ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ কে? দুই বছরে ৩৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ স্পেনের সামনে আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনা কি আবার শুরু হবে? বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার বাবা হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে এমবোলোকে লাল কার্ড কেন? কচুয়া-বেতাগী সেতু: নকশা জটিলতায় অপচয় শতকোটি ভোজিনহার নামে নতুন প্রজাতির নামকরণ পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার সব দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার ১২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই ১৪ ম্যাচ পর থামলেন গোলমেশিন হালান্ড বিশ্বকাপের নতুন সুপারস্টার, যার বয়স মাত্র ৩ বছর! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা কেন কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলছে আর্জেন্টিনা? ১০ মিনিটেই এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলের ভেতরের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় অচল পড়ে আছে উৎপাদন ইউনিটের যন্ত্রপাতি/ খবরের কাগজ

একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিল। এ মিলকে ঘিরে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। জেলার অর্থনীতিরও অন্যতম কেন্দ্র ছিল এটি। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিগত সরকারের সময়ে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মিলটির হাজারও দক্ষ শ্রমিক।

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যয় থেমে নেই। জাতীয় জুট মিলের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বছরে এই ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮ কোটিরও বেশি। অথচ উৎপাদন থেকে সরকারের কোনো আয় নেই।

মিলটি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিলের সঙ্গে হাজারও পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাদের প্রশ্ন, নতুন লিজের মাধ্যমে আবার কি উৎপাদনের চাকা ঘুরবে, নাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরেই পড়ে থাকবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর নর্দান পিপলস জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে এর নাম হয় কওমি জুট মিল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতীয় জুট মিল। একসময় প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন হতো এখানে। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

দীর্ঘদিন লাভজনকভাবে চললেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটে ২০০৭ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে আবার চালু হলেও সংকট কাটেনি। পরে ২০২০ সালের ১ জুন লোকসান, ঋণের বোঝা ও কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে আবার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ ২০ বছরের জন্য মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই ২০২৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

জাতীয় জুট মিল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলটির নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

জুট মিলের শ্রমিক আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘মিল চালু থাকার সময় প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা আয় করতেন। বর্তমানে বেকার অবস্থায় দিন পার করছি। ভালো কাজকর্ম না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মতো অন্য শ্রমিকদেরও একই অবস্থা।’

আরেক শ্রমিক লিটন শেখ বলেন, ‘একসময় জুট মিলের মাসিক বেতন দিয়ে আমার পুরো সংসার চলত। কিন্তু মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে চরম সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছি।’ মিলটি আবার চালুর দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বিশা শেখ বলেন, ‘জাতীয় জুট মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জেলার অর্থনীতি, পাটচাষি ও হাজারও শ্রমিকের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। এই সরকার জুট মিলটি চালু পুনরায় চালু করলে এ অঞ্চলের অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।’

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় শুধু হাজারও শ্রমিকই কর্মহীন হননি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। তাই সরকারের উচিত, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালু করা।’

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

টুলের ওপর সাজানো ছোট্ট একটি সিগারেট ও পান-সুপারির দোকান। মাথার ওপর ছাতা থাকলেও ঠেকাতে পারছে না বৃষ্টির পানি। ছাতার ফাঁক দিয়ে অবিরাম পানি ঝরে পড়ছে দোকানের ওপর। সেই ছোট্ট দোকানটি আঁকড়ে ধরে নীরবে চোখের পানি মুছছিলেন নাছিমা বেগম (৫০)। চারপাশে বৃষ্টির পানি, পথচারীরা ছাতা মাথায় দ্রুত গন্তব্যে ছুটছেন। কিন্তু কেউ থামছেন না। দোকানে সারা দিন বসে থেকেও ক্রেতার দেখা নেই।

গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগমের জীবনসংগ্রাম চলছে এভাবে। পাঁচ বছর আগে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় স্বামী আবদুল মান্নানের হাত ভেঙে যায়। আর সংসার উপার্জনের দায়িত্ব এসে পড়ে নাছিমার কাঁধে। কাঁঠালবাগানের ফুটপাতে একটি ছোট্ট টুলের ওপর সিগারেট, পান-সুপারি সাজিয়ে বসেন। ছোট্ট এই দোকানের প্রতিদিনের আয় দিয়ে কোনোমতে চলছিল তাদের সংসার।

কিন্তু টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সেই সামান্য আয়ের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যে দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি হতো, সেখানে এখন সারা দিন বসে থেকেও ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয় না। তবু সংসারের দায়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন দোকান খুলে বসতে হয় তাকে।

চোখের পানি মুছতে মুছতে নাছিমা বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলে তো কেউ টাকা দিয়ে যাবে না। তাই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দোকান খুলেছি। সেই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে থামছে না, কেউ কিছু কিনছে না। আগে দিনে ৩০০-৪০০ টাকা বিক্রি হতো, এখন ১০০ টাকাও হয় না। স্বামী অসুস্থ, সংসার চালাব কীভাবে বুঝতে পারছি না। তাহলে বাঁচব কী করে, খাব কী?’

টানা বৃষ্টির কারণে নাছিমার মতো রাজধানীজুড়ে দিনমজুর, হকার, নির্মাণশ্রমিক, ফেরিওয়ালা ও রিকশাচালকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যাদের প্রতিটি দিনের আয় নির্ভর করে প্রতিদিনের কাজের ওপর। টানা বর্ষণে একদিকে যেমন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে উন্নয়নকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করেছে।

গত শুক্র ও শনিবার রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, বাড্ডা, বনানী, নিউ মার্কেট, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই অধিকাংশ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে। কোথাও ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় উঠে এসেছে, আবার কোথাও উন্নয়নকাজের জন্য খুঁড়ে রাখা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, আর নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান উন্নয়নকাজের কারণে খুঁড়ে রাখা সড়কগুলো বৃষ্টিতে যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। পানির নিচে কোথায় রাস্তা, কোথায় গর্ত কিংবা কোথায় খোঁড়া অংশ, তা বোঝার উপায় নেই। ফলে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট যানবাহন প্রায়ই গর্তে পড়ছে।

সংবাদকর্মী শেখ জাহাঙ্গীর গতকাল টঙ্গী থেকে বাংলামোটরে অফিসে আসার পথে বনানী ফ্লাইওভারের নিচে জলাবদ্ধতার কারণে এক ঘণ্টার বেশি সময় যানজটে আটকে ছিলেন। পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে সামনে এগোতেই একাধিকবার পানির নিচে থাকা গর্তে হোঁচট খান।

তিনি বলেন, ‘বনানী ফ্লাইওভারের নিচে হাঁটুসমান পানি জমে ছিল। পানির নিচে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা খোঁড়া রয়েছে, তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। কয়েক গজ পর পরই মোটরসাইকেল গর্তে পড়ে যায়। সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, কখন বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হই।’

মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাঁঠালবাগান, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানির নিচে ডুবে থাকা গর্তে পড়ে একাধিক মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীকে দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখা গেছে। অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশাও বিকল হয়ে পড়ে।

মিরপুরের বাসিন্দা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির চেয়ে এখন বেশি ভোগান্তি হচ্ছে খোঁড়া রাস্তার কারণে। অফিসে যেতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে।

জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানা গেছে। ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় সেটা মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষদের।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রুবিনা আক্তার বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই দুর্ভোগ শুরু হয়। রাস্তায় হাঁটা যায় না, আবার গাড়িও পাওয়া যায় না। ছোট সন্তানকে নিয়ে বের হওয়া এখন সবচেয়ে কঠিন।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর ফুটপাতগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য। নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, মিরপুর-১০, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক হকার দোকানই খুলতে পারেননি। কেউ কেউ ত্রিপল টাঙিয়ে বসে থাকলেও সারা দিনে তেমন বিকিকিনি হয়নি। বিভিন্ন হকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে ছয় লাখের বেশি মানুষ ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের অধিকাংশই দৈনিক বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। ফলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে।

পান্থপথের পোশাক বিক্রেতা হকার মো. শাহিন বলেন, ‘ছাতি হাতে দাঁড়িয়ে আছি, বেচাবিক্রি করতে পারিনি। গত কয়েক দিন একই অবস্থা।’
বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আয়হীন দিন কাটাছেন শ্রমজীবীরা। নির্মাণশ্রমিক নুর ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি হলে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। তিন দিন ধরে কোনো কাজ পাইনি। ঘরে চাল শেষ হয়ে গেছে। ধার করে বাজার করতে হচ্ছে।’

রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগে দিনে প্রায় এক হাজার টাকা আয় হতো। এখন ৫০০ টাকাও হয় না। রিকশার জমা কী দিব আর খাবোইবা কী? পানি জমে থাকলে চালানো খুব কষ্টের, আবার রিকশা নষ্ট হচ্ছে বারবার।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই রাজধানীবাসীকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

যদিও সিটি করপোরেশন থেকে বরাবরই সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকার সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি নিজেই পানির মধ্যে হেঁটে পানি সরে যাওয়ার নালা ও ড্রেনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তবে প্রশাসকের পরিদর্শনের পরদিন শনিবার ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্রের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বৃষ্টির কারণে মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। 

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে কুইক সার্ভিস টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে গেলে দ্রুত তা নিষ্কাশনের জন্য কুইক সার্ভিস টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তবে নগরীর বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিবৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের লাইন প্রয়োজনের তুলনায় কম রয়েছে। এ কারণে দ্রুত পানি সরানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অচল ড্রেনগুলো সচল করার কাজও চলমান রয়েছে।

ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পোলট্রি খাতের প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় ডিমের ন্যূনতম লাভজনক বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে একটি জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।

শনিবার ১১ (জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।

‘খামারিদের ডিমের লাভজনক বিক্রয়মূল্য নিশ্চিতকরণ, পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেজ চালু এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক শতাধিক প্রান্তিক খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহনসহ প্রতিটি উৎপাদন উপকরণের মূল্য বাড়লেও খামার পর্যায়ে ডিমের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই। ফলে খামারিরা প্রতিনিয়ত লোকসানের বোঝা বহন করে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং অনেকে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের পোলট্রি খাতের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। বিপিআইএ জানায়, ২০২০ সালের আগে বাংলাদেশে পোলট্রি খামারির সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের অস্থিতিশীলতা ও সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবে এই সংখ্যা কমে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোক্তাদেরও বেশি মূল্য দিয়ে ডিম কিনতে হবে।

ফরিদপুরের প্রান্তিক খামারি আমিনুল প্রধান বলেন, ‘ডিমের সর্বনিম্ন দাম ১০ থেকে ১১ টাকা করতে হবে। মেডিসিনের দাম কমাতে হবে। তেজগাঁও সমিতি যেন ডিমের দাম ঠিক করে না দেয়। ডিমের দাম নির্ধারণ করবে সরকার।

বিপিআইএর প্রধান দাবিসমূহ

লাভজনক বিক্রয়মূল্য নিশ্চিতকরণ: কৃষকের ধান বা আখের মতো পোলট্রি খাতেও একটি যৌক্তিক মূল্য সুরক্ষাব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে খামারিরা ন্যায্য মুনাফা পান।

জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ ও ফার্মার আইডি: প্রকৃত খামারিদের শনাক্ত করতে, উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করতে এবং সরকারি প্রণোদনা সরাসরি খামারিদের কাছে পৌঁছাতে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং প্রতিটি নিবন্ধিত খামারির জন্য ‘খামারি পরিচয়পত্র চালু করতে হবে।

উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ: বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সময় খামারিদের পুঁজির সুরক্ষায় এবং কম দামে ডিম বিক্রি ঠেকাতে উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ডিম সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তুলতে হবে।

পোলট্রি বিমা ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠন: প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অবিলম্বে পোলট্রি বিমা চালু এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ‘বাংলাদেশ জাতীয় পোলট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ গঠন করতে হবে।

বিপিআইএর সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ভর্তুকিনির্ভর শিল্প চাই না; আমরা চাই একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও টেকসই বাজার ব্যবস্থা। যেখানে উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পাবেন, ভোক্তা সহনীয় দামে নিরাপদ খাদ্য পাবেন এবং দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এই সংকট নিরসনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত
চট্টগ্রাম বন্দরে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ইয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে/ সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে পণ্য ওঠানামা, খালাস এবং ডেলিভারি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও সংরক্ষণ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কনটেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের সড়ক যোগাযোগও বন্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য গ্রহণ ও সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। কিন্তু বন্যা শুরু হওয়ার পর গত ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হয়েছে।

বন্যার কারণে বন্দরে ডেলিভারি সংখ্যা কমেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নেননি ব্যবসায়ীরা। বন্দরে ইয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মালামালের। তবে এর সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় বাড়বে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বহিনোর্ঙরে পণ্য ওঠানামা বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি প্রভাব বন্দরের ওপর পড়েছে। স্টেক হোল্ডাররা বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ডেলিভারি ও রপ্তানি কনটেইনার বন্দরে আনা-নেওয়া করতে না পারায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে যেসব কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়া যায়নি সেগুলো পরবর্তী সময়ে ডেলিভারি হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামে বন্যার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এ সময়ে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেননি। বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার আনা-নেওয়া যায়নি। ডিপোতে থাকা রপ্তানি কনটেইনারও জাহাজে তুলতে পারেনি। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্দরে পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিন্তু উপজেলায় বন্যা থাকায় পণ্যবাহী কনটেইনার আনা-নেওয়া করতে পারছে না।

বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলের ভেতরের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় অচল পড়ে আছে উৎপাদন ইউনিটের যন্ত্রপাতি/ খবরের কাগজ

একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিল। এ মিলকে ঘিরে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। জেলার অর্থনীতিরও অন্যতম কেন্দ্র ছিল এটি। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিগত সরকারের সময়ে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মিলটির হাজারও দক্ষ শ্রমিক।

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যয় থেমে নেই। জাতীয় জুট মিলের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বছরে এই ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮ কোটিরও বেশি। অথচ উৎপাদন থেকে সরকারের কোনো আয় নেই।

মিলটি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিলের সঙ্গে হাজারও পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাদের প্রশ্ন, নতুন লিজের মাধ্যমে আবার কি উৎপাদনের চাকা ঘুরবে, নাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরেই পড়ে থাকবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর নর্দান পিপলস জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে এর নাম হয় কওমি জুট মিল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতীয় জুট মিল। একসময় প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন হতো এখানে। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

দীর্ঘদিন লাভজনকভাবে চললেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটে ২০০৭ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে আবার চালু হলেও সংকট কাটেনি। পরে ২০২০ সালের ১ জুন লোকসান, ঋণের বোঝা ও কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে আবার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ ২০ বছরের জন্য মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই ২০২৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

জাতীয় জুট মিল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলটির নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

জুট মিলের শ্রমিক আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘মিল চালু থাকার সময় প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা আয় করতেন। বর্তমানে বেকার অবস্থায় দিন পার করছি। ভালো কাজকর্ম না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মতো অন্য শ্রমিকদেরও একই অবস্থা।’

আরেক শ্রমিক লিটন শেখ বলেন, ‘একসময় জুট মিলের মাসিক বেতন দিয়ে আমার পুরো সংসার চলত। কিন্তু মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে চরম সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছি।’ মিলটি আবার চালুর দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বিশা শেখ বলেন, ‘জাতীয় জুট মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জেলার অর্থনীতি, পাটচাষি ও হাজারও শ্রমিকের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। এই সরকার জুট মিলটি চালু পুনরায় চালু করলে এ অঞ্চলের অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।’

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় শুধু হাজারও শ্রমিকই কর্মহীন হননি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। তাই সরকারের উচিত, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালু করা।’

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি ভবনের গ্যাসলাইন মেরামতের কাজ চলাকালে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে বরইতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনজনই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

দগ্ধরা হলেন- রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)। বিস্ফোরণের পর সহকর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

আহতদের সহকর্মী সজীব জানান, শুক্রবার রাত থেকেই বরইতলা এলাকায় আরিফ মিয়ার বাড়িতে গ্যাসলাইন-সংযোগসংক্রান্ত মেরামতের কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুনের ঝলকানিতে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহত রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রাজন ও সুমনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাদের চিকিৎসা ও ড্রেসিং চলমান থাকায় দগ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ পরে নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাসলাইন মেরামতের কাজ চলাকালেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। গ্যাসলাইনে কোনো ত্রুটি, গ্যাস জমে থাকা কিংবা নিরাপত্তাবিধি অনুসরণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়ন/রিফাত/