বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে পঞ্চম হয়ে আসর শেষ করেছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। পরের সংস্করণে শেষ ষোলোতে থামা কলম্বিয়ার পজিশন ছিল ৯ নাম্বারে। এর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দর্শকের আসনে ছিল দলটি। চার বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আরও একবার শেষ ষোলোতে থেমেছে তাদের যাত্রা। এ বছর ১০তম স্থানে থেকে বৈশ্বিক ইভেন্ট শেষ করেছে কলম্বিয়া।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দলটির ফুটবলার জামিনতন ক্যাম্পাজ হত্যার হুমকি পেয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফসিএফ) জানায়, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে কখনোই ভয়ভীতি বা হুমকির মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়।’
গত মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয় কলম্বিয়ার। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টাইন ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে খেলা ক্যাম্পাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। তার শট পোস্টের বাইরে চলে যায়। এর পর ইনস্টাগ্রামে নিজের মুখ ঢেকে হতাশ হয়ে থাকা একটি ছবি পোস্ট করেন ক্যাম্পাজ। সেই সঙ্গে সবাইকে সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, ‘ফুটবল মানেই শুধু আনন্দ নয়, কঠিন মুহূর্তও এর অংশ। আমার কলম্বিয়া, দয়া করে আমরা যেন কখনোই সম্মানবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, হতাশা বা দুঃখ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার কারণ হতে পারে না।’
হয়রানির ঘটনার পর কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। ফেডারেশন আরও বলেছে, ‘ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, সম্মান ও আশার জায়গা। এটি কখনোই ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার ক্ষেত্র হতে পারে না।’ একই সঙ্গে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফেডারেশন বলেছে, মাঠের হতাশা যেন কখনো বাস্তব জীবনের আগ্রাসন বা সহিংসতায় রূপ না নেয়।