যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়িয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ এবনে রেজা।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবনে রেজা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিতে তেহরানের বিনিয়োগের ফলেই সংঘাতের সময়ে ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।’
সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, উন্নত প্রযুক্তিতে ইরানের বিনিয়োগ দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’
রেজা জানান, ২০২৫ সালের জুনে হওয়া ১২ দিনের ওই যুদ্ধে ইরানকে অত্যন্ত আধুনিক সামরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সে সময় ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তা করেছিল।
এতসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইরান উভয় যুদ্ধেই সফলভাবে জয়ী হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতের যেকোনো হামলা মোকাবিলা করতে ইরানের সব প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল এর লক্ষ্য।
ওই চুক্তিতে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তবে এই চুক্তি সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
তামান্না রুপা/অমিয়/