ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের বৃষ্টিভেজা আনন্দনগর ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ মঞ্চে অভিষেক হলো মেহেরান তিথির আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরিতে উন্নয়ন সক্ষমতা জরুরি শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল কিছুটা কমায় চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরলেও জেলার উপজেলাগুলোর গ্রামীণ জনপদে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।​

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, গত দুই দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসায় নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদসহ নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। অধিকাংশ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নগরজীবনে।

তবে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় গ্রামীণ এলাকার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।​

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এবং উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও লোকালয় এখন পানির নিচে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে অনেক ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় হাজার হাজার পরিবার গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। 

দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।​

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। একই সাথে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষের মাঝে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,  গ্রামীণ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী সহায়তা করছে। যার যার অবস্থান থেকে বানবাসীদের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি। 

এসএন/

আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারি হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো এলপিজিবাহী জাহাজের সম্ভাব্য নিশ্চিত ধাক্কা-বিস্ফোরণ ও ভয়ানক বিপর্যয় ঠেকিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারি হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাচ্ছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘লেটার অব কমেন্ডেশনস ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি’ পুরস্কার বা সম্মাননা। এরই মধ্যে আইএমও তাকে ওই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে, যা আগামি ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস বোঝাই ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দীর্ঘ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। প্রবল স্রোতের টানে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এতে ধেয়ে আসছিল এক মহাবিপর্যয়। ইঞ্জিনের শক্তি হারিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটি দ্রুতগতিতে পার্শ্ববর্তী ‘কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির’ দিকে প্রবল বেগে ভেসে যেতে থাকে। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থ বোঝাই এই জাহাজের সঙ্গে জেটির সংঘর্ষ হলে একটি ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি, দীর্ঘ সময়ের জন্য চট্টগ্রাম শহরের বাসযোগ্যতা হারানোসহ বন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসতে পারত।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এই চরম সংকট মুহূর্তে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি অসীম সাহস ও নিখুঁত পেশাদারত্বের সঙ্গে জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দুটি নোঙর ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ‘টেক্সটবুক ম্যানুভারিংয়ের’ বাইরে গিয়ে দুটি নোঙরকে ‘অ্যাসিমেট্রিক্যালি’ তুলে ফেলেন। তার এই দূরদর্শী ও নিখুঁত কৌশলের কারণে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি থমকে দাঁড়ায়। ‘গ্যাস হারমোনি’ জেটি থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে এসে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে জাহাজটি থেমে যায়। এতে নিশ্চিত বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরসহ মেরিন খাতের সংশ্লিষ্টদের প্রসংশায় ভাসছেন ক্যাপ্টেন আসিফ। তার এই অনন্য সাধারণ মেধা, উদ্ভাবন, দৃঢ় মনোবল ও বীরত্ব ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও বেড়েছে বলে মনে করেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।
 
আলমগীর হোসেন/রিফাত/

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল কিছুটা কমায় চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরলেও জেলার উপজেলাগুলোর গ্রামীণ জনপদে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।​

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, গত দুই দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসায় নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদসহ নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। অধিকাংশ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নগরজীবনে।

তবে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় গ্রামীণ এলাকার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।​

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এবং উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও লোকালয় এখন পানির নিচে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে অনেক ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় হাজার হাজার পরিবার গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। 

দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।​

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। একই সাথে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষের মাঝে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,  গ্রামীণ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী সহায়তা করছে। যার যার অবস্থান থেকে বানবাসীদের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি। 

এসএন/

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

দুর্যোগের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বন্যাদুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার রশিদের পুকুর এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। কোথায় কী লাগবে, কী প্রয়োজন সবকিছু তিনি জানেন। শুক্রবারও তিনি আমাকে বলেছেন, আপনি সেখানে যান, কী কী লাগবে দেখে আসেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আজ আপনাদের মধ্যে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি দেশের মানুষের কল্যাণে ২৪ ঘণ্টাই চিন্তা করেন। সরকার যে কোনো দুর্যোগে আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।’

এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।’

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

রিফাত/

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে তাদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবায় গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে আগামী ১২ জুলাই জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷ 

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক কার্যবিবরণী থেকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। 

এর আগে গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে একটি জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। জরুরি ওই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে  দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং সব সিভিল সার্জন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার লেখাটি বানান ও ভাষাগতভাবে সংশোধন করে দেওয়া হলো-

১) বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোনয়ন দিতে হবে। মনোনীত ফোকাল পারসনরা কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুবিধার্থে ফোকাল পারসনদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।

২) বন্যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে।

৩) বন্যা দুর্গতদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গৃহীত সব কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসনরা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জানাতে একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪) বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস (স্যালাইন) এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৫) সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬) আক্রান্ত সব উপজেলায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

৭) বন্যা আক্রান্ত এলাকার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে কারও মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৫৩ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৭০২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

রিফাত/