বিশ্বকাপে দারুণ আশা জাগিয়েও শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সেনেগালকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আফ্রিকার যে দলটিকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তাদের যাত্রা থেমেছে নকআউট পর্বের শুরুতেই। আর এই বিদায়ের সঙ্গেই অবসান ঘটল আফ্রিকান ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সেনেগালের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড সাদিও মানে । ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেই দেশের জার্সি গায়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। অভিজ্ঞ এই ফুটবলারের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অবাক ফুটবলপ্রেমীরা।
সেনেগালের জনপ্রিয় সংবাদপত্র লে কোতিদিয়েন -এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানে। তিনি বলেন, ‘দেশের এই জার্সির জন্য আমি সবকিছু ত্যাগ করেছি। সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং দেশের সম্মানের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি।’
বিবৃতির শেষে সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাবেক লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের কোনো মুহূর্তে সমর্থকদের হতাশ করে থাকলে, তার জন্য আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনাও করেন তিনি।
২০১২ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া সাদিও মানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন সেনেগালের প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২১ সালে সেনেগালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন তিনিই। শুধু আফ্রিকায় নয়, বিশ্বমঞ্চেও সেনেগালকে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে মানের অবদান অবিস্মরণীয়। দেশের হয়ে রেকর্ড ১৩০ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি করেছেন সর্বোচ্চ ৫৪টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২৯টি গোল।
সাদিও মানের এই প্রস্থান নিশ্চিতভাবেই সেনেগালের ফুটবলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও দেশের ফুটবল ছাড়ছেন না তিনি। মানে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোচিং স্টাফ, টেকনিক্যাল টিম কিংবা প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বে যুক্ত হয়ে সেনেগালের ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান তিনি।
পাপ্পু/অন্তরা/