ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু ত্রাণ পৌঁছাতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টেকসই সবুজায়ন ও শতবর্ষী বৃক্ষ সংরক্ষণে শুধু রোপণ নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি যত্ন আড়াই বছরে ১০ হাজার ৮৩০ ধর্ষণ মামলা: শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায় চকরিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, কাটেনি দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সেনেগাল তারকা সাদিও মানে ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ রবিবার রেশন সুবিধা পাবেন যেসব সরকারি চাকরিজীবীরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৫ শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় বিদেশনির্ভরতা কমাতে ইন্টার্নরাই মূল ভরসা: প্রধানমন্ত্রী বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’ গোল নয়, দলের জয়ই ইয়ামালের কাছে বড় সারাদেশে ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলাকে ‘অবাস্তব অনুভূতি’ বললেন হ্যারি কেইন প্রাথমিকে দেশসেরা প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁর বিলকিস কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ হালান্ডের সঙ্গে তুলনায় যেতে চান না হ্যারি কেইন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১১৮ ঈশ্বরদীতে টানা বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি, আহত ১২ মুন্সীগঞ্জে ২৪ লাখ টাকার তেল ডাকাতি, গ্রেপ্তার ২ কৃষি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারির পারিশ্রমিক কত? রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট মার্তিনেজ

প্রাথমিকে দেশসেরা প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁর বিলকিস

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
প্রাথমিকে দেশসেরা প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁর বিলকিস
বি আর বিলকিস

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি আর বিলকিস দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (নারী) নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) এ প্রতিযোগিতার ফালাফল ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ১২ বার সোনারগাঁ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, আট বার শ্রেষ্ঠ জেলা প্রধান শিক্ষক ও চার বার শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

বি আর বিলকিস দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আগামী ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে আনুষ্ঠানভাবে তাকে এ পদক প্রদান করবেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষক বিলকিস বলেন, ‘সবার অনুপ্রেরণা, ভালবাসা ও সমর্থন আমাকে আজ এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এ জন্য সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে আমার কাজ অব্যাহত থাকবে।’

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার চার উপজেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ প্রায় দশ হাজারের পরিবারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে আমানের বীজতলাসহ আউশ ধানের ক্ষেত, শীতকালীন সবজি ও ফিশারির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল এখনো নিমজ্জিত রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ৩টায় মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ২৭৩ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখায় ২৬০ ব্যাগ, জুড়ীতে ১৫৭ ব্যাগ, কুলাউড়ায় ৩৪০ ব্যাগ, রাজনগরে ২১০ ব্যাগ, মৌলভীবাজার সদরে ৩১৩ ব্যাগ, শ্রীমঙ্গলে ২৩৫ ব্যাগ এবং কমলগঞ্জে ২৩৫ ব্যাগ বরাদ্দ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মনু ও ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি রয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে আরও প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামও পানিতে তলিয়ে যায়।

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিকড়া, আলিনগর, ধামুলিসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু স্থানে পানি নামতে শুরু করেছে। এছাড়া হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গতদের সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নে হাজারো মানুষ পানিবন্দি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামতে তাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলক পুরকায়স্থ/এসএন

গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসিনা মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানার ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পলাতক আসামিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

চকরিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, কাটেনি দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
চকরিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, কাটেনি দুর্ভোগ
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা। ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত। ফলে নিম্নাঞ্চলগুলোর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অনেক এলাকায় নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। গবাদিপশু ও সামান্য সহায়-সম্বল নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্থান কিংবা ঘরের মাচায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অনেক এলাকায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাঠ-ঘাট তলিয়ে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বানভাসি মানুষ নিজেদের খাবারের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই এই ভয়াবহ রূপ নেয়নি বরং দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা নদীগুলোর নাব্যতা হারানো, দখল এবং পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়াই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ।

মায়ানমারের উত্তর আরাকান পর্বতমালায় উৎপত্তি হওয়া মাতামুহুরী নদীটি বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলা হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ১৫৪ মিটার। একসময় এই নদীটি ছিল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

পেকুয়ার প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, একসময় মাতামুহুরী নদীপথে লামা ও আলীকদম পর্যন্ত নৌকায় যাতায়াত করেছি। তখন নদীর যে গভীরতা ও প্রশস্ততা ছিল, আজ তার কিছুই নেই। নদীর বড় একটি অংশ এখন দখল ও ভরাট হয়ে গেছে।

একই আক্ষেপ ঝরে পড়ল চকরিয়ার বেতুয়া বাজার এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, এই নদীতে একসময় বড় বড় সাম্পান, মালবোঝাই নৌকা ও ট্রলার চলত। এখন নদীটি যেন শুধু কাগজ-কলমেই আছে। আমার বাবা-দাদার সময়েও এমন ভয়াবহ বন্যা দেখিনি। যেভাবে নদী দখল ও ভরাট হচ্ছে, তাতে আগামী প্রজন্ম আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদী ও এর শাখা নদীর বিভিন্ন অংশ দখল, ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পেকুয়ার বেতুয়া বাজার ও আমান্নরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর অংশ ভরাট করে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট, মাছের ঘের ও কৃষিজমি। এছাড়া বালু উত্তোলনের ইজারা নিয়ে অনেক জায়গায় নদীর প্রস্থ কমিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা নদীর ওপর নির্মিত রাবারড্যাম এবং দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় তলদেশে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সাগরে নামতে না পেরে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইস গেটের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। ফলে বন্যা দেখা দিলেও সময়মতো পানি নিষ্কাশনের গেটগুলো খোলা হয় না।

পরিবেশবিদদের মতে, মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা নদীগুলোর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেজিং এবং স্লুইসগেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে বন্যার তীব্রতা বাড়বে। নদীকে তার স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে দেওয়া না গেলে শুধু নদী নয় এর তীরবর্তী জনপদ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, মাতামুহুরী নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা নদীগুলো খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযান সফলভাবে পরিচালনায় রাজনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা পাওয়া গেলে অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদে পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে পারবে।

মাতামুহুরী নদীর নব্যতা সংকট দূর করতে এবং স্থানীয়  মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নদীটি খনন (ড্রেজিং) করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

​তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদীটি খনন করা হলে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। দীর্ঘদিনের পলি জমে নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। নদীটি খনন করা এখনকার সময়ের দাবি, কারণ এর সাথে এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য ও জীবিকা জড়িত। এটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

রকিবুল হাসান/আজহার/

ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যাপ্লাবিত দুর্গত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শত শত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শনিবার (১১ জুলাই) গুইমারা রিজিয়নের অধীনে লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণ করে সেনাবাহিনী।

সেনাসদস্যরা নৌযান ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দেন।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নাজমুল আলম/খাদিজা রুমি/

প্রাথমিকে দেশসেরা প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁর বিলকিস

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
প্রাথমিকে দেশসেরা প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁর বিলকিস
বি আর বিলকিস

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি আর বিলকিস দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (নারী) নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) এ প্রতিযোগিতার ফালাফল ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ১২ বার সোনারগাঁ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, আট বার শ্রেষ্ঠ জেলা প্রধান শিক্ষক ও চার বার শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

বি আর বিলকিস দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আগামী ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে আনুষ্ঠানভাবে তাকে এ পদক প্রদান করবেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষক বিলকিস বলেন, ‘সবার অনুপ্রেরণা, ভালবাসা ও সমর্থন আমাকে আজ এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এ জন্য সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে আমার কাজ অব্যাহত থাকবে।’

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/