ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১ নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বৃক্ষরোপণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশ নেই মফস্বলে পারে, রাজধানীতে পারে না কেন? পুঁজিবাজারে স্থিতিশীল গতি প্রয়োজন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বরখাস্ত সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও বন্যাপ্লাবিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন বিয়ের আনন্দ ম্লান, ডোমারে সড়কে ঝরল মা-দুই সন্তানসহ ৪ প্রাণ দুর্গতদের ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র টেকনাফ সীমান্তে বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ প্রাথমিকে বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক নরওয়ে ‘ডাকাতির’ শিকার: আলফ-ইঙ্গে হালান্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০ সিআইপিএস এশিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের চার পুরস্কার বাংলালিংকের

যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা
সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সদকা, আল্লাহু আকবর বলা সদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়। সুতরাং সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

বিয়েতে কুফুর গুরুত্ব

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বিয়েতে কুফুর গুরুত্ব
সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সমাজ, সভ্যতা কিংবা জনপদ টিকে থাকার মূল ভিত্তি হলো পরিবার। আর পরিবার গঠিত হয় বিবাহের মাধ্যমে। বিবাহ আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বর্তমান সমাজে দাম্পত্য জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, কিছু পরিবার শান্তি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ; আবার কিছু পরিবার অভিযোগ, মতবিরোধ ও অশান্তিতে জর্জরিত। এর অন্যতম কারণ হলো বিবাহের আগে কুফু বা সামঞ্জস্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করা।

কুফু বজায় রেখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে দাম্পত্য জীবন সহজ, সুন্দর ও টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কুফু শব্দের অর্থ সামঞ্জস্যতা, সমতা বা পারস্পরিক উপযুক্ততা। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর ও কনের মধ্যে ধর্মীয় জীবন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকাকে কুফু বলা হয়। তবে ইসলামে দ্বীনদারিতা ও উত্তম চরিত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বংশধরদের জন্য উত্তম নারী নির্বাচন করো, সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিবাহ করো এবং সমপদস্থদের কাছে বিবাহ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, ১৯৬৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যখন এমন কোনো ব্যক্তি তোমাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারিতা ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয়, তখন তার সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করো। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি, ১০৮৪)

বিবাহের ক্ষেত্রে এক পক্ষ যদি দ্বীনদার হয়, তবে সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের ছাপ দেখতে চাইবে। অন্যদিকে অপর পক্ষ যদি ধর্মীয় অনুশীলন থেকে দূরে থাকে, তবে সে ইসলামি সীমারেখা মেনে চলতে অনাগ্রহী হতে পারে। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, মানসিক দূরত্ব ও অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধর্মীয় জীবনে সামঞ্জস্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর ও কনের ধার্মিকতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি বংশীয় ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব সামঞ্জস্য থাকা ভালো। কারণ, এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য থাকলে কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি ও মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, যা দাম্পত্য জীবনকে তিক্ত করে তোলে। সমমর্যাদার পরিবারে বিবাহ হলে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয় এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে।

এছাড়া ইমাম শাফেয়ি (রহ.) আর্থিক সামঞ্জস্যতার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন। আর্থিক অবস্থার কাছাকাছি মিল থাকলে জীবনযাত্রার ধরন, ব্যয়াভ্যাস ও প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে, যা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। যখন অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে, তখন সংসারে স্বচ্ছতা, স্বস্তি ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা সহজ হয়।

লেখক: শিক্ষার্থী

আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাহাবিদের গল্প-০৮ এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা
মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস ‘রুমা’ নামের একটি কূপ।

হিজরতের পর মদিনা। নতুন শহরে মুহাজিরদের সবচেয়ে বড় কষ্টসুপেয় পানি নেই। মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস ‘রুমা’ নামের একটি কূপ, যার মালিক পানি বিক্রি করত চড়া দামে। দরিদ্র মুসলমানদের জন্য প্রতিটি ঢোক পানি যেন বিলাসিতা।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, ‘কে রুমার কূপটি কিনে মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে, জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়ের প্রতিশ্রুতিতে?’

এগিয়ে এলেন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু। নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ব্যয় করে কূপটি কিনলেন এবং ধনী-গরিব-মুসাফির সবার জন্য বিনামূল্যে খুলে দিলেন। বহু বছর পর, খলিফা থাকা অবস্থায় বিদ্রোহীরা যখন তার ঘর অবরোধ করল, তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আল্লাহর কসম দিয়ে বলছিতোমরা কি জানো না, আমি আমার মূল সম্পদ দিয়ে রুমার কূপ কিনে মুসলমানদের জন্য দিয়েছিলাম, আর আজ তোমরা আমাকে সেই কূপের পানি পান করতেই বাধা দিচ্ছ?’ উপস্থিত সবাই স্বীকার করেছিল, ‘হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!’ (জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৭০৩)

ইসলামের ইতিহাসবিদরা এই কূপকে বলেন প্রথম বড় ‘ওয়াকফ’গুলোর একটিএমন দান, যা দাতার মৃত্যুর পরও প্রজন্মের পর প্রজন্ম সওয়াবের ঝর্ণা হয়ে বইতে থাকে। ভেবে দেখুন, আজও মদিনায় ‘বিরে উসমান’ নামে কূপটি আছে; ১৪০০ বছর ধরে একটি দানের সওয়াব জমা হচ্ছে এক ব্যক্তির আমলনামায়!

আমরা দান করি, কিন্তু প্রায়ই তা মুহূর্তের দান; একবেলার খাবার, এক ঈদের কাপড়। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শেখালেন দূরদর্শী দান; এমন কিছুতে বিনিয়োগ করুন. যা বছরের পর বছর মানুষের কাজে লাগবেনলকূপ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, গাছ। মৃত্যু আপনার আমল থামিয়ে দেবে, কিন্তু সদকায়ে জারিয়া থামবে না।

হে আল্লাহ! আমাদের এমন দানের তৌফিক দিন, যার সওয়াব কবরে শুয়েও আমাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড
ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতির আত্মিক ও জাগতিক কল্যাণের জন্য অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হলো পবিত্র কোরআন। আধুনিক চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞান আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ঘোষিত কোরআনি নির্দেশনার যে অনন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে, তা এক বিস্ময়কর সত্য। কোরআন কেবল ধর্মীয় বিধিনিষেধের গ্রন্থ নয়, বরং এতে সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনধারার একটি নিখুঁত ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল হালাল বা বৈধ হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়নি, বরং এর সঙ্গে ‘তৈয়্যিব’ বা পবিত্র, বিশুদ্ধ ও গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট হওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও তৈয়্যিব (পবিত্র/উৎকৃষ্ট), তা থেকে তোমরা আহার করো। (সুরা বাকারাহ, ১৬৮)

পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় তৈয়্যিব হলো এমন খাদ্য যা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত এবং শরীরের জন্য সম্পূর্ণ উপকারী। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই কোরআনের মূল বার্তা। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থূলতা এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগব্যাধি (যেমন–ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ)।

কোরআন এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সমাধান দিয়েছেন, তোমরা খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ, ৩১) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা পরিমিত আহার কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে, যা এই আয়াতে প্রতিফলিত। পবিত্র কোরআনে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট খাদ্যের উল্লেখ রয়েছে, যা আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীদের কাছে সুপারফুড হিসেবে সমাদৃত

মধু: সুরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে মধুকে ‘মানবজাতির রোগ নিরাময়কারী’ বলা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞান বলে, মধুতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

খেজুর: সুরা মারিয়ামে প্রসববেদনার সময় হজরত মারিয়াম (আ.)-কে খেজুর খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বলছে, খেজুরে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার জরায়ুর পেশিকে সচল করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

জলপাই ও ডালিম: কোরআনে জলপাই (অলিভ) এবং ডালিমের ঔষধি গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। আধুনিক কার্ডিওলজি নিশ্চিত করেছে যে, অলিভ অয়েলে থাকা ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

আল কোরআন মানব শরীরকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করে। এর সঠিক সুরক্ষায় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশেষে বলা যায়, পুষ্টিবিজ্ঞান আজ গবেষণার মাধ্যমে সুস্থতার যেসব সূত্র আবিষ্কার করছে, আল কোরআন ১৪০০ বছর আগেই মানবজাতিকে সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসের পথ দেখিয়ে রেখেছে।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রাজবাড়ী

১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১২ জুলাই)

.৫৩ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে নারী হেনস্তা, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনাগুলো সামনে এলে অনেকের মধ্যেই ‘পর্দা’ নিয়ে প্রচণ্ড আলাপন দেখা যায়। বলা হয়ে থাকে, নারীরা যথাযথ পর্দা করলে এরকম বিপদে পড়তে হয় না। পর্দার বিধান শুধু নারীদের জন্যই নাজিল হয়েছে, ব্যাপারটা আসলে এমন নয়। বরং পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অবশ্য পালনীয়।

তবে নারী-পুরুষের পর্দার জন্য আল্লাহপাক প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহতায়ালা নারীদের পর্দার আগে পুরুষের পর্দার কথা বলেছেন, এর বিশেষ তাৎপর্য অবশ্যই রয়েছে। সমাজের বেশির ভাগ ধর্ষণ, নারী হেনস্তামূলক ওকারেন্সে পুরুষকেই অগ্রগামী দেখা যায়। তাই পুরুষ তার দৃষ্টি সংযত রাখলে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করলে সমাজ থেকে এ জাতীয় অশ্লীলতা ও পাপাচার অনেকাংশে কমে যাবে।

শব্দটি মূলত ফারসি। যার আরবি প্রতিশব্দ হিজাব। পর্দা বা হিজাবের বাংলা অর্থ আবৃত করা, ঢেকে রাখা, আবরণ, আড়াল, অন্তরায়, আচ্ছাদন, বস্ত্রাদি দ্বারা সৌন্দর্য ঢেকে নেওয়া, আবৃত করা বা গোপন করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, নারী-পুরুষ উভয়ের চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনের নিমিত্তে উভয়ের মাঝে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যে আড়াল বা আবরণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, তাকে পর্দা বলা হয়। মূলত হিজাব বা পর্দা অর্থ শুধু পোশাকের আবরণই নয়, বরং সামগ্রিক একটি সমাজব্যবস্থা, যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে অপবিত্র ও অবৈধ সম্পর্ক এবং নারীর প্রতি পুরুষের অত্যাচারী আচরণ রোধের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা নারী ও পুরুষদের প্রতি পর্দা পালনের বিষয়টি কোরআনুল কারিমে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবি! আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত এবং হে নবি! আপনি ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।

তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনরা, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর, ৩০-৩১)

আবার নারী এবং পুরুষের পর্দার স্বরূপ কেমন হবে, হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিশ্বনবি (সা.)-এর অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-এর আগমনে প্রিয়নবির নসিহতটি নারী-পুরুষ উভয়ের মনে রাখা প্রয়োজন।
উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ছিলাম। উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা (রা.)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম উপস্থিত হলেন। এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও। আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ, আমাদের দেখছেন না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না? (আবু দাউদ, ৪১১২; তিরমিজি, ২৭৭৯)
উল্লেখিত হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে জানা যায় যে, কোনো নারী পর্দার ভেতরে থেকে কোনো পুরুষকে দেখাও বৈধ নয়। পুরুষের জন্য যেমন নারীদের সঙ্গে অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ নয়; ঠিক তেমনি নারীদের জন্য পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ নয়।

আল্লাহতায়ালা অন্যত্র আয়াতে জানিয়ে দেন, নারীদের কীভাবে ঘর থেকে বের হওয়া লাগবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আহজাব, ৫৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহতায়ালা মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন মাথার ওপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমণ্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে। (ফাতহুল বারি ৮/৫৪) 
ইবনে সিরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ি) আবিদা [সালমানি (রাহ.)]-কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।

নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দা পালন করা ফরজ। ইসলামে উভয়কেই পর্দা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা পালন করা মুসলিম নারীর অনন্য রুচিবোধ ও সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। পর্দা পুরুষের উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যম; পাশাপাশি নারীর মানসম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচও বটে।
সুতরাং নারী ও পুরুষের জন্য পর্দা পালন করা সমভাবে প্রযোজ্য। এই অসুস্থ সমাজব্যবস্থায় দ্বীন ও ঈমান নিয়ে টিকে থাকতে চাইলে পর্দাকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করার বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী
আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়