ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ মঞ্চে অভিষেক হলো মেহেরান তিথির আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরিতে উন্নয়ন সক্ষমতা জরুরি শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে বিজয়নগরের ভাগলপুর সীমান্ত এলকায় এ অভিযান চালায় বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়ন।

দুপুরে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাগলপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৭-৮ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে দুইটি বাইসাইকেলে চটের বস্তা নিয়ে আসতে দেখে বিজিবির টহলদল তাদেরকে ধাওয়া করলে বস্তাসহ বাইসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তা থেকে ৩ হাজার ৯৬০ পিস ভারতীয় মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এগুলো কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/অমিয়/

ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত কড়াকড়ির অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নকল করতে না দেওয়ায় একাংশের পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরীক্ষা শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তারা কেন্দ্রের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফয়েজ/রিফাত/

বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ
বাঁশখালীতে বন্যায় বিধ্বস্ত কয়েকটি বসতবাড়ি। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চললেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বানভাসি এখনও সহায়তা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা ৯ দিনের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া এই ভয়াবহ বন্যায় মহা সংকটে পড়েছেন বানবাসীরা। পর্যাপ্ত ত্রাণ বিশুদ্ধ পানি ওষধের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশই এখন পানির নিচে। বেসরকারি হিসেব মতে প্রায় ১০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু পাকা ভবন এবং সেমিপাকা বাসা বাড়িও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আরেক সড়ক ও রাস্তাঘাটে কোমর পানি। হাজার হাজার বসতবাড়ি পানির নিচে। বিশেষ করে বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পশ্চিম অংশ তথা উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলেও ভানবাসী মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩টি ইউনিয়ন ছাড়া সবগুলোই জনপ্রতিনিধি শুন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কার্যক্রম। এসব ইউনিয়নে নামকাওয়াস্তে কিছু সরকারি ত্রাণ বিতরণ হলেও ব্যক্তি উদ্যোগে নেই কোন সহায়তা। 

বিভিন্ন দলের পদধারী বড় নেতাদের দেখা নেই। ত্রাণ কার্যক্রমেও নেই তারা। অথচ করোনা দূর্যোগের সময় বাঁশখালীতে মুজিবুর রহমান সিআইপি কয়েক কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করেন। গন্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী, এসআলম নাছিরসহ অনেক ধনার্ঢ্য ব্যবসায়ী শিল্পপতি কোটি কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। কিন্তু বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির এক সাপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও কোন দানশীল ব্যক্তিবর্গের সাড়া শব্দ নেই।

এমপি জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিকটন খাদ্য শস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার্থদের হাহাকার। নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা অপ্রতুল। অপরদিকে প্রধান সড়কের আশপাশের লোকজনই শুধু ত্রাণ পাচ্ছে। দুরদুরান্তের ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোন ত্রাণ সহায়তা পৌছায়নি। 
কাথরিয়া এলাকায় মনির আহমদ জানান, আমি এবং আমার ভাইয়ের ঘর ভেঙে গেছে। আমরা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন কিভাবে এই ঘর মেরামত করব তা নিয়েই আছি দুঃশ্চিন্তায়।

পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস জানান, শুনেছি এমপি সাহেব আসবেন। কিন্তু দেখা মিলেনি। এত এত নেতা, জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন এলে গিজ গিজ করেন। কিন্তু আমাদের দূর্দিনে কাউকে খোঁজ খবর নিতেও চোখে পড়েনি। 

এদিকে বাঁশখালীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মাছ চাষের জন্য জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে না পেরে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, বাঁশখালীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, বাঁশখালীর দূর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবুও আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছি।

এদিকে বাঁশখালীতে বন্যায় এ পযর্ন্ত ৪ শিশু নিহত হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার একদিনেই বাহারছড়াতে নিহত হয়েছে দুই শিশু। এরা সকলে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। শনিবার থেকে সেনাবাহিনীর মোতায়েন করা হলেও এখনো তারা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেনি। তবে বাঁশখালীর বিভিন্ন স্পটে শনিবার দুপুর থেকেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরে নদ-নদী ভাঙনরোধে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকায় এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।

ভাঙন কবলিত এলাকা বালু বস্তা ফেলা হয়। এরপর পুরাতন ফেরিঘাট, বাহেরচর, জাজিরাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ফেলা হয় জিও ব্যাগ। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ট্রলারে ঘুরে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জায়গা চিহ্নিত করেন তিনি। আশ্বাস দেন ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ভাঙন ঠেকাতে প্রাথমিক পর্যায়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত ভাঙ্গন দেখা দিবে, ততদিন জিও ব্যাগ ফেলা হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। যাতে করে নদ-নদীপাড়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তুহিন খাঁ (২০)। পরে সকালে ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার একটি ডোবা থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
 
তুহিন খাঁ সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খাঁর ছেলে। তার শ্বশুর আকতার হোসেন নলদহ লালগোলা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে দুবাই প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যার দিকে কোনো একটি বিষয় নিয়ে স্ত্রী আফসানা খাতুনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের ডোবায় তুহিনের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
  
পুলিশ জানায়, তুহিন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন নিয়েই মূলত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।
 
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তুহিন রাতে একটি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেন। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পুলিশ এই আত্মহত্যার খবর পায়। কিন্তু খবর পাওয়ার পর পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় কিছু লোক রাতেই তার মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের ডোবায় ফেলে দেন। পরে সকালে মরদেহটি ভেসে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। 

ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

আমিনুল ইসলাম/অমিয়/

পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ বিবেচনায় ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে মঙ্গলবার থেকে উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়িঘর, উঠান, রান্নাঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার রান্না করতে না পেরে শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

পটিয়া পৌরসভার রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক, গোবিন্দারখীল, খলিলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, ধলঘাট, শোভনদণ্ডী, কুসুমপুরা, আশিয়া, কোলাগাঁও, জঙ্গলখাইন, ছনহরা ও ভাটিখাইনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে বীজতলা, সবজি ক্ষেত, পুকুর, মাছের ঘের ও বিভিন্ন খামার। এতে কৃষক ও মাছচাষীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তবে এই দুর্যোগের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন এক দৃশ্য। প্লাবিত রাস্তাঘাট, খাল-বিল ও জলাশয়ে জাল নিয়ে মাছ ধরতে নেমেছেন স্থানীয়রা। কোথাও একা, কোথাও দলবেঁধে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার পানিতে পুকুর ও মাছের ঘের উপচে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়ায় সহজেই মাছ ধরা যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে এত মাছ পেয়ে কিছুটা আনন্দ প্রকাশ করলেও, এর পেছনে মৎস্যচাষীদের বড় ধরনের ক্ষতির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিশ্রমিকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। কয়েকদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

পানিবন্দি রেহেনা বলেন, 'ঘুম থেকে উঠে দেখি পুরো ঘরে পানি। রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। বাচ্চাদের নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে সময় কাটাচ্ছি। কখন পানি নামবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।'

ধলঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, 'প্রতিবছর পানি আসে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ। ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিশুদ্ধ পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।'

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিতরণ করা প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে এক কেজি চিড়া, আধা কেজি মুড়ি, এক প্যাকেট টোস্ট বিস্কুট, আধা কেজি গুড়, খাবার স্যালাইন, একটি লাইটার এবং এক ডজন মোমবাতি রাখা হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন টিম সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বলেন, 'ইউনিয়নের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ এলে দ্রুত তা পৌঁছে দেওয়া হবে। জলাবদ্ধতায় মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নালা ভরাট, পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া এবং নালা-নর্দমার অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাও জলাবদ্ধতাকে ভয়াবহ করে তুলেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণেই প্রতি বছর এমন দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

রাফিউল আকরাম আলভী/এসএন