জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে। বাবা খেলেছেন প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ক্লাবের হয়ে। তাই একসময় আর্লিং হালান্ডকে নিজেদের জার্সিতে খেলাতে চেয়েছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এবার সেই হালান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন। যে ইংল্যান্ড শুধু হালান্ডের জন্মভূমি নয়, ক্লাব ফুটবলে তার বর্তমান নীড়ও।
বাবা আলফি হালান্ড তখন ইংল্যান্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। সেই সময়ই জন্ম নেয় ভবিষ্যতের এই তারকা, যিনি এবারের বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৭ গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শেষ ষোলোতে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছেন তিনি জোড়া গোলে। শেষ আটে তার সামনে আরও বড় পরীক্ষা। জন্মের পর মাত্র তিন বছর ইংল্যান্ডে থাকলেও দেশটির সংস্কৃতি ও ফুটবল তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এমনকি মলদে ক্লাবের হয়ে নজর কাড়ার পর এফএ তাকে ইংল্যান্ডের যুব দলে খেলানোর চেষ্টা শুরু করেছিল।
তবে একটি বিষয় সেই সম্ভাবনার ইতি টানে। ইংল্যান্ডে জন্ম হলেও হালান্ড কখনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেননি। কারণ সেটি করতে হলে তাকে নরওয়ের নাগরিকত্ব ছাড়তে হতো। তার বাবা-মা সেই সিদ্ধান্তে রাজি হননি। নিজেদের নরওয়েজিয়ান পরিচয়ের প্রতি গভীর টান থেকেই শেষ পর্যন্ত নরওয়ের জার্সিই বেছে নেন হালান্ড।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে শুরু থেকেই ছিলেন ব্যতিক্রম। নরওয়ের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে হন্ডুরাসের বিপক্ষে এক ম্যাচেই ৯ গোল করে ইতিহাস গড়েন। এরপর সিনিয়র দলে যোগ দিয়েও গোলের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ৫৪ ম্যাচে করেছেন ৬২ গোল—যা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে মিয়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই গোলসংখ্যা বাড়াতে চান হালান্ড। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই হালান্ডের পরিচিত প্রতিপক্ষ। কারণ প্রিমিয়ার লিগে তাদের বিপক্ষে বহুবার খেলেছেন, গোল করেছেন এবং আধিপত্যও দেখিয়েছেন।
জন্মভূমির বিপক্ষেও কি গোল করার দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রাখবেন নরওয়ের এই গোলমেশিন?
তোফায়েল/নাঈম