ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ মঞ্চে অভিষেক হলো মেহেরান তিথির আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরিতে উন্নয়ন সক্ষমতা জরুরি শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ বাড়িতে। কিন্তু বাড়িতে ফি অনেকেই কান্নায়ে ভেঙে পড়ছেন। বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি, নেই মাথা গোজার ঠাঁই। ভেসে গেছে ঘরে থাকা অনেক প্রয়োজনীয় মালামাল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগমও তাদের একজন। অসুস্থ মা, এক ছেলে ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার তার। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সেই ঘর। এখন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

রানু বেগম বলেন, ‘আমার স্বোমী মারা যাওয়ার পর মেয়েটাই কোম্পানীতে চাকরি করে সংসার চালায়। আমার ও একমাত্র ছেলে অসুস্থ। 

চোখের সামনে ঘরটা ভেঙে পড়ে গেল। কিছুই বের করতে পারিনি। কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, বিছানাপত্র, সব নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়ের সামান্য আয়ে সংসার চলে। এখন নতুন ঘর তুলব কীভাবে?

একই গ্রামের আমেনা খাতুনের অবস্থাও প্রায় একই। বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে তার বসতঘরও। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার পরিবারের। ভাঙা ঘরের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকা এই নারী বলেন, ‘মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ঘরের যা ছিল সব শেষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। ঘর তুলার ক্ষমতা আমার নাই। সরকার ঘর না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

শুধু রানু বা আমেনা নন, হাতিরথান, কালিগঞ্জ, চরহামুয়াসহ বন্যা কবলিত প্রত্যেকটি গ্রামেই এখন এমন নির্মম হাজারো গল্প। যেদিকে চোখ যায় শুধু দুর্ভোগ আর বানের পানিতে হাবুডু খাওয়া মানুষের কান্না। কোথাও ঘর ধসে গেছে, কোথাও বসতঘর কাদায় ভরে গেছে। অনেক পরিবার এখনও বাড়িঘর পরিষ্কার করতেই ব্যস্ত।

বৃহস্পতিবার রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।রাতের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

শনিবার (১১ জুলাই) পানি কমতে শুরু করলে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, ঘরের আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের গবাদিপশুর খাবারও নষ্ট হয়েছে।

শনিবার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও নিচু এলাকাগুলোতে এখনও কোমরসমান পানি রয়েছে। অনেক কাঁচা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

চরহামুয়া এলাকার বদরুল আলম বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এমন অবস্থা দেখিনি। বাধা ভেঙে যাওয়ার আধা ঘন্টার ভেতরে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের কোনকিছুই অবশিষ্ট নেই, হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে, নাহলে ভেসে গেছে।’

হাতিরথানা এলাকার ফাহিম রহমান বলেন, ‘দুইদিন ধরে এই এলাকার অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে আছে। কিন্তু কেউ এসে একবার দেখেওনি, ত্রাণ সহায়তা দেবেতো দূরের কথা।’

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুদ আছে। আমরা পর্যাক্রমে সেগুলো বিতরণ করছি।

কাজল সরকার/এসএন

টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
ছবি: সংগৃহীত

টানা অতিবৃষ্টি ও প্রবল পানির স্রোতে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের খালের ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে খালের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার স্রোত ও পানির চাপে কালভার্টের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে। এর ফলে গোবরা গ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কালভার্টটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ প্রতিদিনের শত শত যাত্রীকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, তেমনি বেড়েছে ব্যয়ও। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপারের চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় টানা বর্ষণে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রিজটি ধসে পড়ে। তারা দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শালিকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, 
অতিবৃষ্টির কারণে কালভার্টসংলগ্ন স্থানে পানির প্রবল স্রোত এখনও অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, যেখানে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট রয়েছে, সেখানে খালের প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হওয়ায় পানির তীব্র চাপের কারণে বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভাঙা স্থানে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করলেও সেটি টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগে ভাঙা অংশ থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হবে, যাতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এবং সাইকেল আরোহীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দা, ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল সকাল থেকে কাজ শুরু হবে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সাঁকোটি নির্মাণ সম্পন্ন করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়ক ও কালভার্ট স্থায়ীভাবে সংস্কারের দায়িত্ব এলজিইডির। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন

ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত কড়াকড়ির অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নকল করতে না দেওয়ায় একাংশের পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরীক্ষা শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তারা কেন্দ্রের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফয়েজ/রিফাত/

বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ
বাঁশখালীতে বন্যায় বিধ্বস্ত কয়েকটি বসতবাড়ি। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চললেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বানভাসি এখনও সহায়তা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা ৯ দিনের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া এই ভয়াবহ বন্যায় মহা সংকটে পড়েছেন বানবাসীরা। পর্যাপ্ত ত্রাণ বিশুদ্ধ পানি ওষধের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশই এখন পানির নিচে। বেসরকারি হিসেব মতে প্রায় ১০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু পাকা ভবন এবং সেমিপাকা বাসা বাড়িও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আরেক সড়ক ও রাস্তাঘাটে কোমর পানি। হাজার হাজার বসতবাড়ি পানির নিচে। বিশেষ করে বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পশ্চিম অংশ তথা উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলেও ভানবাসী মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩টি ইউনিয়ন ছাড়া সবগুলোই জনপ্রতিনিধি শুন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কার্যক্রম। এসব ইউনিয়নে নামকাওয়াস্তে কিছু সরকারি ত্রাণ বিতরণ হলেও ব্যক্তি উদ্যোগে নেই কোন সহায়তা। 

বিভিন্ন দলের পদধারী বড় নেতাদের দেখা নেই। ত্রাণ কার্যক্রমেও নেই তারা। অথচ করোনা দূর্যোগের সময় বাঁশখালীতে মুজিবুর রহমান সিআইপি কয়েক কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করেন। গন্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী, এসআলম নাছিরসহ অনেক ধনার্ঢ্য ব্যবসায়ী শিল্পপতি কোটি কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। কিন্তু বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির এক সাপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও কোন দানশীল ব্যক্তিবর্গের সাড়া শব্দ নেই।

এমপি জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিকটন খাদ্য শস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার্থদের হাহাকার। নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা অপ্রতুল। অপরদিকে প্রধান সড়কের আশপাশের লোকজনই শুধু ত্রাণ পাচ্ছে। দুরদুরান্তের ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোন ত্রাণ সহায়তা পৌছায়নি। 
কাথরিয়া এলাকায় মনির আহমদ জানান, আমি এবং আমার ভাইয়ের ঘর ভেঙে গেছে। আমরা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন কিভাবে এই ঘর মেরামত করব তা নিয়েই আছি দুঃশ্চিন্তায়।

পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস জানান, শুনেছি এমপি সাহেব আসবেন। কিন্তু দেখা মিলেনি। এত এত নেতা, জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন এলে গিজ গিজ করেন। কিন্তু আমাদের দূর্দিনে কাউকে খোঁজ খবর নিতেও চোখে পড়েনি। 

এদিকে বাঁশখালীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মাছ চাষের জন্য জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে না পেরে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, বাঁশখালীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, বাঁশখালীর দূর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবুও আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছি।

এদিকে বাঁশখালীতে বন্যায় এ পযর্ন্ত ৪ শিশু নিহত হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার একদিনেই বাহারছড়াতে নিহত হয়েছে দুই শিশু। এরা সকলে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। শনিবার থেকে সেনাবাহিনীর মোতায়েন করা হলেও এখনো তারা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেনি। তবে বাঁশখালীর বিভিন্ন স্পটে শনিবার দুপুর থেকেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরে নদ-নদী ভাঙনরোধে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকায় এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।

ভাঙন কবলিত এলাকা বালু বস্তা ফেলা হয়। এরপর পুরাতন ফেরিঘাট, বাহেরচর, জাজিরাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ফেলা হয় জিও ব্যাগ। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ট্রলারে ঘুরে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জায়গা চিহ্নিত করেন তিনি। আশ্বাস দেন ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ভাঙন ঠেকাতে প্রাথমিক পর্যায়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত ভাঙ্গন দেখা দিবে, ততদিন জিও ব্যাগ ফেলা হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। যাতে করে নদ-নদীপাড়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তুহিন খাঁ (২০)। পরে সকালে ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার একটি ডোবা থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
 
তুহিন খাঁ সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খাঁর ছেলে। তার শ্বশুর আকতার হোসেন নলদহ লালগোলা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে দুবাই প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যার দিকে কোনো একটি বিষয় নিয়ে স্ত্রী আফসানা খাতুনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের ডোবায় তুহিনের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
  
পুলিশ জানায়, তুহিন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন নিয়েই মূলত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।
 
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তুহিন রাতে একটি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেন। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পুলিশ এই আত্মহত্যার খবর পায়। কিন্তু খবর পাওয়ার পর পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় কিছু লোক রাতেই তার মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের ডোবায় ফেলে দেন। পরে সকালে মরদেহটি ভেসে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। 

ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

আমিনুল ইসলাম/অমিয়/