নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে নিতে মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরে ঘাটে আসার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেন, ফেরি মহানন্দার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।
তিনি খবরের কাগজকে বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ফেরি ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর সংসদ সদস্যের জন্য ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশ পাই। এমন ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এটি সবসময়ই করা লাগে।
ফেরিতে থাকা যাত্রীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরিটি ২৩ মিনিট পর পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে।
এ বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ঘাটে এসেছেন। তাকে নিতে ঘাটে যেতে হবে। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এমপিকে নিয়ে গন্তব্যে যায় ফেরি।
আবুল কাশেম নামে এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে যায় ফেরি মহানন্দা। ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ঘাটে আসেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি ফেরিতে হাতিয়া যাবেন, তাই ফেরি পুনরায় ঘাটে আনতে বাধ্য করেন।
ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ‘ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানান, ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার জানান, বিকাল সাড়ে ৩টায় ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরি আবার ফিরে আসে এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর আবার এমপিকে নিয়ে গন্তব্যে চলে যায় ফেরিটি।’
ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি এত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন, ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে আমরা ঘাটে ফিরে এমপিকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যাই।’
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইকবাল হোসেন/থিওটোনিয়াস/