ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা ভুগতে জানে: আলভারেজ দাউদকান্দিতে পৃথক স্থান থেকে ২ মরদেহ উদ্ধার আমরা চলনসই খেলেছি: লিওনেল স্কালোনি ৬ বিভাগে হতে পারে ভারী বৃষ্টিপাত সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা পাহাড়ের পাদদেশে আর বসতি নয়, পুনর্বাসন করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ সুইজারল্যান্ড কোচ নোয়াখালীতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে স্পিকারের শোক তরুণদের নেতৃত্বেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: হাসনাত মেসি বললেন, ‘আর্জেন্টিনা কখনও বিশ্বাস হারায় না’ সোনারগাঁয় শপিংমল থেকে ১৪৬ মোবাইল চুরি, গ্রেপ্তার ৯ চোর নিজের করা গোল নিয়ে যা বললেন আলভারেজ কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন এমপি হান্নান মাসউদকে নিতে মাঝ নদী থেকে ঘুরল ফেরি যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের প্রযুক্তিবিদকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী কক্সবাজারে পাহাড়ধসে গৃহবধূর মৃত্যু সেমিফাইনালে উঠে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা স্টারমারের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ উপসাগরীয় ৪ দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা পূর্ব চীনে টাইফুন বাভির আঘাত, তাইওয়ানে আহত ১৩৪ সোনারগাঁ থেকে ছিনতাই ২৫ লাখ টাকার সয়াবিন তেল উদ্ধার হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চার দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সিরিজ সম্পন্ন করল ইউল্যাব চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন
ছবি: লেখক কর্তৃক সংগৃহীত

সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফোন করেছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সহধর্মিণী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে আমাদের প্রায়ই কথা হয়। সাহিত্য, স্মৃতি, মানুষ এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন- এসবই আমাদের আলাপের প্রধান বিষয়। কিন্তু এবারের কথোপকথনে একটি বিষয় বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আলাপের এক পর্যায়ে স্বাতী বৌদি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুললেন। তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি খুবই বিনয়ী মানুষ?’

আমি উত্তর দিলাম, ‘বাংলাদেশের মানুষ অন্তত এখন পর্যন্ত তাঁর মধ্যে সেই বিনয়ী আচরণই দেখছেন।’

কথোপকথনটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এর তাৎপর্য আমার কাছে ছিল অনেক বড়। কারণ বিষয়টি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়; বরং এটি ছিল প্রতিবেশী দেশের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনীতি যেমন সীমান্ত তৈরি করে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তেমনি সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বাংলা ভাষা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পদ্মার দুই পারে রাষ্ট্র আলাদা হলেও ভাষা, সাহিত্য, গান, কবিতা এবং সংস্কৃতির আবেগ আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

দুই বাংলার সাহিত্যিকদের পারস্পরিক যোগাযোগের ইতিহাস বহু পুরোনো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীন, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, শঙ্খ ঘোষ- তাঁদের সাহিত্য কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানেনি। পাঠকের হৃদয়ে তাঁরা সমানভাবে স্থান করে নিয়েছেন।

আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে বসবাস করছি। এই সময়ে লক্ষ্য করেছি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়, তখন খুব কম ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখা হয়। বিদেশিদের কাছে আমরা সবাই বাংলা ভাষার মানুষ। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতাই আমাদের যৌথ পরিচয়।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাজ করতে গিয়ে আমি অসংখ্য ভারতীয় ও বাংলাদেশি লেখক, প্রকাশক এবং গবেষকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে প্রতিযোগিতা যেমন আছে, তেমনি সহযোগিতাও আছে। বই বিনিময় হয়, অনুবাদ হয়, যৌথ আলোচনা হয়, নতুন প্রজন্মের লেখকদের পরিচয় ঘটে। এই সাংস্কৃতিক বিনিময়ই ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

এই কারণেই স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন সেটিকে আমি কেবল রাজনৈতিক কৌতূহল হিসেবে দেখি না, বরং এটি দুই বাংলার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের একটি স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।

আজকের বিশ্বে রাষ্ট্রের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ People-to-People Contact বা জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। কূটনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় সফট পাওয়ার। সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, শিল্পকলা এবং ভাষা- এসবই সফট পাওয়ারের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

বাংলাদেশ আজ অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই দুই ধারার মধ্যে যত বেশি আদান-প্রদান হবে, ততই বাংলা ভাষার বিশ্বজনীন অবস্থান শক্তিশালী হবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেক সময় সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও অকারণে প্রভাবিত করে। অথচ ইতিহাস বলে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাহিত্যিকদের মধ্যে সংলাপ কখনো পুরোপুরি থেমে থাকেনি। লেখকেরা সব সময়ই সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন, দেয়াল নয়।

আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতাও তাই বলে। গত চার দশকে ফ্রাঙ্কফুর্টে আমার বাড়িতে দুই বাংলার বহু লেখক, কবি, সাংবাদিক ও শিল্পী অতিথি হয়ে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে মতাদর্শের ভিন্নতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য ছিল; কিন্তু সাহিত্য এবং মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই বিভাজন কখনো মুখ্য হয়ে ওঠেনি।

আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে, কিন্তু ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সম্পর্ক অটুট থাকলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াও টিকে থাকবে।

স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন আমাকে আবারও সেই সত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। একজন আশি-উর্ধ্ব সাহিত্যপ্রেমী মানুষ বাংলাদেশের খবর রাখছেন, নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে জানতে চাইছেন, আবার একই সঙ্গে একটি বইয়ের জন্য আশীর্বাদ করছেন। এই চিত্রটি আমাদের বলে দেয়- রাজনীতির বাইরে আরও একটি বাংলাদেশ আছে, আরও একটি বাংলা আছে; যার পরিচয় সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং সম্পর্ক।

আমরা যদি সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারি, তবে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধ হয়ে পৌঁছাবে। ভাষার যে বন্ধন আমাদের এক করেছে, সেটিই হোক ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজনৈতিক সীমান্ত রাষ্ট্রকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির যে আত্মীয়তা, তাকে কোনো সীমান্ত কখনো বিভক্ত করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

লেখক: জার্মানভিত্তিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত
নিহত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. ইয়াছিন (৪০) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথ শহরে নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ইয়াছিন নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. সুজায়েত উল্যার ছেলে।

নিহতের ভাই মো. নাসির বুধবার রাতে বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রাইভেটকারে মেয়ে ফারহানাকে নিয়ে বাসার গেটে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এ সময় গাড়িতে থাকা বাবা মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ইয়াছিন দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করে আসছেন। সেখানে তার নিজস্ব বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত এক বছর আগে তিনি তার পরিবারকেও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। আমাদের কাছে পরিবারটি কোনো সহযোগিতা চাইলে তা দেওয়া হবে।

ইকবাল হোসেন/আজহার/

ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে গিয়েছিলেন মাদারীপুরের সোহান সরদার (২৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল তার প্রাণ। মাত্র তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করা এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাজুড়ে।

রবিবার (৫ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সোহান সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদি গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইতালির তুরিন শহরে স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সোহান।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তুরিনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, মাত্র তিন মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। নব-দম্পতির সংসার শুরু হওয়ার আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সোহান।

জানা গেছে, ২০২২ সালে লিবিয়া হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছান সোহান। 

পরে ইতালিতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তার আশ্রয় আবেদন (অ্যাসাইলাম) প্রক্রিয়াধীন ছিল।

এদিকে সোহানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা যৌথভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব  খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইতালিতে মাদারীপুরের এক প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রিফাত/

প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট (রুখসা আমল) ইস্যু ও নবায়ন নিয়ে নতুন সুযোগ দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১২ মাসের বেশি সময় পার হয়েছে এবং যেসব কর্মী সৌদি আরবে নতুন যোগদান বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফারের ছয় মাস পার হলেও এখনও ওয়ার্ক পারমিট পাননি, তাদের চলতি পঞ্জিকা বছরের মধ্যেই ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

দূতাবাস জানায়, শ্রম আইন মেনে চলার সংস্কৃতি জোরদার, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশটির শ্রমবাজারে আইন ও বিধি মেনে চলার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অনেক প্রতিষ্ঠান ও কর্মী ইতোমধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীকে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এসএন/

আমিরাতে জরিমানা এড়াতে প্রবাসীদের নিয়ে ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স সেমিনার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
আমিরাতে জরিমানা এড়াতে প্রবাসীদের নিয়ে ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স সেমিনার
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্যাট এবং নতুন করপোরেট ট্যাক্স আইন সঠিকভাবে না মানায় ইতোমধ্যেই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন। মূলত এ উদ্ভূত সংকট থেকে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাতে রাস আল খাইমাহর হিলটন গার্ডেন ইন-এ ‘জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস’ এবং ‘ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। 

সেমিনারে অংশ নেন, ইউএই-এর আসন্ন ই-ইনভয়েসিং কাঠামো, ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, করপোরেট ট্যাক্স এবং বিজনেস প্রসেস অটোমেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দুবাই, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ এবং রাস আল খাইমাহ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অর্থ ব্যবস্থাপক এবং হিসাবরক্ষক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। তিনি এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিশাল এবং প্রাণবন্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটি থাকলেও তাদের আধুনিক কর ব্যবস্থার নিয়মকানুনের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে এর আগে খুব বেশি উদ্যোগ দেখা যায়নি। ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস এবং জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস-এর এই যৌথ প্রয়াস প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ইউএই-এর ডিজিটাল অর্থনীতি এবং নতুন আইনি পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।  

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার।  

কূটনৈতিক কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে আমিরাতের নতুন নিয়মনীতি ও ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা পরিচালনার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন এবং কীভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, তা ব্যাখ্যা করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, রাস আল খাইমাহ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন স্পোর্টস ক্লাবের নির্বাহী চেয়ারম্যান আরিফ ইব্রাহিম আল হারানকি।

সেমিনারে ট্যাক্স এবং কমপ্লায়েন্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুমনা রহমান একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদর্শন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ই-ইনভয়েসিং শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি ব্যবসার স্বচ্ছতা এবং সঠিক কর প্রতিবেদনের একটি বড় মাধ্যম। এখনও যারা সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ করছেন, তারা যে-কোনো সময় অডিট ঝুঁকি, নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে পারেন। ফেডারেল ট্যাক্স অথরিটির (এফটিএ) ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন মেনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে তিনি এখনই সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নের দিকটি তুলে ধরে জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস এর সিইও মোহাম্মদ মাহফুজ উল আলম দেখান কীভাবে আধুনিক ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, করপোরেট ট্যাক্স রিপোর্টিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। ইউএই-এর নির্মাণ খাত, পরিবহন, পোশাক ব্যবসা, আবাসন সামগ্রী কেনা-বেচা, রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি এই জি স্প্রিঙ্ক ইআরপি প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় কর কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, এইচআর ও পে-রোল এবং অ্যাকাউন্টিং একই ছাদের নিচে এনে এই সফটওয়্যারটি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ম্যানুয়াল কাজের চাপ কমিয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। 

সবশেষে, ইউএই-এর দ্রুত অগ্রসরমান ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের আরও দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি/নাঈম

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত
কাদের আহমদ, জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ ও জুবায়ের আহমদ

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

রবিবার (২১ জুন) সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

নিহত প্রবাসীরা হলেন- গাছবাড়ি এলাকার কাদের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং একই গ্রামের জুবায়ের আহমদ।

এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রবাসীরা পিকআপভ্যানে করে তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হন।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অমিয়/