ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৬ রেকর্ডে শুরু জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার আনোয়ারায় বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা ছাত্রদল ১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ এক মায়ের বেঁচে থাকার যুদ্ধ পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫ প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কতদিন টানা বৃষ্টি থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় অনুষ্ঠিত হলো এডাস্টের বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতে সতর্ক হোন শিখা অনির্বাণ চালুর উদ্যোগ নিন বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক শাসনে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’ আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী, নিরপরাধকে হয়রানি না করার নির্দেশ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ- এ নিয়োগ, এসএসসি পাসেই নেবে ১,৪৬০ জন পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের, তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: স্পিকার রাজশাহীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যাংকিংয়ে কাজ করবে পূবালী ব্যাংক: ভূমিমন্ত্রী বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি ভবনের গ্যাসলাইন মেরামতের কাজ চলাকালে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে বরইতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনজনই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

দগ্ধরা হলেন- রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)। বিস্ফোরণের পর সহকর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

আহতদের সহকর্মী সজীব জানান, শুক্রবার রাত থেকেই বরইতলা এলাকায় আরিফ মিয়ার বাড়িতে গ্যাসলাইন-সংযোগসংক্রান্ত মেরামতের কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুনের ঝলকানিতে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহত রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রাজন ও সুমনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাদের চিকিৎসা ও ড্রেসিং চলমান থাকায় দগ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ পরে নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাসলাইন মেরামতের কাজ চলাকালেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। গ্যাসলাইনে কোনো ত্রুটি, গ্যাস জমে থাকা কিংবা নিরাপত্তাবিধি অনুসরণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়ন/রিফাত/

এক মায়ের বেঁচে থাকার যুদ্ধ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
এক মায়ের বেঁচে থাকার যুদ্ধ
মঞ্জুরা বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন এক জীর্ণ কুটিরে চলছে এক বৃদ্ধা মায়ের বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই।

বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পুরো বাড়ি এখন জলমগ্ন। ঘরে শুষ্ক কোনো জায়গা না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে একটু ঘুমানোর বা বসার সুযোগটুকুও পাননি এই বৃদ্ধা। চারদিকে থৈ থৈ করা পানির কারণে বন্ধ রয়েছে ঘরের চুলা, ফলে রান্না করতে না পেরে গত দু-দিন ধরে সম্পূর্ণ অনাহারে দিন কাটছে তার।

শনিবার (১১ জুলাই) হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খোদারকুম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়।

ষাটোর্ধ্ব মঞ্জুরা বেগম সেই একটি চৌকিতে কোনো রকমে জড়সড় হয়ে বসে আছেন। চোখে তার ক্লান্তির ছাপ, আর তীব্র অনিশ্চয়তার অবর্ণনীয় কষ্ট। চুলা জ্বলার কোনো উপায় নেই, তাই গত দু-দিন ধরে পেটে জোটেনি এক দানা অন্ন। ঘুমানো তো দূরের কথা, একটু সোজা হয়ে বসার জায়গাটুকুও কেড়ে নিয়েছে এই দুর্যোগ।

সংসারে আগলে রাখার মতো স্বামী মারা গেছেন বহু বছর আগে। এরপর থেকে তাকে দেখভাল করার বা একটু মুখে তুলে খাওয়ানোর মতো কোনো আপনজন নেই। এই জীর্ণ ঘরটুকুই ছিল তার শেষ আশ্রয়, যা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর রূপের সামনে তিনি আজ সম্পূর্ণ একা ও নিরুপায়।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, গত দু-দিন ধরে ঘরের ভেতর পানি বন্দি হয়ে অনাহারে-নির্ঘুমে কাটলেও স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ আজ পর্যন্ত তার দরজায় কড়া নাড়েনি। মেলেনি এক প্যাকেট শুকনো খাবার কিংবা এক বোতল বিশুদ্ধ পানি। দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সরকারি বা স্থানীয় কোনো সহযোগিতার হাত তার দিকে প্রসারিত হয়নি। ক্ষুধার জ্বালা আর ঘরের ভেতর জমে থাকা নোংরা পানির দুর্গন্ধে কাতর মঞ্জুরা বেগম আজ সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষদের দিকে চেয়ে আছেন। বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মঞ্জরা বেগমের এক প্রতিবেশী গিয়াসউদ্দিন বলেন, প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর থাবার সামনে এই অসহায় বৃদ্ধা এখন সম্পূর্ণ নিরুপায়। স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন- অতি দ্রুত এই অসহায় মঞ্জুরা বেগমের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। 

রাজু দাশ/এসএন

ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে বাসটি পুড়ে যায়।

শনিবার (১১ জুরাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উপজেলার সোয়াদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান এবং আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

এসএন/

 

মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’
চিরকুট। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে টাকা গণনার সময় ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয় মাজারের টাকা। তখন এই চিঠি পাওয়া যায়।

চিঠির প্রেরক মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ লিখেন, ‘প্রিয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানি না আমর এই চিরকুটটি-আপনার কাছে পৌঁছাবে কি। আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দর ভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ আমাদের দেশে যতগুলো ধর্ষন ও খুন হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। বিশেষ করে ধর্ষন। আমাদের স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছর। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো দৃশ্যমান বিচার দেখতে পারছি? আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় সাধারণ জনগন বিচারের প্রতি কোনো আস্থা নাই। আমাদের ছোট্ট শিশু রামিসার বিচার কবে কার্যকর হবে।  ৩ মাস, ১ বছর ৫ বছর না ১০ বছর বলা খুব কঠিন।’

‘বিশেষ করে মাদকের সাথে জড়িত যারা, আমার মনে হয় মাদক ব্যবসা যারা করে তাদের হাত অনেক বড়। না হয় থানা ম্যানেজ করে চলে। গ্রামের প্রায় ৯০% মানুষ মাদক আসক্ত শিশু তরুণ কিশোর।

জুবায়ের তার চিঠিতে ‘রামিসা, আছিয়া, হাদী হত্যাকারীদের পাথর দিয়ে মারার বিচার দাবী করেছেন।

শাকিলা ববি/এসএন

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা
বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা একপ্রকার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল চত্বরে ও নীচ তলায় বুকসমান পানি জমে থাকলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে মূল ভবন পর্যন্ত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র সড়কে কোমরসমান হলেও মূল ভবন ও জরুরি বিভাগে বুকসমান পানি। রোগী ও তাদের স্বজনদের পানির মধ্য দিয়েই হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। আবার শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাগাছের ভেলার ব্যবস্থা করেছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, বন্যার কারণে হাসপাতালে পানি প্রবেশ করেছে। তবুও কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন্যার মধ্যেও জরুরি বিভাগ, প্রসূতি সেবা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়াও বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। যে-কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দুপুরে আমি পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় পানির মধ্যেই আমার পায়ে সাপে কাটে। পরে রক্ত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছি। তবে অন্যান্য চিকিৎসক ও আমার ধারণা, সাপটি বিষাক্ত ছিল না। বর্তমানে আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আছি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা
দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা। ছবি: খবরের কাগজ

দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় দফার গত ১৯ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা জমা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গণনা শেষে সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক  আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা।

গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির অফিশিয়াল হিসাবপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ দিনে নগদ অর্থ পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দানবাক্সে প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে  সৌদি রিয়েল ১৩৫টি, ২০টি ইউএস ডলার, ২৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২টি কাতারি দেরহাম, ৬টি মালয়েশিয়ান রিংগিত, ২০টি হংকং ডলার, ২০টি ইউরোপিয় ইউনিয়নের ইউরো, ১ দিনার ৪৫০ পয়সা ওমানি দিনার। ৫৪ (৫৪.২) আমিরাতের দেহরাম, ইন্দোনেশিায়র রুপি ৪ হাজার, পাকিস্তানি ৬০ রুপি,  ১০টি সিঙ্গাপুরি ডলার।  নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে মূল্যবান অলংকার ও ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে: সোনা ৯ গ্রাম; স্বর্ণ-সদৃশ বস্তু ১০ গ্রাম এবং রূপা পাওয়া যায় ৩৯.৪ গ্রাম।

সর্বশেষ গণনার দিন থেকে আজ পর্যন্ত দানের গরু এসেছে ১টি। গরুটি লঙ্গরখানায় শিরনি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগল পাওয়া গেছে ৬৫টি। তার মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে যার মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

প্রথমবার গণনার ১৯ দিনের ব্যবধানে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে এই মাজারের টাকা। এই গণনা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একই কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা।

এবার বাক্স থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। প্রথমবার গণনায় ১ হাজার ও পাঁচশ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেলেও এবার সংখ্যার দিক থেকে লাল রংয়ের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে দেখা যায়।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার পরিদর্শনে যান। মাত্র চারদিকে ওই সময় দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে খোলা সিলেটের সোনালী ব্যাংকে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

শাকিলা ববি/এসএন