সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাস্টমারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার অনেক সুবিধা রয়েছে। বরং এই যোগাযোগ এড়িয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যবসা বা ব্র্যান্ডই। ধরুন, কোনো একজন ক্রেতা ফেসবুকে আপনার পণ্য বা সেবার সমালোচনা করলেন। আপনি যদি তার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন, তাহলে সেই অসন্তুষ্ট ক্রেতাকেও একসময় বিশ্বস্ত কাস্টমারে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু অভিযোগটি উপেক্ষা করলে নেতিবাচক মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা আপনার ব্র্যান্ডের সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। এখনকার কাস্টমাররা প্রত্যাশা করেন, তারা ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রশ্ন, মতামত বা অভিযোগ জানালে প্রতিষ্ঠান দ্রুত তার জবাব দেবে। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাস্টমারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারে।
আরো পড়ুন: জনবল নেবে সোনারগাঁও হোটেল, দ্রুত আবেদন করুন
এর ফলে শুধু বিক্রিই বাড়ে না, ব্র্যান্ডের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী হয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাস্টমারদের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযোগ গড়ে তুলতে চাইলে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করুন।
সোশ্যাল মিডিয়াতে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কাস্টমার বলেছেন, তারা ইতোমধ্যে কাস্টমার সার্ভিসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা কাস্টমার সার্ভিসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকেই পছন্দ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরতা
আরেকটি গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ কাস্টমার গতানুগতিক ফোনকলের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগাযোগ রক্ষা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ, এতে সময় এবং টাকার সাশ্রয় হয় এবং কাস্টমাররা প্রায় সব সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় কানেক্টেড থাকেন। এবং মাত্র ৫৫ শতাংশ কাস্টমার এক দিনের মধ্যে তাদের প্রশ্নের উত্তর আশা করে থাকেন, যা একটি কোম্পানির জন্য ব্যয়বহুল নয়।
অন্যের কাছে আপনার ব্র্যান্ডকে রেকমেন্ড
যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কোম্পানির কাছ থেকে ভালো কাস্টমার সার্ভিস পেয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি পরবর্তী সময়ে সেই ব্র্যান্ডটিকে অন্যদের কাছে রেকমেন্ড করে থাকে। এবং যেসব কাস্টমার সোশ্যাল মিডিয়ায় কাস্টমার সার্ভিস সুবিধা নেননি তাদের তুলনায় যারা সুবিধাটি নিয়েছেন–তারা ওই ব্র্যান্ড থেকে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি কিনে থাকে।
সাড়া না দিলে ক্ষতি আপনারই
একটি খারাপ কাস্টমার সার্ভিস অভিজ্ঞতা আপনার কোম্পানির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কাস্টমার সার্ভিস খারাপ হলে অধিকাংশ ক্রেতাই আপনার কোম্পানি থেকে কিছু কিনবে না।
একক পর্যায়ে যোগাযোগ
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনি সবচেয়ে কম খরচে আপনার ভোক্তা বা কাঙ্ক্ষিত ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। পণ্য বা সেবা অথবা বিক্রয়-পরবর্তী সেবা অথবা নতুন বিজ্ঞাপন বা ক্যাম্পেইন, যেকোনো ব্যাপারে আপনি তাদের পছন্দ জানতে পারেন। এটা আপনার ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করবে।
তারেক/