ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের, তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: স্পিকার রাজশাহীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যাংকিংয়ে কাজ করবে পূবালী ব্যাংক: ভূমিমন্ত্রী বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের বৃষ্টিভেজা আনন্দনগর ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ মঞ্চে অভিষেক হলো মেহেরান তিথির আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন আসিফ মাদারীপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরিতে উন্নয়ন সক্ষমতা জরুরি শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামে অবনতি পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
মো. মহিদুল ইসলাম

ইচ্ছা থাকলে উপায় হবেই।  বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর দুই দেশ, অঞ্চল, এশিয়া ও বিশ্বকে এগিয়ে নেবে। বাংলাদেশকে রেল রোডে বৃহত্তর সংযোগ দিয়ে শিল্প-বাণিজ্যে অকল্পনীয় অগ্রগতি দেবে। চীনের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। মানুষের অভাব পূরণ ও দারিদ্র্যবিমোচনে দ্রুত এগিয়ে যাবে দেশ।...

দীর্ঘ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করে দেখেছি রেল যোগাযোগ যাতায়াত সেবা দিলেও সেবার মান আঞ্চলিক ও বিশ্বমানের নয়। ১৮৬২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের মাটিতে দর্শনা-কুষ্টিয়া-গোয়ালন্দে প্রথম যে রেলপথ বানিয়েছিল তা আজ আরও উন্নত হওয়ার কথা। জগতি আজ বিরানভূমি প্রায়। অথচ এটাই বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন। একে বহুমুখী করা জরুরি।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর বাংলাদেশ তথা গোটা অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য জরুরি। কক্সবাজার-কুনমিং রেল রোড হলে বাংলাদেশকে সমগ্র এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ করবে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিটি স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে আরও গতিশীল, আরও উৎপাদনশীল সমাজ। মাত্র দুই দশকের মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা বর্তমানে পৃথিবীর বাকি সব দেশের সম্মিলিত নেটওয়ার্কের চেয়েও বড়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চীনের প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা তীব্র যানজট এবং ধীরগতির সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে চীনে রেলের আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়। ২০০৪ থেকে ২০১৪, এ সময়ে চীন ১০ হাজার কিলোমিটার রেলপথ বানায়, যার গতি ২০০ কিলোমিটারের অধিক। চীনের রেলপথ গড়ার এ কাজকে বলে রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ওয়্যার বা রেল গড়ার যুদ্ধ। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি গতির রেলকে উচ্চ গতি বা হাইস্পিড রেল বলা হয়। জাপান ১৯৬৪ সালে প্রথম ২১০ কিলোমিটার গতির রেল গড়ে তোলে, যাকে সিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন বলা হয়।

প্রশ্ন হলো, একটি বিশ্বমানের রেল গঠন, সেবাদান, যাত্রী তৈরি, শিল্পায়ন ব্যতীত বাংলাদেশ আর কতদিন অপেক্ষা কববে? এখানে বাংলাদেশ ও চীনের মেলবন্ধন দরকার। বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম। আছে পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু আজকের বাংলাদেশ। মাটি, মানুষ, পানি, ভূপ্রকৃতি, খনিজ–সব মিলিয়ে বিপুল সম্ভাবনার ভূকেন্দ্র। সত্যি বলতে, বাংলাদেশ গঠনে যুদ্ধের তেজ দরকার। রেল দেখার লোভ আজন্ম। আমি একবার ঢালারচর গিয়েছিলাম। শুনেছি ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর রেললাইন হয়েছে। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, স্টেশনে ঢোকার রাস্তা সংকীর্ণ। রেলস্টেশনে যাওয়ার রাস্তা সুগম হতে হবে। ঈশ্বরদী জংশন দেখে বিস্মিত হতাম সেই শৈশব থেকে।

মানুষ ও মালামাল পরিবহনের জন্য রেল। সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ হলো রেল। রেল-নীতিপদ্ধতি পরিকল্পনা তৈরি বিশাল কাজ। সে কাজের দক্ষতা, যোগ্যতা দু-এক দিনে হয় না। আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রেলপাঠের সিলেবাস ছোট। নেই কোনো রেল বিশ্ববিদ্যালয়। নেই তেমন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। মিডিয়ায় প্রচারও কম। রেলভবনে বড় একটি লাইব্রেরি থাকতে পারত। বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর নয় শুধু। দরকার বাংলাদেশ-চীন একাডেমি অব রেলওয়ে সায়েন্স অ্যান্ড গভর্নেন্স।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে আঞ্চলিক ও বিশ্বমানের করতে করণীয়: ১. বাংলাদেশ-চীন রেল করিডর, ২. বাংলাদেশ-চীন রেল বিশ্ববিদ্যালয়, ৩. বাংলাদেশ-চীন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট একাডেমি অব রেলওয়ে সায়েন্স অ্যান্ড গভর্নেন্স, ৪. রোহনপুর-সান্তাহার-বগুড়া-কালীতলা ঘাট রেল, ৫. কালীতলা সারিয়াকান্দী নৌবন্দর, ৬. জগতি রেলস্টেশন বিশ্বমানের করা, ৭. কুষ্টিয়া কোর্ট ও বড় স্টেশনকে মাটির নিচ দিয়ে স্টেশনকে বহুমুখী করা, ৮. দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-আরিচায় নতুন নগরায়ণ ও ত্রিমুখী রেল ব্রিজ বা টানেল করা, ৯. মানিকগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-কুনমিং হাইস্পিড রেল, ১০. খুলনা-বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর রেল, ১১. বরিশাল-কুয়াকাটা রেল, ১২. বগুড়া-জামালপুর রেল ও সারিয়াকান্দী রেল টানেল, ১৩. দেশের সব জেলায় রেল সংযোগ, ১৪. ঢাকা সার্কুলার রেল-নৌ-রোড, ১৫. আমাদের রেল কারখানাগুলো আরও উৎপাদনমুখী করা। আমরা কেন রেল ইঞ্জিন ও ওয়াগন বানাব না। আর তা না পারলে আমরা ভারী শিল্পে এগিয়ে যেতে পারব না। ইচ্ছা থাকলে উপায় হবেই। চুরির নিয়ত ত্যাগ করতে হবে। ইন্দোনেশিয়া ইরান কোরিয়া জাপান জার্মানি পারলে বাংলাদেশকে পারতেই হবে। ব্রিটিশের গড়া সৈয়দপুর রেল কাখানাকে কীভাবে তিলে তিলে পিছিয়ে দিয়েছি আমরা, তা দেখেছি।

যাদের জন্য রেল তারা কেমন হবেন? উদ্যোগী, উৎপাদনশীল, পরিশ্রমী, মানবপ্রেম-দেশপ্রমী, প্রশিক্ষিত, মেধাবী। লাখ লাখ মানুষ রিকশা-অটোরিকশা চালিয়ে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত। নগর-বন্দর, হাটবাজার সর্বত্র তারা ছড়িয়ে। তাদের সঙ্গে তাদের জীবনসঙ্গী, সন্তান ও তাদের মা-বাবা তথা নির্ভরশীলরা। আর তার জন্য দরকার দক্ষ, যোগ্য ও শক্তিশালী মানুষ গড়ার শিক্ষা।

পরিশেষে বলব, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর দুই দেশ, অঞ্চল, এশিয়া ও বিশ্বকে এগিয়ে নেবে। বাংলাদেশকে রেল রোডে বৃহত্তর সংযোগ দিয়ে শিল্প-বাণিজ্যে অকল্পনীয় অগ্রগতি দেবে। চীনের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। মানুষের অভাব পূরণ ও দারিদ্র্যবিমোচনে দ্রুত এগিয়ে যাবে দেশ। 

লেখক: কর কমিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাইমারি স্কুল একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম বিদ্যানগর। এটি ছোট্ট সোনামণিদের প্রাথমিক জ্ঞানের কেন্দ্র। তারা শিখবে নৈতিকতা, সুন্দর আচরণ ও আদর্শ। সম্প্রতি ভিডিও ফুটেজে লক্ষ করা যায় একজন শিক্ষিকা স্টুডেন্ট কর্তৃক পা ম্যাচেজ করাচ্ছেন এবং অন্য একজন ফোন ব্যবহার করছেন ইত্যাদি।

এটি শিশুদের জন্য যেমন ক্ষতিকর ও অনৈতিক শিক্ষাদানের লক্ষণ। তেমনি শিক্ষকদের জন্যও বড় লজ্জার এবং সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক আচরণ। এমন আচরণ ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আচরণে বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিক্ষকদের পরিস্থিতি এরূপ হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে অনাগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অতএব, শিক্ষাব্যবস্থা সুন্দর পরিচালনায় দ্রুত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

আবদুর রশিদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
[email protected]

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা

ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে, বাড়ির ছাদে, গাড়িতে বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকরা নিজ নিজ সমর্থিত দলের পতাকা লাগিয়ে দেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকরা নিজেদের বাড়ি-গাড়ি পতাকা ও জার্সির রঙে রাঙিয়ে তোলেন। তারা প্রায় প্রতিটি পাড়ামহল্লা ও বাজারে শত শত ফুট লম্বা বিশাল পতাকা উত্তোলন করেন। এই উন্মাদনা বিশ্বে বিরল।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এই বাংলাদেশি ভালোবাসার কথা তেমন জানেন না। তাদের জাতীয় দলের জন্য বাংলাদেশে কী পরিমাণ আবেগ ও উৎসাহ। আমরা নিজেদের এই উৎসবের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করি বাংলা কিংবা ইংরেজিতে। আর্জেন্টিনার মানুষ স্প্যানিশ আর ব্রাজিলের মানুষ পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলেন। তারা বাংলা কিংবা ইংরেজি না জানায় আমাদের এই বিশাল সমর্থন তাদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না।

কে করবে এই উদ্যোগ? সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে কাজ করতে পারে। করপোরেট কোম্পানিগুলো স্পন্সরশিপ দিয়ে কাউকে আনলে তাদেরও ব্র্যান্ডিং হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম  আবেগের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার। এই শক্তিকে যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। শুধু আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নয়,  সারা বিশ্বে বাংলাদেশি ফ্যানদের কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার সময় এসেছে। এখনই শুরু করতে হবে। 

আরাবী নূর লিমা
কবি ও প্রাবন্ধিক
[email protected]

বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা

‎‎কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা দিন বহিরাগতদের আনাগোনা ১৭৫ একর ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। বহিরাগতরা ঘুরতে আসা ছাড়াও এমন কিছু কাজ করে থাকে যা নিতান্তই দৃষ্টিকটু। ক্যাম্পাসের মীর মুগ্ধ সরোবর, স্মৃতিসৌধ অথবা বিভিন্ন নিরিবিলি এলাকায় তাদের অশোভনীয় আচরণ দেখতে পাওয়া যায়। আবার বহিরাগত ছেলেরা বা বখাটেরা ক্যাম্পাসের গাছের ফলমূল অযথা নষ্ট করে। বখাটেদের দ্বারা ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও ঘটে থাকে। বহিরাগতরা কোনো নেতার ট্যাগ দিয়ে ক্যাম্পাস মোটরসাইকেল শোডাউন করে থাকে। ছুটির দিনে বা কোনো বড়সড় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন কোনো ছোটখাটো বিনোদন কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বহিরাগতদের এসব ক্রিয়াকলাপ ইবি ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর জোর খাটানোর চেষ্টা করে থাকে। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য ইতোমধ্যই নানা নেতিবাচক ঘটনা ঘটে গেছে যা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বহিরাগতদের কাছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের এভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটের পাশে ভাঙা প্রাচীর নাজুক নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত দেয়। তাই ভবিষ্যতে কোনো বড় বিপদ হওয়ার আগেই ইবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা সীমিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষীদের কাজে অবহেলা বন্ধ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহিরাগত প্রবেশ সীমিতকরণে ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ব্যাপারে তাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 
‎‎
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
‎শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]

প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শুভ জন্মদিন প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তোমার বয়স প্রতি বছর যেমন বাড়ে, তেমনি হাজারো স্বপ্নেরও বয়স বাড়ে তোমার প্রাঙ্গণে। মাত্র কিছুদিন আগেও আমি ছিলাম তোমার কাছে এক অপরিচিত মুখ। আজ তোমার ৭৫৩ একরের প্রতিটি পথ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি বিকেল আর প্রতিটি মুখ ধীরে ধীরে আমার আপন হয়ে উঠেছে। তোমার আঙিনায় আমি শুধু পড়াশোনা করতে আসিনি; নিজেকে গড়ে তুলতে, মানুষ হতে এবং স্মৃতির ভাণ্ডার পূর্ণ করতে এসেছি। তোমার ৭৩ বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে পূর্ণ করুক, তুমি পূর্ণতা দিও। আমি তোমাকে হৃদয় আসনে রেখে দেব আমৃত্যু, আজীবন।

মো. আমিনুর রহমান 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫
[email protected]

জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল

বর্তমান আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ বা ‘শূন্য রিটার্ন’ বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান বা শব্দ নেই। অথচ আমাদের দেশের করদাতাদের মধ্যে ‘জিরো রিটার্ন’ শব্দটির প্রচলন এবং জনপ্রিয়তা ব্যাপক। আইনে বিধান না থাকলেও বাস্তবে অগণিত ট্যাক্স ফাইলে এর অবাধ প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ প্রতিনিয়ত লক্ষ করা যাচ্ছে।

এই তথাকথিত জিরো রিটার্নের ফাইলগুলোর ভেতরে তাকালে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ ফাইলেই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য বা যৌক্তিক মিল নেই; আয় ও ব্যয়ের খাতগুলো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং ধোঁয়াশাপূর্ণ। বিনিয়োগের খাতগুলো যেমন পূর্ণতা পায়নি, ঠিক তেমনি সম্পদ ও দায়ের ঘরগুলোও অলংকৃত হয়ে আছে শূন্যতায়। নিয়মতান্ত্রিক বিনিয়োগ বা সঠিক হিসাবের অভাব থাকায় কর রেয়াতের সুবিধা তো হাতছাড়া হয়েই গেছে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রদত্ত করের পরিমাণও যথারীতি শূন্য! মূলত, এই হচ্ছে আমাদের দেশের সিংহভাগ জিরো রিটার্নের প্রকৃত হালচাল। প্রশ্ন উঠতেই পারে–এই দায়সারা ও ত্রুটিপূর্ণ ফাইলগুলো কারা তৈরি করছেন, আর কেনই বা তৈরি করছেন? আসল কথা হলো, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অনলাইনের যুগে এই ফাঁকিবাজি আর চলবে কতদিন?

পলাশ কুণ্ডু
আয়কর আইনজীবী ও সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন
[email protected]