আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাট্টিন মারা গেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
রাট্টিনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে তার সাবেক ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, ‘আমাদের ক্লাবের কিংবদন্তি ও প্রতীক আন্তোনিও উবালদো রাট্টিনের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি। এই কঠিন সময়ে আমরা তার পরিবার ও স্বজনদের পাশে আছি। বিদায়, রাতা।’
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন রাট্টিন।
এক দশকেরও বেশি সময় আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন রাট্টিন। এই সময়ে ৩২টি ম্যাচে দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্বভার ছিল তার কাঁধে। তবে সেই আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ঘটনা তাকে ফুটবল ইতিহাসে আলোচিত করে তোলে।
ম্যাচটিতে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন রাট্টিনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তটি বুঝতে না পেরে তিনি কয়েক মিনিট মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং একজন দোভাষীর জন্য অপেক্ষা করেন।
পরে মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা কুঁচকে দেওয়া এবং রানি এলিজাবেথের জন্য সংরক্ষিত লাল কার্পেটে গিয়ে বসে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।
এই ঘটনার পর ফুটবলে রেফারিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। ফিফার তৎকালীন রেফারিজ কমিটির প্রধান কেন অ্যাস্টন ট্রাফিক সিগন্যালের আদলে হলুদ ও লাল কার্ড ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। এতে হলুদ কার্ড সতর্কবার্তা এবং লাল কার্ড বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে চালু হয়, যা আজও বিশ্ব ফুটবলে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এসজি/