জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নামাজের জানাজা রবিবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানায়, জানাজা শেষে সংসদের নির্ধারিত চত্ত্বরে তাকে সমাহিত করা হবে।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স), এমএ এবং এলএলবি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন।
ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গঠিত জাগদলে যোগ দেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি দুই দফায় জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। সবশেষ অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
জমির উদ্দিন সরকার একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দিনাজপুর-১, ঢাকা-৯, পঞ্চগড়-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হাইকোর্টের যেসব আইনজীবী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নূর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে তার স্ত্রী মারা যান। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
তামান্না রুপা/