ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। ফলে এখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা হবে। দুই অর্ধে ১৫ মিনিট করে ৩০ মিনিট খেলবে দুই দল। এই সময়ে কোনো ফল না আসলে সেমিফাইনালে উঠার ভাগ্য নির্ধারিত হবে টাইব্রেকারে।
শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম। এরপর হ্যারি কেইনের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে নরওয়ের বক্সের বাইরে ফাউলের শিকার হন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে ফ্রি-কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
এরপর ইংলিশ রক্ষণভাগে একাধিক আক্রমণ চালায় নরওয়ে। তাতে ৫৭ মিনিটে জালের দেখাও পায় তারা। কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করে নরওয়ে। প্রথমে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড শট ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল চলে যায় তোরবইয়র্ন হেগেমের কাছে। তিনি জোরালো শট বল পাঠিয়ে দেন জালে। তাতে আবারও উল্লাসে মেতে উঠে নরওয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর মনিটর দেখে নরওয়ের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। মূলত গোলের আগের মুহূর্তে বক্সের ভেতর এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দেন আর্লিং হালান্ড। ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে পুনরায় নরওয়েকে কর্নার নিতে বলেন রেফারি। তবে কর্নার থেকে পরবর্তীতে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আরও একবার হতাশ হতে হয় নরওয়েকে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে আসেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি, সেটি আবারও বক্সে ফিরে আসে।
সুযোগ পেয়ে হেড করেন ক্রিস্টোফার আজের। তার হেডে বল আঘাত হানে ক্রসবারে। ফিরতি বলে হেড নেওয়ার চেষ্টা করেন সান্দের বের্গে, তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বুকায়ো সাকা দারুণ এক বাঁকানো ক্রস পাঠান বক্সের মধ্যে। কিন্তু বলটি হ্যারি কেইনের মাথার সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। পেছনের পোস্টে থাকা এলিয়ট অ্যান্ডারসনও শেষ পর্যন্ত বলের নাগাল পাননি। তাতে পোস্ট ঘেঁষে বলে চলে যায় বাইরে।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আরও একটি সুযোগ তৈরি করেন সাকা। ডান দিক থেকে তিনি বক্সের মধ্যে একটি নিখুঁত পাস বাড়ান, কিন্তু নরওয়ের রক্ষণভাগ শেষ মুহূর্তে বলটি ক্লিয়ার করে। তাতে বড় একটি সুযোগ হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের।
যোগ করা সময়ে (৯০+১ মিনিট) ইংল্যান্ডের ডেস্টিনি উডোজি স্পেন্স দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ডকে চাপ দেন। নিলান্ড বল ক্লিয়ার করতে শট নিলে তা স্পেন্সের পায়ে লেগে পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর জন স্টোনসের একটি ক্রস বক্সে পেয়ে হেড নেন বেলিংহাম। কিন্তু তা লক্ষ্যে ছিল না, পোস্টের পাশ দিয়ে বল চলে যায় বাইরে।
এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হয়। ফলে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল ম্যাচটি। তাতে ফল না আসলে টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
এসজি/