ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।’
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে উদ্দেশ্য করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধে শহিদ সবার রক্তের প্রতিশোধ আমরা নেব বলে অঙ্গীকার করছি।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এই অপরাধীদের নাম ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আমাদের জানা এবং নথিভুক্ত রয়েছে। তারা যেন বার্ধক্যে বিছানায় শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর আশা নিয়ে কবরে না যায়। তাদের জানা উচিত, এই প্রতিশোধ আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা থাকি বা না থাকি, খুব শিগগিরই এই অঙ্গীকার পূরণ করা হবে।’
ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব তাকে লক্ষ্যবস্তু করলে দেশটির ‘প্রতিটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’। এর কয়েক ঘণ্টা পরই মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্বের কিছু অংশ ট্রাম্পকে হত্যার ইচ্ছা পোষণ করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে ট্রাম্পকে হত্যার কোনো নতুন বা নির্দিষ্ট ইরানি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন ইরানি গোষ্ঠীর এমন ইচ্ছা নিয়ে চলমান আলোচনা বা গুঞ্জনের তথ্যই পাওয়া গেছে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা, মা ও স্ত্রী নিহত হওয়ার সময় তিনি আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। সমর্থকদের সঙ্গে কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। শনিবারের বিবৃতিটি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবার প্রকাশিত কয়েকটি বার্তার অন্যতম।
মামলা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুমকি ইরানি বিচারবিভাগীয় প্রধানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের অঙ্গীকার করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসন আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করেছে।’
ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ তার বরাত দিয়ে জানায়, ‘আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অপরাধীদের শুধু শাস্তিই নয়, তাদের সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।’
আইএসএনএ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে মোহসেনি-এজেই অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে তিনি বলেন, ‘জায়নবাদীরা প্রায় আট দশক ধরে ফিলিস্তিন ও লেবাননে গণহত্যা ও শিশু হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। এই নৃশংস জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব। তাদের বিরুদ্ধে যেখানে প্রতিরোধের পতাকা উড়বে, সেখানে সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে আমরা দ্বিধা করব না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘অপরাধীদের নিশ্চিতভাবে জানতে হবে, তারা ইরানি জাতির যে ক্ষতি করেছে, তার ক্ষতিপূরণও আমরা তাদের কাছ থেকে আদায় করব।’ সূত্র: সিএনএন ও ডন