টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বানের পানির তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। সুপেয় পানি, পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
বৃষ্টিপাত কিছু কম হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) কিছু এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা গেছে, সেসব এলাকায় ঘরবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, উজাড় হয়েছে ফসলি জমি।
ত্রাণ পাননি অনেক মানুষ
টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণসহায়তা পৌঁছায়নি।
বেসরকারি হিসাব বলছে, এ উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে; লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, দুর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার্তরা খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ফারুয়া ইউনিয়নে। এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
রাস্তা ধসে যান চলাচল বন্ধ
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক সেতু ধসে পড়ে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি পড়েছে বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায়। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বান্দরবান শহরের বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক-সেতু পানিতে ডুবে থাকায় সওজের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এখানে বেইলি সেতু স্থাপন করতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।
এ ছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল দুই দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
কর্ণফুলী নদী উত্তাল থাকায় চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাঙামাটির রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবানের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলার রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে আদর্শগ্রামের বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।
তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার-মহেশখালী রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। মাতারবাড়ী উপকূল এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দুর্গতদের সংখ্যা নিয়ে কারচুপি
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাঙামাটির ৯ উপজেলায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭২৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এই সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী গতকাল জানিয়েছেন, সেখানে মাত্র ৮২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। রাঙামাটির পৌর এলাকার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলা হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৩৫ জন মানুষ এসেছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, গত তিন দিনে খাবার পেয়েছেন মাত্র এক বেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের উপস্থিতিতে এ নিয়ে হট্টগোল বাধে। এ নিয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করেনি জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ত্রাণের শুকনা খাবার ও ওষুধের বরাদ্দ কত, তাও জানায়নি।
চারপাশে ধ্বংসস্তূপ
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ বাড়িতে। কিন্তু সেই মানুষ বড় অসহায়। কারণ বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, তারা হারিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভেসে গেছে ঘরে থাকা অনেক প্রয়োজনীয় মাল।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগম। অসুস্থ মা, এক ছেলে ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার তার। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সেই ঘর। এখন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
একই গ্রামের আমেনা খাতুনের অবস্থাও প্রায় একই। বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে তার বসতঘরও। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার পরিবারের। ভাঙা ঘরের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকা এই নারী বলেন, ‘মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ঘরের যা ছিল সব শেষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। ঘর তোলার ক্ষমতা আমার নাই। সরকার ঘর না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের ৫ জেলায় দুর্যোগ
উজান ও ভাটিতে একই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে বলে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা খবরের কাগজকে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা লাগোয়া ভারতের রাজ্যগুলোতে একসঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতলের বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় আছে। নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’
চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে কমছে। বৃষ্টি কমে গেলে পাহাড়ি ঢল আর থাকবে না। পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত একটু বেশি হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের খাল-নদী যেভাবে দখল করেছে, তাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা যায়নি। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। ফলে বন্যা দেখা দিলেও সময়মতো পানি নিষ্কাশনের গেটগুলো খোলা হয় না। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা খালগুলোর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেজিং এবং স্লুইসগেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে বন্যার তীব্রতা বাড়বে। কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, মাতামুহুরী নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ডুবে গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাপে কাটল চিকিৎসককে
পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডুবে গেছে। সেখানে বুকসমান পানি জমে থাকলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাগাছের ভেলার ব্যবস্থা করেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন: চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, মহেশখালী, পেকুয়া, হাতিয়া (নোয়াখালী), মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি]