জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা আর নতুন প্রজন্মের স্বপ্নকে ঘিরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামানজার সাঈদ-এর মাথায় ওঠে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুট। প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা আর দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব অর্জন করেছেন লাবিবা মানজুর।
শুধু সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার—এসব গুণাবলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন এবারের বিজয়ী। এর মধ্য দিয়ে তিনি আগামী আগস্টে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন। তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৫ আকলিমা আতিকা কনিকার উত্তরসূরি হিসেবে।
এবারের প্রতিযোগিতার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন আয়শা রহমান, যুক্তা ভৌমিক, লাবিবা মানজুর, সামানজার সাঈদ এবং স্বাগতা সাহা ঐশী। এই পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্য থেকেই বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা নির্বাচিত হন সামানজার সাঈদ।
প্রতিযোগীদের মূল্যায়নে দায়িত্ব পালন করেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ শিরিন আক্তার শীলা, মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ ইফা তাবাসসুম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯ রাফাহ নানজেবা তোরসা, দ্য ডেইলি স্টার–এর লাইফস্টাইল সম্পাদক মেহরিন আফরোজ চৌধুরী এবং হাল ফ্যাশন–এর কনসালট্যান্ট শেখ সাইফুর রহমান। বিচারকরা প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, মঞ্চে উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করেন।
আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজন শুধু একজন সুন্দরী নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সূচনা। ২০২৫ সালে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিযোগিতাটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো এমন তরুণীদের খুঁজে বের করা, যারা সৌন্দর্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন।
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক এবং আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ বলেন, “এটি শুধু নতুন একজন বিজয়ীর অভিষেক নয়; এটি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা। আমাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব এবং সমাজসেবা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীরা পরিবর্তনের দূত, সমাজের প্রতিনিধি এবং আগামী প্রজন্মের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। একজন বিজয়ী যেন শুধু একটি মুকুট নয়, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তি নিয়েও ঘরে ফেরেন।”
নতুন মুকুটধারী সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সামানজার সাঈদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা, সৌন্দর্যের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলে আমি আশাবাদী।
মুকুট জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করবেন সামানজার সাঈদ। আগামী কয়েক সপ্তাহ তিনি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’-এর আওতায় মানবিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করবেন। এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা।
বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। কারণ ২০২৬ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা উদযাপন করছে তাদের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগামী ৯ আগস্ট ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হবে প্রায় এক মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা সাংস্কৃতিক বিনিময়, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সবশেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবারের বিজয়ী।
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ আয়োজনের সহযোগী ছিল আমিশি (জুয়েলারি পার্টনার), রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন (হসপিটালিটি পার্টনার), পারসোনা (অফিশিয়াল মেকওভার পার্টনার), আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (গ্রুমিং পার্টনার), ভি ফ্রেম (ফটোগ্রাফি পার্টনার) এবং সিনে স্ক্রিপচার (ভিজ্যুয়াল পার্টনার)।
আয়োজকদের আশা, নতুন এই দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির মাধ্যমে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ শুধু একটি প্রতিযোগিতা হিসেবেই নয়, বরং তরুণ নারীদের নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন-এর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় পরিচালক আজরা মাহমুদের নেতৃত্বে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) এই প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।
নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু সুন্দরী নির্বাচন নয়; বরং মেধা, মানবিকতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণে উজ্জ্বল তরুণ বাংলাদেশি নারীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা। পেশাগত বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং একই সঙ্গে দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন।
তারেক/