ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ উপসাগরীয় ৪ দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা পূর্ব চীনে টাইফুন বাভির আঘাত, তাইওয়ানে আহত ১৩৪ সোনারগাঁ থেকে ছিনতাই ২৫ লাখ টাকার সয়াবিন তেল উদ্ধার হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চার দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সিরিজ সম্পন্ন করল ইউল্যাব চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন বায়ুদূষণ সচেতনতায় স্বীকৃতি পেলো দুরন্ত বাইসাইকেলের ‘বিষবায়ু’ যুদ্ধের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বাড়িয়েছে ইরান টরন্টোর সালসা উৎসবে গোলাগুলি, নিহত ২ সাতকানিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সেমিফাইনালের সম্পূর্ণ সময়সূচি রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু দুই বছরে ৩৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ স্পেনের সামনে আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনা কি আবার শুরু হবে? বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা

বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বানের পানির তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। সুপেয় পানি, পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 

বৃষ্টিপাত কিছু কম হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) কিছু এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা গেছে, সেসব এলাকায় ঘরবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, উজাড় হয়েছে ফসলি জমি।

ত্রাণ পাননি অনেক মানুষ

টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণসহায়তা পৌঁছায়নি। 

বেসরকারি হিসাব বলছে, এ উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে; লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। 

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি। 

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, দুর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। 

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার্তরা খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ফারুয়া ইউনিয়নে। এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

রাস্তা ধসে যান চলাচল বন্ধ

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক সেতু ধসে পড়ে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি পড়েছে বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায়। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বান্দরবান শহরের বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক-সেতু পানিতে ডুবে থাকায় সওজের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এখানে বেইলি সেতু স্থাপন করতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল দুই দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

কর্ণফুলী নদী উত্তাল থাকায় চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাঙামাটির রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবানের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলার রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে আদর্শগ্রামের বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।

তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা। 

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার-মহেশখালী রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। মাতারবাড়ী উপকূল এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দুর্গতদের সংখ্যা নিয়ে কারচুপি

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাঙামাটির ৯ উপজেলায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭২৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এই সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ  উঠেছে। 

বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী গতকাল জানিয়েছেন, সেখানে মাত্র ৮২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। রাঙামাটির পৌর এলাকার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলা হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৩৫ জন মানুষ এসেছেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, গত তিন দিনে খাবার পেয়েছেন মাত্র এক বেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের উপস্থিতিতে এ নিয়ে হট্টগোল বাধে। এ নিয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন  ভুক্তভোগীরা। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করেনি জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ত্রাণের শুকনা খাবার ও ওষুধের বরাদ্দ কত, তাও জানায়নি। 

চারপাশে ধ্বংসস্তূপ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ বাড়িতে। কিন্তু সেই মানুষ বড় অসহায়। কারণ বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, তারা হারিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভেসে গেছে ঘরে থাকা অনেক প্রয়োজনীয় মাল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগম। অসুস্থ মা, এক ছেলে ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার তার। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সেই ঘর। এখন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

একই গ্রামের আমেনা খাতুনের অবস্থাও প্রায় একই। বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে তার বসতঘরও। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার পরিবারের। ভাঙা ঘরের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকা এই নারী বলেন, ‘মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ঘরের যা ছিল সব শেষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। ঘর তোলার ক্ষমতা আমার নাই। সরকার ঘর না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের ৫ জেলায় দুর্যোগ

উজান ও ভাটিতে একই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে বলে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা খবরের কাগজকে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা লাগোয়া ভারতের রাজ্যগুলোতে একসঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতলের বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় আছে। নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে কমছে। বৃষ্টি কমে গেলে পাহাড়ি ঢল আর থাকবে না। পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত একটু বেশি হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের খাল-নদী যেভাবে দখল করেছে, তাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা যায়নি। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।’ 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে। 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। ফলে বন্যা দেখা দিলেও সময়মতো পানি নিষ্কাশনের গেটগুলো খোলা হয় না। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা খালগুলোর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেজিং এবং স্লুইসগেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে বন্যার তীব্রতা বাড়বে। কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, মাতামুহুরী নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ডুবে গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাপে কাটল চিকিৎসককে

পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডুবে গেছে। সেখানে বুকসমান পানি জমে থাকলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাগাছের ভেলার ব্যবস্থা করেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন: চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, মহেশখালী, পেকুয়া, হাতিয়া (নোয়াখালী), মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি]

রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ এএম
রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বিভিন্ন মার্কেট বন্ধ থাকে। রবিবারও এর ব্যতিক্রম নয়। অনেক জনপ্রিয় মার্কেট এদিন বন্ধ থাকে। তাই কেনাকাটার পরিকল্পনা করার আগে জেনে নেওয়া জরুরি- রবিবার রাজধানীর কোন কোন মার্কেট বন্ধ থাকবে।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, NEW DOHS, OLD DOHS, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট অঞ্চল, তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক অঞ্চল, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল অঞ্চল, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসী পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।  

সুতরাং, ছুটির দিনে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ভোগান্তি এড়াতে আজ এসব এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা না করাই ভালো। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মার্কেটের সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি মাথায় রাখলে আপনার মূল্যবান সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচবে।

বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বানের পানির তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। সুপেয় পানি, পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 

বৃষ্টিপাত কিছু কম হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) কিছু এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা গেছে, সেসব এলাকায় ঘরবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, উজাড় হয়েছে ফসলি জমি।

ত্রাণ পাননি অনেক মানুষ

টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণসহায়তা পৌঁছায়নি। 

বেসরকারি হিসাব বলছে, এ উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে; লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। 

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি। 

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, দুর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। 

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার্তরা খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ফারুয়া ইউনিয়নে। এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

রাস্তা ধসে যান চলাচল বন্ধ

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক সেতু ধসে পড়ে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি পড়েছে বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায়। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বান্দরবান শহরের বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক-সেতু পানিতে ডুবে থাকায় সওজের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এখানে বেইলি সেতু স্থাপন করতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল দুই দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

কর্ণফুলী নদী উত্তাল থাকায় চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাঙামাটির রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবানের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলার রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে আদর্শগ্রামের বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।

তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা। 

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার-মহেশখালী রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। মাতারবাড়ী উপকূল এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দুর্গতদের সংখ্যা নিয়ে কারচুপি

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাঙামাটির ৯ উপজেলায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭২৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এই সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ  উঠেছে। 

বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী গতকাল জানিয়েছেন, সেখানে মাত্র ৮২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। রাঙামাটির পৌর এলাকার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলা হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৩৫ জন মানুষ এসেছেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, গত তিন দিনে খাবার পেয়েছেন মাত্র এক বেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের উপস্থিতিতে এ নিয়ে হট্টগোল বাধে। এ নিয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন  ভুক্তভোগীরা। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করেনি জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ত্রাণের শুকনা খাবার ও ওষুধের বরাদ্দ কত, তাও জানায়নি। 

চারপাশে ধ্বংসস্তূপ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ বাড়িতে। কিন্তু সেই মানুষ বড় অসহায়। কারণ বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, তারা হারিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভেসে গেছে ঘরে থাকা অনেক প্রয়োজনীয় মাল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগম। অসুস্থ মা, এক ছেলে ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার তার। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সেই ঘর। এখন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

একই গ্রামের আমেনা খাতুনের অবস্থাও প্রায় একই। বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে তার বসতঘরও। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার পরিবারের। ভাঙা ঘরের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকা এই নারী বলেন, ‘মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ঘরের যা ছিল সব শেষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। ঘর তোলার ক্ষমতা আমার নাই। সরকার ঘর না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের ৫ জেলায় দুর্যোগ

উজান ও ভাটিতে একই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে বলে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা খবরের কাগজকে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা লাগোয়া ভারতের রাজ্যগুলোতে একসঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতলের বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় আছে। নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে কমছে। বৃষ্টি কমে গেলে পাহাড়ি ঢল আর থাকবে না। পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত একটু বেশি হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের খাল-নদী যেভাবে দখল করেছে, তাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা যায়নি। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।’ 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে। 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। ফলে বন্যা দেখা দিলেও সময়মতো পানি নিষ্কাশনের গেটগুলো খোলা হয় না। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা খালগুলোর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেজিং এবং স্লুইসগেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে বন্যার তীব্রতা বাড়বে। কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, মাতামুহুরী নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ডুবে গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাপে কাটল চিকিৎসককে

পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডুবে গেছে। সেখানে বুকসমান পানি জমে থাকলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাগাছের ভেলার ব্যবস্থা করেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন: চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, মহেশখালী, পেকুয়া, হাতিয়া (নোয়াখালী), মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি]

পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (২৮) এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়িটিতে থাকা একটি জাম্বুরাগাছের ডালের সঙ্গে ওই নারীর মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। 

গতকাল শনিবার সকালে বাংলামোটরের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত ওই বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের (মর্গে) পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে একটি জাম্বুরাগাছের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ছিল। 

তবে নিহত ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল তার পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা করছে। 

এসআই শহিদুল আরও জানান, নিহত নারী ভবঘুরেপ্রকৃতির ছিলেন। রাতের যেকোনো সময় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রবিবার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স), এমএ এবং এলএলবি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। 

১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন।

ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গঠিত জাগদলে যোগ দেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি দুই দফায় জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। সবশেষ অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

জমির উদ্দিন সরকার একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দিনাজপুর-১, ঢাকা-৯, পঞ্চগড়-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হাইকোর্টের যেসব আইনজীবী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নূর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে তার স্ত্রী মারা যান। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

রাজনীতি, আইন, সংসদীয় কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান, পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন, দি ল অব দ্য সি এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি।

অমিয়/

ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

‘সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারাবিশ্বে তাৎক্ষনিক সংযোগ স্থাপন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। বাক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাক সংযমও থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মোঃ এমদাদ উল বারী এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ শিরোনামে আয়োজিত ছায়া সংসদে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

 শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কপোর্রেশনে (এফডিসি) এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন–ডেসটিনি, ইভ্যালি’র মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে।

এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতার অন্য অংশগ্রহনকারি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধুচক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধুচক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাংচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরো বলেন, ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরো কঠোর হতে হবে।

মাহমুদুল আলম/এসএন