসম্মত ব্যাগ কভার এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত পোশাক ও টিস্যু
বর্ষাকালে হঠাৎ ভিজে গেলে বা জামা-কাপড় নষ্ট হলে বদলানোর জন্য একটি অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে রাখা ভালো। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী। পাশাপাশি টিস্যু বা ছোট তোয়ালে রাখা যেতে পারে, যা ভেজা হাত, মুখ বা জুতা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

স্লিপার বা ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট জুতা
বর্ষাকালে রাস্তা প্রায়ই ভেজা, কাদা-মাখা ও পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কাপড় বা চামড়ার জুতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পায়ে অস্বস্তি তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা পরে থাকলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, দুর্গন্ধ এবং ত্বকে র‍্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট জুতা, রাবারের স্যান্ডেল বা দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন স্লিপার ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক।
এ ধরনের জুতা শুধু পানি থেকে পা রক্ষা করে না, বরং হাঁটাকে আরও সহজ ও স্থিতিশীল করে তোলে। বিশেষ করে শহরের জলাবদ্ধ রাস্তা বা ভাঙাচোরা ফুটপাতে চলাচলের সময় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট জুতার সোল অ্যান্টি-স্লিপ ডিজাইনের হয়, যা পিচ্ছিল রাস্তায় পিছলে পড়ার ঝুঁকি কমায়। 

হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ভেজা টিস্যু
বর্ষাকালে শুধু বৃষ্টি নয়, এর সঙ্গে আসে কাদা, নোংরা পানি ও নানা ধরনের জীবাণু। এসবের কারণে হাত-পা সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে বাইরে চলাফেরা করার সময় বাসের হাতল, দরজার নব বা জনসমাগমের বিভিন্ন জায়গা থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার এই মৌসুমে একটি অত্যাবশ্যকীয় সঙ্গী হয়ে ওঠে।

বাইরে কোথাও খাওয়ার আগে, যাতায়াত শেষে বা জনসমাগম থেকে ফিরে আসার পর স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এটি সহজে ব্যাগে বহন করা যায় এবং যেকোনো সময় ব্যবহার করা সম্ভব, যা বর্ষাকালের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এইড
বর্ষাকালে সর্দি, কাশি, জ্বর বা অ্যালার্জির সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই সাধারণ ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। ছোট একটি ফার্স্ট এইড কিট থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মোবাইল পাওয়ার ব্যাংক ও প্লাস্টিক ব্যাগ
বর্ষায় যাতায়াত দীর্ঘ হলে মোবাইল চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই পাওয়ার ব্যাংক রাখা খুবই কার্যকর। পাশাপাশি ভেজা জিনিস বা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া সামগ্রী রাখার জন্য কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগও কাজে লাগে।

/এমটি