ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ দুই বছরে ৩৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ স্পেনের সামনে আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনা কি আবার শুরু হবে? বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার বাবা হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে এমবোলোকে লাল কার্ড কেন? কচুয়া-বেতাগী সেতু: নকশা জটিলতায় অপচয় শতকোটি ভোজিনহার নামে নতুন প্রজাতির নামকরণ পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার সব দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার ১২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই ১৪ ম্যাচ পর থামলেন গোলমেশিন হালান্ড বিশ্বকাপের নতুন সুপারস্টার, যার বয়স মাত্র ৩ বছর! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা কেন কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলছে আর্জেন্টিনা? ১০ মিনিটেই এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার
ক্যাটারিনা হারসিমভ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক সেন্টার ফর ট্রফোব্লাস্ট রিসার্চের নিয়াকান পরীক্ষাগারে বেস সম্পাদনা করছেন

মানবভ্রূণের ডিএনএ পরিবর্তনের এক নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী। ল্যাবরেটরিতে করা এই গবেষণাটি গত ২৫ জুন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ন্যাচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

বংশগত মারাত্মক রোগগুলো পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিন এডিটিং ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এতে বহু রোগীর জীবন রক্ষা ও কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হলেও তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করার ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহল মানবভ্রূণের ডিএনএ পরিবর্তন বা ‘হিউম্যান জার্মলাইন এডিটিং’ করাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের দুটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এখন নজিরবিহীন নিখুঁত উপায়ে মানবভ্রূণের ডিএনএতে পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা ইঙ্গিত করে যে অদূর ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি চিকিৎসাক্ষেত্রে সফল হতে পারে। অবশ্য বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মানবভ্রূণ নিরাপদে সম্পাদনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রোডাক্টিভ সায়েন্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আমান্ডার ক্লার্ক বলেন, ‘ছয় বছর আগেও আমি ভেবেছিলাম মানবভ্রূণে জিন এডিটিংয়ের ব্যবহার করা অসম্ভব। তবে এই নতুন কাজটি ভবিষ্যতে আইভিএফ বা টেস্টটিউব ভ্রূণের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জিন এডিটিংয়ের সম্ভাবনাকে আবার জাগিয়ে তুলেছে।’

সাধারণত গবেষণাগারে মানবভ্রূণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অধিকাংশ দেশেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। আইভিএফ রোগীদের সম্পাদন করা ভ্রূণ তৈরির পর সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত গবেষণার অনুমতি দেওয়া হয়। তা ছাড়া জিন সম্পাদিত শিশুদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা ইতিবাচক, তাও এখনো স্পষ্ট নয়। চিকিৎসার সুরক্ষার বাইরেও এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট গুণাগুণসমৃদ্ধ ‘ডিজাইনার বেবি’ বা কৃত্রিমভাবে নিখুঁত শিশু তৈরির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নৈতিক উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে বহুল ব্যবহৃত ‘ক্রিসপার-ক্যাস৯’ প্রযুক্তিটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় বিপ্লব ঘটিয়েছে, যার জন্য ২০২০ সালে দুই বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। এমনকি ২০২৩ সালে মার্কিন এফডিএ সিকল সেল রোগের চিকিৎসার জন্য এই প্রযুক্তির দুটি থেরাপির অনুমোদন দেয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটালেও ক্রিসপার প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যখন এটি মানবভ্রূণে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি জিনের গঠনে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বড় ধরনের পরিবর্তন করে দিতে পারে, এমনকি পুরো ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় ক্ষতিও হতে পারে।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণেই ২০১৮ সালে চীনা গবেষক হে জিয়ানকুই যখন ক্রিসপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এইচআইভি প্রতিরোধী যমজ শিশুর জন্ম দেওয়ার দাবি করেন, তখন বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। ২০১৯ সালে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জিনের গঠনকে আরও নিখুঁতভাবে পরিবর্তনের জন্য বিজ্ঞানীরা এখন ‘বেস এডিটিং’ নামক একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এটি ডিএনএর অতি ক্ষুদ্র একক বা বেস স্তরেও সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে এক কিশোরীর লিউকেমিয়া চিকিৎসায় প্রথমবার এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক এই চিকিৎসা পান। গত বছর একটি শিশু মারাত্মক সিপিএস১ ঘাটতি নিয়ে জন্ম নিলে চিকিৎসকরা এই প্রযুক্তির সাহায্য নেন।

এখন দুটি নতুন গবেষণায় আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে পাওয়া মানবভ্রূণের প্রাথমিক স্তরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় গবেষক দলই দেখেছে যে, এই প্রযুক্তির নিখুঁত কার্যকারিতা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্রোমোজোমের ত্রুটির ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। সূত্র: সিএনএন

এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়?

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়?
ছবি সিএমজি

জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শ্রেণিকক্ষ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদিকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তাদের এমন একটি প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুত করছে যা ভবিষ্যতে ক্রমেই আরও অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
সম্প্রতি শিশুদের এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ (ইউএন) এআই ব্যবস্থার জন্য শিশু-নিরাপত্তা সংক্রান্ত আরও কঠোর বিধি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীরা কখন এবং কীভাবে এআই ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়ে নীতিমালা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি জেনেভায় ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগেই এআই তাদের জীবনে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি খেলনা শিশুর হাতে পৌঁছানোর আগে আমরা পরীক্ষা করি। কিন্তু এআই তাদের পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, এমনকি তাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বিষয়ের  মধ্যেও এর প্রভাব কী হবে সেই প্রশ্ন তোলার আগেই তা শিশুদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে সাধারণভাবে এআই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সঙ্গে এআই ব্যবহার করতে পারবে। তবে তার আগে শিক্ষকদের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপযুক্তভাবে এআই ব্যবহার শেখানো হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
ফ্রান্সও ২০২৫ সালে একই ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করেছে। দেশটির সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আনুমানিক অষ্টম শ্রেণির সমমানের ‘ফোর্তিয়েম’ থেকে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করতে পারবে। তবে তা অবশ্যই সীমিত, তত্ত্বাবধানের অধীন, ব্যাখ্যাসহ এবং শিক্ষকের নির্দেশনায় হতে হবে।
নরওয়ে জানিয়েছে, বহু বছর ধরে অতিরিক্ত পর্দানির্ভর শিক্ষা ও ডিজিটাল উপকরণের ব্যবহারের পর মৌলিক শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এআই ব্যবহারে এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। সরকারের মতে, দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার ফলাফল এবং পড়া, লেখা ও গণনার মতো মৌলিক দক্ষতা কমে যাচ্ছে। তাই এআই ও পর্দার অযাচিত ব্যবহার কমিয়ে, ছাপা বইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে এবং মৌলিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সর্বশেষ ‘ডিজিটাল এডুকেশন আউটলুক’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের ৭২ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এআই শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাজ হিসেবে এআই-তৈরি লেখা জমা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে শিক্ষাগত সততা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এআই যখন দৈনন্দিন জীবনের গভীরে প্রবেশ করছে, তখন শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি এ থেকে দূরে রাখা ক্রমেই অবাস্তব হয়ে উঠছে।
তবে শুধু শ্রেণিকক্ষে তত্ত্বাবধানের মধ্যেই সমস্যার সমাধান সীমাবদ্ধ নয়। জেনেভায় গুতেরেস শিশুদের জন্য উন্মুক্ত সব ধরনের এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ‘এআই চাইল্ড সেফটি প্লেজ’ বা শিশু-নিরাপত্তা অঙ্গীকার গ্রহণের আহ্বান জানান।
তার মতে, শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত যেকোনো উপাদানের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ এআই যেন শিশুদের যৌনায়িত ছবি তৈরি করতে না পারে এবং এ ধরনের বিষয়বস্তু শনাক্ত, প্রতিবেদন ও অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র: সিএমজি বাংলা

ব্যাপক পরিসরে মানবসদৃশ রোবট ব্যবহারের দিকে চোখ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
ব্যাপক পরিসরে মানবসদৃশ রোবট ব্যবহারের দিকে চোখ
চায়নিজ কর্মী রোবট।

২০২৬ সালকে ‘এমবডিড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র বাণিজ্যিক ব্যবহারের সূচনাবর্ষ হিসেবে উল্লেখ করে শাংহাই-ভিত্তিক রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাজিবটের কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি বছরে এ খাত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের ধাপ অতিক্রম করে বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক প্রয়োগের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে অ্যাজিবটের অংশীদার ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াও মাওছিং বলেন, এ রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পখাত পরীক্ষামূলক গ্রাহক প্রকল্প থেকে পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ব্যবসায়িক মডেলে উন্নীত হবে।
চলতি বছরের জুন মাসে অ্যাজিবট ১৫ হাজার মানবসদৃশ রোবট উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন করেছে, যা উৎপাদনের গতি ও মোট উৎপাদনের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে শিল্পখাতের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মাত্র তিন বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষাগার-ভিত্তিক প্রদর্শনী থেকে বাস্তব শিল্প উৎপাদন লাইনে রোবট ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। গত ২৩ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত তাদের প্রধান পণ্যটি চিয়াংসি প্রদেশের নানছাং শহরে লংচিয়ার টেকনোলজির একটি ট্যাবলেট উৎপাদন লাইনে টানা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহজুড়ে প্রোটোটাইপ যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
অ্যাজিবটের আটটি রোবট সেখানে উচ্চগতিতে এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে কাঁচামাল লোডিং, আনলোডিং ও স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করে। এসব কাজে নির্ভুলতার সীমা ছিল ১ মিলিমিটারের মধ্যে। পাশাপাশি রোবটগুলো ১০০ শতাংশ সফলতার সঙ্গে মানসম্মত ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
অ্যাজিবট ২০২৪ সালে এমবডিড এআই–এর জন্য শিল্পখাতের প্রথম ওপেন-সোর্স বৃহৎ ডেটাসেট প্রকাশ করে এবং বিশ্ব মডেল গবেষণাতেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। 
অ্যাজিবটের সরবরাহ শৃঙ্খল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চান খুনের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা শূন্য থেকে ৫ হাজার ইউনিটে উন্নীত করতে প্রতিষ্ঠানটির দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউনিটে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ছয় মাস। এর পেছনে বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনে নতুন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, চিপসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহও আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে গবেষণা ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান
ছবি: নাসা

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ‘সুইফট বুস্ট’ মিশন। মহাকাশে ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিচে নামতে থাকা ‘নিল গেহেরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ উদ্ধারের লক্ষ্যে ৩ জুলাই এই অভিযান শুরু করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

এর মধ্যে অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেসের তৈরি রোবোটিক মহাকাশযান ‘লিংক’-এর সঙ্গে সফলভাবে যোগাযোগ স্থাপন করেছে নাসার গ্রাউন্ড টিম। এই মহাকাশযানের মূল কাজ হলো পতনশীল মানমন্দিরটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে পুনরায় নিরাপদ উচ্চতায় ফিরিয়ে নেওয়া।

এটি কোনো সাধারণ রকেট উৎক্ষেপণ ছিল না। লিংক মহাকাশযানটিকে নর্থরপ গ্রাম্যানের ‘পেগাসাস এক্সএল’ রকেটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, যা বহন করছিল ‘স্টারগেজার’ নামের একটি বিমান। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানটি মাঝ আকাশে রকেটটিকে ছেড়ে দেয়। কয়েক সেকেন্ড মুক্তভাবে নিচে পড়ার পর রকেটের ইঞ্জিন চালু হয় এবং লিংককে সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে দেয়।

নাসা জানিয়েছে, মহাকাশযানটি ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এর প্রোপালশন, নেভিগেশন ও সেন্সর সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে ক্যাটালিস্ট। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর লিংক তার তিনটি রোবোটিক হাতের সাহায্যে সুইফট অবজারভেটরির সঙ্গে যুক্ত হবে।

এরপর সেটিকে টেনে প্রায় ৩৭০ মাইল উচ্চতার একটি নিরাপদ কক্ষপথে নিয়ে যাবে লিংক। পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সফল হলে মানমন্দিরটির আয়ু আরও প্রায় এক দশক বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সাধারণত সব মহাকাশযানই একসময় কক্ষপথ থেকে নিচে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যক্রমের কারণে সুইফটের কক্ষপথ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল। লিংকের সাহায্য না পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশ টেলিস্কোপটি পুরোপুরি কক্ষচ্যুত হয়ে যেত।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাকাশে গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণা করছে এই সুইফট অবজারভেটরি। সুইফটের প্রধান গবেষক ব্র্যাড সেংকো জানান, গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ হলো উচ্চশক্তির আলোর ক্ষণস্থায়ী ঝলকানি। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এটি যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করে, তা সূর্য তার পুরো জীবনকালেও নির্গত করতে পারে না।

ধারণা করা হয়, বিশালাকার নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ফলে এ ধরনের অতিশক্তিশালী রশ্মি তৈরি হয়। সুইফট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আমাদের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনা ও প্ল্যাটিনামসহ পর্যায় সারণির সবচেয়ে ভারী মৌলগুলো মহাজাগতিক এসব সংঘর্ষের মাধ্যমেই তৈরি হয়। বর্তমানে মহাকাশের যেকোনো আকস্মিক ঘটনায় দ্রুততম সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে বিজ্ঞানীদের কাছে সুইফট একটি ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা দ্রুত সাড়াদানকারী যান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল
যুক্তরাজ্যের হাল মেরিটাইম জাদুঘরে ১১৯ বছরের পুরোনো একটি তিমির কঙ্কাল পুনরায় স্থাপন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের হাল মেরিটাইম জাদুঘরে ১১৯ বছরের পুরোনো একটি তিমির কঙ্কাল পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। ছয় বছর ধরে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে জাদুঘরটির সংস্কারকাজ চলেছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে এই কঙ্কাল স্থাপন জাদুঘরের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

৪০ ফুট লম্বা এই কঙ্কালে ১৬৮টি হাড় রয়েছে। জাদুঘরের নতুন ‘এজ অব সেইল’ গ্যালারিতে এটি স্থাপনে পাঁচ দিন সময় লেগেছে। পরিষ্কার ও সংরক্ষণের পর চলতি সপ্তাহে কঙ্কালটি পুনরায় স্থাপনের কাজ শেষ করেন সংরক্ষক নাইজেল লার্কিন। এটি এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।

১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক উপকূলে মায়ের সঙ্গে এই তিমিটি ধরা পড়েছিল। এটি নর্থ আটলান্টিক রাইট তিমি প্রজাতির। বর্তমানে প্রজাতিটি চরম বিপন্ন। ধারণা করা হয়, বিশ্বে এখন ৪০০টিরও কম এমন তিমি টিকে আছে। জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা ও মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়ার কারণে এরা চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি আবার খুলে দেওয়া হবে। জাদুঘরটি খুললে দর্শনার্থীরা একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে তিমির পাঁজরের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।

২০২০ সালে সংস্কারের জন্য জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন নাইজেল লার্কিন ১৬৮টি হাড় আলাদা করে পরিষ্কার ও সংরক্ষণের জন্য শ্রপশায়ারে তার কারখানায় নিয়ে যান। হাল সিটি কাউন্সিলের নেতা মাইক রস বলেন, ‘জাদুঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নিদর্শনগুলোর একটি এই কঙ্কাল। এটি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসা দারুণ ব্যাপার। দর্শনার্থীদের কাছে নতুন উপায়ে তিমির গল্প তুলে ধরা হবে। এতে তারা এই প্রজাতির গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।’

১৯৩৫ সালে কেমব্রিজের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়াম অব জুওলজি থেকে কঙ্কালটি হাল মেরিটাইম জাদুঘরে আনা হয়। বিনিময়ে তাদের একটি নীল তিমির কঙ্কাল দেওয়া হয়েছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আবার ১৯০৮ সালে একটি ডোডো পাখির কঙ্কালের বিনিময়ে নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি থেকে কঙ্কালটি পেয়েছিল।

অন্যদিকে, বিজ্ঞান জগতের আরেক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আদিম মানবসমাজ আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও উন্নত ছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ লাখ বছর আগে ‘হোমো নালেদি’ নামের এক বিলুপ্ত মানব প্রজাতি অত্যন্ত জটিল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তাদের মধ্যে নারী-পুরুষভিত্তিক চরম সাংস্কৃতিক বিভাজন এবং নারীদের শক্তিশালী লিঙ্গপরিচয় ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রজাতি মৃত নারী ও পুরুষদের আলাদা করে রাখত। এর থেকে ধারণা করা হয়, জীবিত অবস্থায়ও তাদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নারী ও পুরুষের বিভাজন ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির নারীদের একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠেছিল। কোনো কোনো দিক থেকে একে প্রাগৈতিহাসিক নারীবাদের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ
পৃথিবীর বাইরে বায়ুমণ্ডল এবং সূর্য। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির খবর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘জিজে ৩৩৭৮বি’ নামের একটি গ্রহকে পৃথিবীর মতো পাথুরে এবং সম্ভাব্য বাসযোগ্য বলে মনে করছেন। গবেষকদের মতে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের জন্য এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় গ্রহ।

গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাল্ড পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে হবি-এবারলি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগে ধারণার চেয়ে গ্রহটির ভর অনেক কম, যা এটিকে পৃথিবীর মতোই পাথুরে গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে।

তবে গ্রহটি নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, জিজে ৩৩৭৮বি একটি ছোট লাল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। ওই নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণের কারণে সেখানে স্থায়ী বায়ুমণ্ডল টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। ফলে গ্রহটি সত্যিই প্রাণের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

গবেষক পল রবার্টসন বলেন, ২৫ আলোকবর্ষ শুনতে অনেক দূরে মনে হলেও মহাজাগতিক হিসেবে এটি পৃথিবীর খুব কাছের প্রতিবেশী। কারণ আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। সেই তুলনায় জিজে ৩৩৭৮বি কার্যত পৃথিবীর ‘মহাজাগতিক প্রতিবেশী’।

বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২৪ সালে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এর ভর পৃথিবীর প্রায় পাঁচ গুণ এবং এটি নিজ নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২৪ দশমিক ৭ দিন। তবে নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গ্রহটির ভর পৃথিবীর মাত্র ২ দশমিক ৩ গুণ এবং এর কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ২১ দিন। এ কারণেই গবেষকরা এটিকে ‘সুপার আর্থ’ শ্রেণির গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করছেন। গবেষকদের ভাষ্য, কোনো গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রথম শর্ত হলো সেখানে তরল পানির অস্তিত্ব। তাই এখন জিজে ৩৩৭৮বিতে পানির উপস্থিতি এবং বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জিজে ৩৩৭৮বির নক্ষত্রটি সূর্যের তুলনায় ছোট ও কম উজ্জ্বল। এ ধরনের লাল ছোট নক্ষত্র আমাদের ছায়াপথে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গবেষক মাইকেল এন্ডল জানান, মিল্কিওয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ নক্ষত্রই এ ধরনের। ফলে এসব নক্ষত্রকে ঘিরে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের সংখ্যাও অনেক হতে পারে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীরা এসব গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এন্ডলের ভাষায়, ‘মহাবিশ্বে আমরা কি একাই বুদ্ধিমান প্রাণী, নাকি আমাদের মতো আরও কেউ রয়েছে–এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের গবেষণা। জিজে ৩৩৭৮বি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।’

তবে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ‘ভয়েজার–১’ যদি এই গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করে, তা হলে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার বছর। ফলে আপাতত দূরবর্তী টেলিস্কোপ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই জিজে ৩৩৭৮বির রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: স্পেস