টানা অতিবৃষ্টি ও প্রবল পানির স্রোতে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের খালের ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে খালের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার স্রোত ও পানির চাপে কালভার্টের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে। এর ফলে গোবরা গ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কালভার্টটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ প্রতিদিনের শত শত যাত্রীকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, তেমনি বেড়েছে ব্যয়ও। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপারের চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় টানা বর্ষণে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রিজটি ধসে পড়ে। তারা দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শালিকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন,
অতিবৃষ্টির কারণে কালভার্টসংলগ্ন স্থানে পানির প্রবল স্রোত এখনও অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, যেখানে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট রয়েছে, সেখানে খালের প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হওয়ায় পানির তীব্র চাপের কারণে বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভাঙা স্থানে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করলেও সেটি টেকসই হবে না।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগে ভাঙা অংশ থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হবে, যাতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এবং সাইকেল আরোহীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দা, ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল সকাল থেকে কাজ শুরু হবে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সাঁকোটি নির্মাণ সম্পন্ন করা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়ক ও কালভার্ট স্থায়ীভাবে সংস্কারের দায়িত্ব এলজিইডির। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।
মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন