ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
১২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই ১৪ ম্যাচ পর থামলেন গোলমেশিন হালান্ড বিশ্বকাপের নতুন সুপারস্টার, যার বয়স মাত্র ৩ বছর! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা কেন কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলছে আর্জেন্টিনা? ১০ মিনিটেই এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা বেলিংহাম ঝলকে নরওয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড আবারও বেলিংহামের গোল, নরওয়ের বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ হালান্ডের কারণে বাতিল হলো নরওয়ের দ্বিতীয় গোল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাট্টিন আর নেই বেলিংহামের গোলে সমতায় ফিরে বিরতিতে ইংল্যান্ড শেলদেরুপের গোলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে নরওয়ে সকালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, খেলা মোবাইলে দেখবেন যেভাবে ৭ মিনিট ছিলেন মৃত, ফিরে এসে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েন সোলবাক্কেন মাঠে নামছে ইংল্যান্ড-নরওয়ে, একাদশে আছেন যারা বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফেরার পর তারকা ফুটবলারের মৃত্যু আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে পর্তুগিজ রেফারি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কলম্বিয়ার ফুটবলারকে হত্যার হুমকি ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মানেনি, অভিযোগ আরাঘচির নেতানিয়াহুর ছেলে বদলে ফেললেন নিজের নাম টানা বর্ষণে আগামীকালও বন্ধ থাকবে চবির সব পরীক্ষা বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা ৬ রেকর্ডে শুরু জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রবিবার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স), এমএ এবং এলএলবি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। 

১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন।

ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গঠিত জাগদলে যোগ দেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি দুই দফায় জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। সবশেষ অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

জমির উদ্দিন সরকার একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দিনাজপুর-১, ঢাকা-৯, পঞ্চগড়-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হাইকোর্টের যেসব আইনজীবী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নূর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে তার স্ত্রী মারা যান। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

রাজনীতি, আইন, সংসদীয় কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান, পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন, দি ল অব দ্য সি এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি।

অমিয়/

ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

‘সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারাবিশ্বে তাৎক্ষনিক সংযোগ স্থাপন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। বাক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাক সংযমও থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মোঃ এমদাদ উল বারী এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ শিরোনামে আয়োজিত ছায়া সংসদে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

 শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কপোর্রেশনে (এফডিসি) এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন–ডেসটিনি, ইভ্যালি’র মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে।

এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতার অন্য অংশগ্রহনকারি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধুচক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধুচক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাংচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরো বলেন, ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরো কঠোর হতে হবে।

মাহমুদুল আলম/এসএন

বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
রাঙামাটিতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ছবি: খবরের কাগজ

বন্যা ও পাহাড়ধসের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি। তিনি বলেন, মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙামাটা শহরের লোকনাথ মন্দিরে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় খোলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বন্যা ও পাহাড়ধসে পারমানেন্টলি কিছু করতে পারবো না। কারণ পাহাড় তো ধসে যখন- আমরা মানুষরা একটা আকাম করি, গাছ কেটে ফেলি, নিচ থেকে মাটি সরায়ে ফেলি; তখন পাহাড় ধসে। পাহাড় তো এতো হাজার হাজার বছর ধসে নাই। তো এখন ধসে কেন। এখন প্রকৃতির ওপর মানুষ হাত দিয়ে প্রকৃতি নষ্ট করেছে। তারপরও এগুলো একটা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। অবশ্যই এটা আমরা দেখবো। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এটা দেখতে হলে-আগে হুট করে ওখানে কয়েকটা বাঁশ গেড়ে দিতাম, সেটা করলে হবে না। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথোরিটি চিন্তা করে ডিজাইন করে করুক, আস্ত আস্তে আমরা এগুলো আগাই। সেই সঙ্গে আমাদের জনগণকে সচেতন হতে হবে আমরা যেন পরিবেশ নষ্ট না করি। পরিবেশ নষ্ট না হলে কোন কিছুই হবে না।

এসময় প্রতিমন্ত্রী পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের অন্যত্র পুনর্বাসনের বিষয়ে বলেন- 'ওইটাও আমরা চিন্তা করছি। আমাদের মিনিস্ট্রির অনেক জায়গা আছে। আমরা লাগলে ওখানে তাদের নিয়ে যাব। একটু সময় দিতে হবে। আগে দুর্যোগটা শেষ করে নেই'।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ, তাদের খাবার দাবার যতদিন লাগে দেবো। তিনমাস হলে তিনমাস। তাদেরকে পুনর্বাসন করার জন্য আমরা চেষ্টা করবো-গরু ছাগল দিতে হলে দেবো। ঘরবাড়ি বানানোর জন্য টিন দেবো।কিন্তু টিনগুলো আমাদের হাতে নাই। নতুন অর্থ বছরে আমরা দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো। আমাদের পুরো সরকার এ ব্যাপারে পজিটিভ। কাজেই এটা হবেই'।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান- এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।

সরকারের এই মুখপাত্র জানান, ‘গতকালই (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকালও (রোববার) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ইউএনও, ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুরো দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।’

আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অবিরত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, ‘উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপের দংশন মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও ওষুধসহ মেডিকেল টিম মোবিলাইজ করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরপরই রাস্তা ও রেলপথ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালী, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা ১ হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মূলত রেসকিউ (উদ্ধার), রিলিফ (ত্রাণ) এবং রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) এই তিনটি ফেজ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। দুর্যোগের এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গভীর মমত্ববোধ নিয়ে সরকার মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুতই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদত হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবি ১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ
বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১১ জুলাই) বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১২২টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার এবং ৮০টি  পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিজিবির দায়িত্বশীলরা। 

বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার আলীকদম ব্যাটালিয়নের (৫৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা এবং বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ৭৫ থেকে ৮০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রেয়াম্বু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৬টি পরিবার, নজির মেম্বারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭টি পরিবার এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেওয়া ২২টি পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির সহায়তা। ছবি: সংগৃহীত

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি আলীকদম ব্যাটালিয়ন বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী মানুষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি সদর দপ্তর।

অন্যদিকে বিজিবি বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিলের সেক্টর দপ্তরের সদস্যরা বান্দরবান জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এলাকার বন্যাদুর্গত ১২২টি পরিবারকে নিরাপদে উদ্ধার করে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল এবং ক্রাইক্ষংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

আলমগীর হোসেন/এসএন

পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশীদ রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি ও মন্দির কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ বানেশ্বর আমবাজারও ঘুরে দেখেন। সেখানে বিভিন্ন জাতের আম দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রতিনিধি দলের জন্য প্রায় ১৯৫ কেজি আম কেনেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশীদ সফরসঙ্গীদের নিয়ে দূতাবাসের গাড়িযোগে পুঠিয়া রাজবাড়ি চত্বরে পৌঁছান। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। পরে প্রতিনিধি দলটি পুঠিয়া রাজবাড়ি, গোবিন্দ মন্দির, আহ্নিক মন্দির ও বড় শিব মন্দির ঘুরে দেখেন। সফরকালে তারা প্রতিটি স্থাপনার ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজবাড়ি ও মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান করে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আমবাজারে বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীরা।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে বানেশ্বরের 'বাণী ফল ভান্ডার' থেকে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের মোট প্রায় ১৯৫ কেজি আম কেনেন তারা। বিদেশি কূটনীতিকদের এই আগ্রহে খুশি হন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, এ ধরনের সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করে তুলবে।

রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন তার আত্মীয়া সারাহ মাউরুফ আমির, দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব সায়া মোহামেদ ও মাইশান আহমেদ, পরিবারের সদস্য নাজরা মারিয়াম, মোহামেদ হুসাম ও মুসলিমা আমিনাথ। এছাড়া রাষ্ট্রদূতের সন্তান মোহামেদ লুথ নিশাম এবং দ্বিতীয় সচিব সায়া মোহামেদের সন্তান মোহামেদ ইভানও সফরে অংশ নেন। 

এনায়েত করিম/এসএন