ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত বিশ্বমঞ্চে ইল্লিয়ীন, ডি-৮ হালাল এক্সপোতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফ্যাশন ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১ নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বৃক্ষরোপণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশ নেই মফস্বলে পারে, রাজধানীতে পারে না কেন? পুঁজিবাজারে স্থিতিশীল গতি প্রয়োজন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বরখাস্ত সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও বন্যাপ্লাবিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন বিয়ের আনন্দ ম্লান, ডোমারে সড়কে ঝরল মা-দুই সন্তানসহ ৪ প্রাণ দুর্গতদের ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র টেকনাফ সীমান্তে বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ প্রাথমিকে বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক

জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের নামাজে জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ৫টায় অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে তার মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।

এর আগে জোহরের পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানাজায় অংশ নেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এ স্পিকারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।  জাতীয় সংসদের নির্ধারিত জায়গাতেই তাকে দাফন করা হবে।

রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশকিছু দিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (১১ জুলাই) রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন।

জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এসএন/

ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিম।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বাঁশখালী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে গঠিত মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ওষুধ বিতরণ এবং ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসান, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন, ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল এবং ডা. সানিয়া নাসরিন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির দিকনির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এসএন/

দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১
খাগড়াছড়ি থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ।

দেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে দেশের ৭টি জেলায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। বন্যায় মোট ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ত্রাণ কার্য হিসেবেই মোট ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬৪টি জেলার জন্য পৃথকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, এতে সর্বমোট চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।  দুর্যোগ সহায়তায় নগদ অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাতটি উপদ্রুত জেলায় গত কয়েকদিনের ত্রাণ সহায়তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবান জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে মন্ত্রণালয়। মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) তাদের কেন্দ্রীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন জেলা ইউনিটে নগদ অর্থ ও উদ্ধার সরঞ্জামও পাঠাচ্ছে তারা। বিডিআরসিএস ১২টি জেলা ইউনিটে রবার বোট, লাইফ ভেস্ট, রেইনকোট, ছাতা, জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। তারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। 

দুর্যোগের তীব্রতা মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও কারিতাস বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের আগাম সতর্কতামূলক ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই; বরং প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে আপগ্রেডের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা প্রয়োজন।’ 

রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি জানান, দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক এই চারটি মোবাইল অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিটকের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টাওয়ার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো সেবার মূল্য ইচ্ছামতো বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটকের উপস্থিতি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।’ 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আরও জানান, স্বল্পমেয়াদি ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডেটা বাতিলের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কলড্রপ কমাতে অপারেটরদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এ ছাড়া তিনি জানান, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে ৫৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও আদালতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এলিস/রিফাত/

রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর ফাঁকি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’

রবিবার (১২ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে করপোরেট করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে এপিআই সংযোগ এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে বহাল রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুরো আর্থিক খাতে একটি চলমান ‘ক্লিনিং প্রসেস’ পরিচালিত হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো আপস করা হবে না।’

এদিকে তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা আরও সহজ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। এছাড়া স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণের সুবিধাও অব্যাহত থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।’

এলিস/রিফাত/

বন্যাপ্লাবিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বন্যাপ্লাবিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাপ্লাবিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

রিফাত/