টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন এক জীর্ণ কুটিরে চলছে এক বৃদ্ধা মায়ের বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই।
বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পুরো বাড়ি এখন জলমগ্ন। ঘরে শুষ্ক কোনো জায়গা না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে একটু ঘুমানোর বা বসার সুযোগটুকুও পাননি এই বৃদ্ধা। চারদিকে থৈ থৈ করা পানির কারণে বন্ধ রয়েছে ঘরের চুলা, ফলে রান্না করতে না পেরে গত দু-দিন ধরে সম্পূর্ণ অনাহারে দিন কাটছে তার।
শনিবার (১১ জুলাই) হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খোদারকুম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়।
ষাটোর্ধ্ব মঞ্জুরা বেগম সেই একটি চৌকিতে কোনো রকমে জড়সড় হয়ে বসে আছেন। চোখে তার ক্লান্তির ছাপ, আর তীব্র অনিশ্চয়তার অবর্ণনীয় কষ্ট। চুলা জ্বলার কোনো উপায় নেই, তাই গত দু-দিন ধরে পেটে জোটেনি এক দানা অন্ন। ঘুমানো তো দূরের কথা, একটু সোজা হয়ে বসার জায়গাটুকুও কেড়ে নিয়েছে এই দুর্যোগ।
সংসারে আগলে রাখার মতো স্বামী মারা গেছেন বহু বছর আগে। এরপর থেকে তাকে দেখভাল করার বা একটু মুখে তুলে খাওয়ানোর মতো কোনো আপনজন নেই। এই জীর্ণ ঘরটুকুই ছিল তার শেষ আশ্রয়, যা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর রূপের সামনে তিনি আজ সম্পূর্ণ একা ও নিরুপায়।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, গত দু-দিন ধরে ঘরের ভেতর পানি বন্দি হয়ে অনাহারে-নির্ঘুমে কাটলেও স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ আজ পর্যন্ত তার দরজায় কড়া নাড়েনি। মেলেনি এক প্যাকেট শুকনো খাবার কিংবা এক বোতল বিশুদ্ধ পানি। দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সরকারি বা স্থানীয় কোনো সহযোগিতার হাত তার দিকে প্রসারিত হয়নি। ক্ষুধার জ্বালা আর ঘরের ভেতর জমে থাকা নোংরা পানির দুর্গন্ধে কাতর মঞ্জুরা বেগম আজ সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষদের দিকে চেয়ে আছেন। বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মঞ্জরা বেগমের এক প্রতিবেশী গিয়াসউদ্দিন বলেন, প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর থাবার সামনে এই অসহায় বৃদ্ধা এখন সম্পূর্ণ নিরুপায়। স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন- অতি দ্রুত এই অসহায় মঞ্জুরা বেগমের সহায়তায় এগিয়ে আসুন।
রাজু দাশ/এসএন