ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের বৃষ্টিভেজা আনন্দনগর ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ মঞ্চে অভিষেক হলো মেহেরান তিথির আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরিতে উন্নয়ন সক্ষমতা জরুরি শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার চার উপজেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ প্রায় দশ হাজারের পরিবারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে আমানের বীজতলাসহ আউশ ধানের ক্ষেত, শীতকালীন সবজি ও ফিশারির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল এখনো নিমজ্জিত রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ৩টায় মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ২৭৩ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখায় ২৬০ ব্যাগ, জুড়ীতে ১৫৭ ব্যাগ, কুলাউড়ায় ৩৪০ ব্যাগ, রাজনগরে ২১০ ব্যাগ, মৌলভীবাজার সদরে ৩১৩ ব্যাগ, শ্রীমঙ্গলে ২৩৫ ব্যাগ এবং কমলগঞ্জে ২৩৫ ব্যাগ বরাদ্দ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মনু ও ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি রয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে আরও প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামও পানিতে তলিয়ে যায়।

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিকড়া, আলিনগর, ধামুলিসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু স্থানে পানি নামতে শুরু করেছে। এছাড়া হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গতদের সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নে হাজারো মানুষ পানিবন্দি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামতে তাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলক পুরকায়স্থ/এসএন

গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে গিয়ে গোপালগঞ্জের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ একটি অপরিকল্পিত শহর; এখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মানসম্মত সড়ক না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংসদ সদস্য কে এম বাবার বলেন, আগামীতে আমাদের যে বাজেট আসবে সেই বাজেট দিয়ে কাজ করা হবে। আমরা চাই একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে। 

জলাবদ্ধতা কমাতে খালে জমে থাকা আবর্জনার দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। বিগত সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আসলেও তার সঠিক ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত এসব বাঁধ অপসারণ এবং খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে পৌরসভার সচিবকে নির্দেশ দেন এবং এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেন।

এর আগে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে যান সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন বাসিন্দারা। কোথাও ড্রেন থাকলেও রাস্তা নেই, আবার কোথাও রাস্তা থাকলেও ড্রেন নেই। এছাড়া অনেক সড়ক এখনো মাটির কাঁচা অথবা ইটের তৈরি হওয়ায় সামান্য কৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এসময় তারা সাথে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বাদল সাহা/এসএন

তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেঁতুলিয়ার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের মেইন পিলার ৪৩৪ এর ৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

বিজিবির ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝিপাড়া সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে নয়াবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা শনিবার ভোরে শিশুসহ মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির অবস্থানের মুখে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। তবে স্থানীয়দের দাবি বিজিবির টহল যেন আরও জোরদার করা হয়। 

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল। দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের তৎপরতায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনো ব্যক্তির অবস্থান বা চলাচল নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো এলাকায় বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রনি মিয়াজী/রিফাত/ 

পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দুর্যোগের এই সময়ে কোনো নাগরিককে একা রাখা হবে না। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় নগরবাসীর পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়মিত তদারকি, প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমাতে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি সার্ভিস ট্রলার নিরাপদে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছে। ট্রলারগুলোতে মোট ১৫৯ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে পুরুষ ৮০ জন, নারী ৪০ জন এবং শিশু ৩৯ জন। যাত্রীদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই০ সকাল ১১ টায় টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী সার্ভিস ট্রলার ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্য তিনটি সার্ভিস ট্রলার ১৫৯ জন যাত্রী নিয়ে রওনা করেন। পরবর্তীতে বিকাল ২টায় সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে নিরাপদে পৌঁছেন।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে জারি করা সতর্কসংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ- সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলারের চলাচল বন্ধ ছিল। টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল ১১টায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে ৩টি যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।‌ ট্রলারগুলোতে ১৫৯ জন যাত্রীর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও পরিবহন করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ট্রলারগুলো নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছায়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রলারে করে তিনি নিজেও টেকনাফে আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিনের জন্য ৫টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বীপের ৩০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। তবে শনিবার সকালে ৩টি যাত্রীবাহী ট্রলার নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছে। এসব ট্রলারে টেকনাফে আটকে থাকা যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেন্টমার্টিনের জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ৩ টন চাল পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ২ টন রবিবার পাঠানো হবে। এছাড়া দ্বীপের ৩০০ পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।

মোঃ শাহীন/এসএন

টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
ছবি: সংগৃহীত

টানা অতিবৃষ্টি ও প্রবল পানির স্রোতে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের খালের ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে খালের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার স্রোত ও পানির চাপে কালভার্টের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে। এর ফলে গোবরা গ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কালভার্টটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ প্রতিদিনের শত শত যাত্রীকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, তেমনি বেড়েছে ব্যয়ও। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপারের চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় টানা বর্ষণে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রিজটি ধসে পড়ে। তারা দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শালিকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, 
অতিবৃষ্টির কারণে কালভার্টসংলগ্ন স্থানে পানির প্রবল স্রোত এখনও অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, যেখানে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট রয়েছে, সেখানে খালের প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হওয়ায় পানির তীব্র চাপের কারণে বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভাঙা স্থানে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করলেও সেটি টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগে ভাঙা অংশ থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হবে, যাতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এবং সাইকেল আরোহীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দা, ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল সকাল থেকে কাজ শুরু হবে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সাঁকোটি নির্মাণ সম্পন্ন করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়ক ও কালভার্ট স্থায়ীভাবে সংস্কারের দায়িত্ব এলজিইডির। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন