ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চার দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সিরিজ সম্পন্ন করল ইউল্যাব চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন বায়ুদূষণ সচেতনতায় স্বীকৃতি পেলো দুরন্ত বাইসাইকেলের ‘বিষবায়ু’ যুদ্ধের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বাড়িয়েছে ইরান টরন্টোর সালসা উৎসবে গোলাগুলি, নিহত ২ সাতকানিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সেমিফাইনালের সম্পূর্ণ সময়সূচি রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু দুই বছরে ৩৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ স্পেনের সামনে আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনা কি আবার শুরু হবে? বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার বাবা হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে এমবোলোকে লাল কার্ড কেন? কচুয়া-বেতাগী সেতু: নকশা জটিলতায় অপচয় শতকোটি ভোজিনহার নামে নতুন প্রজাতির নামকরণ পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার সব দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে

ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে বিদায় নিয়েও গতিময় ও সাহসী ফুটবল উপহার দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইসরা। গ্রানিত জাকা, ড্যান এনদোয়ে ও ব্রিল এমবোলোর গতিতে বারবার চাপে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় একাধিক সুযোগ নষ্ট হয় তাদের।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়।

ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। 

এরপরও বলের দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে বেশির ভাগ সময় এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। দ্রুত আক্রমণ, ছোট ছোট পাস এবং সংগঠিত ফুটবলে তারা আর্জেন্টিনাকে বেশ অস্বস্তিতে রাখে।

সেই চাপেরই ফল আসে ৬৭ মিনিটে। রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে গোল করেন ড্যান এনদোয়ে। গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মাত্র কয়েক মিনিট পর। প্লে-অ্যাকটিংয়ের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। ৭২ মিনিট থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় সুইজারল্যান্ড। এরপর তারা রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়, আর আর্জেন্টিনা আক্রমণের চাপ বাড়ায়।

নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি মেসিরা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমে মেসির শট ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি আক্রমণ সামাল দিতে পারেননি সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।

অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্টিনেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আলমাডার প্রচেষ্টা প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে ভুল করেননি মার্টিনেজ।

জয় পেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচে এগিয়ে থেকেও গোল হজম করেছিল স্কালোনির দল। একই প্রবণতা এবারের বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডও সেই দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

এ ছাড়া আক্রমণে অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতাও আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেমিফাইনালের আগে তাই জয় যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনি স্কালোনির সামনে রেখে গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও।

ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের
ছবি: সংগৃহীত।

হারের ক্ষত কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন নরওয়ের কোচ স্টেলে সোলবাকেন। অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে।

তবে এই হারের পেছনে ভাগ্যের চেয়ে মাঠের প্রযুক্তির দায় দেখছেন নরওয়ে কোচ। তার দাবি, জুড বেলিংহামের প্রথম গোলের আগে বলটি মাঠের ওপরে থাকা স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল।

প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান নাইল্যান্ড বল ক্লিয়ার করতে শট নেন। সোলবাকেনের দাবি, বলটি ওপরে থাকা ক্যামেরা ক্যাবলে আঘাত করে। এতে বলটির গতিপথ হঠাৎ বদলে যায়। দিক হারানো বলটি সরাসরি গিয়ে পড়ে এক ইংলিশ খেলোয়াড়ের পায়ে। সেখান থেকেই আক্রমণ গড়ে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম।

প্রথমার্ধের বিরতির সময়ই ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ করেন সোলবাকেন। তবে মাঠের রেফারি বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-কেউই এই দাবি আমল নেননি। তারা জানান, এমন কোনো ঘটনা তাদের ক্যামেরায় শনাক্ত হয়নি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ে কোচ বলেন, ‘বলটি আকাশ থেকে একেবারে সোজা নিচে নেমে আসে। তা দেখেই মনে হয়েছে এটি কোনো কিছুর সঙ্গে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল। এর ফলে আমাদের ডিফেন্ডারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে এখন আর কিছু করার নেই। ম্যাচ তো আর পুনরায় খেলা হবে না।’

পাপ্পু/এএফ

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে?

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে?
ছবি: এআই

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালের মহারণ চূড়ান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ে আলবিসেলেস্তেরা আরও দুটি গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয়।

অন্যদিকে, দিনের অপর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে পা রাখে ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন জুড বেলিংহাম।

আজহার/

ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে বিদায় নিয়েও গতিময় ও সাহসী ফুটবল উপহার দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইসরা। গ্রানিত জাকা, ড্যান এনদোয়ে ও ব্রিল এমবোলোর গতিতে বারবার চাপে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় একাধিক সুযোগ নষ্ট হয় তাদের।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়।

ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। 

এরপরও বলের দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে বেশির ভাগ সময় এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। দ্রুত আক্রমণ, ছোট ছোট পাস এবং সংগঠিত ফুটবলে তারা আর্জেন্টিনাকে বেশ অস্বস্তিতে রাখে।

সেই চাপেরই ফল আসে ৬৭ মিনিটে। রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে গোল করেন ড্যান এনদোয়ে। গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মাত্র কয়েক মিনিট পর। প্লে-অ্যাকটিংয়ের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। ৭২ মিনিট থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় সুইজারল্যান্ড। এরপর তারা রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়, আর আর্জেন্টিনা আক্রমণের চাপ বাড়ায়।

নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি মেসিরা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমে মেসির শট ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি আক্রমণ সামাল দিতে পারেননি সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।

অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্টিনেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আলমাডার প্রচেষ্টা প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে ভুল করেননি মার্টিনেজ।

জয় পেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচে এগিয়ে থেকেও গোল হজম করেছিল স্কালোনির দল। একই প্রবণতা এবারের বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডও সেই দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

এ ছাড়া আক্রমণে অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতাও আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেমিফাইনালের আগে তাই জয় যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনি স্কালোনির সামনে রেখে গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও।

ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল
ছবি: সংগৃহীত

স্বরলিপি থেমে যাবে। এই স্বরলিপি গানের সুরের নয়। এই স্বরলিপি ফুটবলের সবুজ গালিচার। এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকে একের পর এক চমকপ্রদ স্বরলিপি তথা মনোমুগ্ধকর নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করে নিয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। কিন্তু এই দুই দলের আর টিকে থাকার উপায় নেই।  ফাইনালের ভিসা পেতে লড়বে দুই দল। যেকোনো এক দলের বিদায় ঘটবে। বিদায়ের মঞ্চ সেমিফাইনাল। কিন্তু দুই দলের এই লড়াইকে ফুটবল বোদ্ধারা ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

সাধারণ দৃষ্টিতে যেকোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে আসে সেরা চারটি দলই। সেই চার দলের জয়ী দুই দল খেলে ফাইনালে। কাজেই সেমিতে আসা চারটি দলকে শক্তির বিভাজনে আলাদা করার কোনো উপায় নেই। সবাই সেরা। সবাই শিরোপার দাবিদার। তারপরও ফ্রান্স-স্পেনের সেমিফাইনাল ফুটবল বিশ্বে আলাদাভাবে নজর কেড়ে নিয়েছে। এই কেড়ে নেওয়ার কারণও আছে। দুটি দলই ফিফা র‌্যাংঙ্কিয়ে একেবারে ওপরের দিকে। ফ্রান্স এক নম্বর, স্পেন তিন নম্বর। এই দুই দলের মাঝে আছে আবার আর্জেন্টিনা। 

ফ্রান্স-স্পেন শুধু ফিফা র‌্যাংঙ্কিয়ের কারণেই যে মুখোমুখি হওয়ার আগে আলোচনায় এসেছে তা কিন্তু নয়। এবারের আসরে দুই দলের খেলোয়াড়দের সুরের ঝঙ্কার তোলা নৈপুণ্য দর্শক হৃদয় কেড়ে নিয়েছে। ফ্রান্সের এমবাপ্পে যেন ফুটবলের শিল্পী হয়ে উঠেছেন। তার গোল করার পারদর্শিতা আর দুরন্ত গতি ফুটবলপ্রেমীরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছেন। কী গ্রুপ পর্ব, কী নকআউট পর্ব? এমবাপ্পের গোল করার নেশা যেন কমছেই না। ৭ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখন মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোন্ডে বুটের লড়াইয়ে। দেম্বেলের চুপিচারে গোল করাও অনেককেই মুগ্ধ করেছে। আছে তার একটি হ্যাটট্রিকও। এ ছাড়াও  মাইকেল অলিসে, ব্রাডলি বারকোলা, দুয়ে, উইলিয়াম সালিবা, কুন্দে, হার্নান্দেজ, রাবিওট, চুয়ামেনিরা দর্শকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফ্রান্স যখন আক্রমণে যায়, দেখে মনে এক ঝাঁক বক ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। এবারের আসরে ফ্রান্স এখন পর্যন্ত  ১৬ গোল করেছে। হজম করেছে ২টি। এ পর্যায়ে আসতে তাদের সামনে কোনো দলই বাধার প্রাচীর হয়ে উঠতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স ৩-১ গোলে সেনেগালকে, ৩-০ গোলে ইরাককে, ৪-১ গোলে নরওয়েকে পরাস্ত করে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠে আসে নকআউট পর্বে। এখানে তারা যেন আরও দুর্দান্ত। টানা তিন ম্যাচ খেলে কোনো গোল হজম করেনি। সুইডেনকে ৩-০, প্যারাগুয়েকে ১-০ এবং মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে  টানা তৃতীয়বার সেমিতে পা রেখে স্পেনকে মোকাবিলা করার অপেক্ষায় দেশমের শিষ্যরা। জিতলে টানা তৃতীয়বারের মতো খেলবে ফাইনাল।

ফ্রান্সের মতো রাজকীয় শুরু হয়নি স্পেনের। হোঁচট খেয়ে শুরু করতে হয়েছিল। নবাগত কেপ ভার্দে স্পেনের নান্দনিক ফুটবল শৈলী রুখে দিয়ে কোনো গোল করতে দেয়নি। এই কেপ ভার্দে পরে অবশ্য একের পর এক চমক দেখিয়েছিল। শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা নকআউট পর্বে সুযোগ করে নেয়। নকআউট পর্বে স্পেনকে অবশ্য কঠিন প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ বত্রিশে তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর পর শেষ ষোলোতে পায় রোনালদোর পর্তুগালকে।  জয়ী হয় ১-০ গোলে। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে পায় বেলজিয়ামকে। বাধা অতিক্রম করে ২-১ গোলে জয়ী হয়। 

বিশ্বের অন্যতম সেরা লা-লিগার একাধিকবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার  ৮ জন, অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদের ৩ জন, অ্যাথলিটিক বিলবাওয়ের ৩ জন, অন্যান ক্লাবেরও আছে একজন করে। সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য লিগে খেলা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এবার নতুন করে আবার শিরোপার জাল বুনন করেছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের মাঝে তরুণ ইয়ামালে, সঙ্গে কুকুরেয়া,  রদ্রি, গাভি, পেদ্রি,  রুইস, মেরিনো, গার্সিয়া, ওলমো, ওয়ারজাবাল, সিমনের মতো ক্লাব ফুটবল মাতানোরা বিশ্বকাপেও দর্শকদের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। এমবাপ্পে-দেম্বেলের মতো  স্পেনের খেলোয়াড়রা গোলের পর গোল করে যেতে পারেননি। কিন্তু প্রয়োজনের সময় তাদের যে কেউ গোল করে দলকে জয়ী করে আনছেন। স্পেনের ১১ গোল করেছেন ৬ জন খেলোয়াড়। ওয়ারজাবাল একাই করেছেন ৪ গোল। মেরিনো করেছেন ২ গোল। বাকি গোলগুলো এসেছে একেকজনের কাছ থেকে। স্পেনের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় ইয়ামালে করেছেন মাত্র এক গোল। কিন্তু তিনি এক গোল করলেও সারাক্ষণ প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন। আসরে আলোচিত ফুটবলারদের মাঝে তিনিও একজন। 
এমনই তারকায় ভরপুর দল দুটির সেমিতে উঠার লড়াই সবার কাছে হয়ে উঠেছে তাই ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘ফাইনালের আগেই এটি একটি ফাইনাল। স্পেন ও ফ্রান্স দুই দলই খুবই অসাধারণ খেলছে।  টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপার দাবিদার। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও সত্য যে, এই ম্যাচ থেকে একটি দল ফাইনালে উঠতে পারবে।’ বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোয়া মনে করেন ফ্রান্স-স্পেনের জয়ী দলই চ্যাম্পিয়ন হবে। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালে যে দল জয়ী হবে, তারাই হবে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়ন।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স-স্পেন সেমিতে এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এটিই তাদের সেমিতে প্রথম সাক্ষাৎ নয়। এর আগে দুইবার সেমিতে মুখোমুখি হয়েছে। দুইবারই জিতেছে স্পেন। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল উয়েফা নেশনস লীগের সেমিফাইনালে। স্পেন জয়ী হয়েছিল ৫-৪ গোলে। ফলাফল দেখে মনে হবে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই এই রকম গোল বন্যার ম্যাচ হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিতে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিতে উঠেছিল ফ্রান্স। প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে স্পেনের জয়ের পাল্লা ভারী। ৩৮ বারের লড়াইয়ে স্পেনের জয় ১৮টি, ফ্রান্সের  ১৩টি। বাকি ৭টি ম্যাচ ড্র হয়। 

১৪ জুলাই ডালাসে ফরাসি সৌরভে সুভাষিত হবে, না স্প্যানিশ সৌন্দর্যে ডানা মেলবে–ফাইনালের আগে আরেকটি ফাইনালে তার ফয়সালা হবে। 

কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করার পর উল্লাস করছেন ড্যান এনডোয়ে (১১)। | ছবি : এএফপি মে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ড্যান এনডয়ে।

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা সুইসদের নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজের সাথে চমৎকার এক 'ওয়ান-টু-ওয়ান' পাসিং কম্বিনেশনে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন এনডয়ে। এরপর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, কঠিন এক কোণ থেকে শট নিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোল।

আজহার/