ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ফি পরিশোধে দেরি হওয়ায় রাফিন হোসেন নামে অষ্টম শ্রেণির এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মহেশপুর উপজেলার বি আর এ কে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পর থেকে রাফিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না এবং পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় রাফিন। পরীক্ষা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান। এ সময় রাফিন পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েক দিন পর ফি পরিশোধের সুযোগ চায়। পরে তাকে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের কক্ষে যেতে বলা হয়।
রাফিনের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে সে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করলেও প্রধান শিক্ষক জানান, ফি পরিশোধ না করলে কোনোভাবেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। এরপর তাকে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলা হয়।
ফলে পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যায় রাফিন।
রাফিনের বাবা চঞ্চল হোসেন বলেন, ‘আমরা পারিবারিক সমস্যার কারণে সময়মতো স্কুলের বেতন দিতে পারিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই বেতন পরিশোধ করব বলে সহকারী শিক্ষিকাকেও জানিয়েছিলাম। এরপরও আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সে খুবই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দুই দিন ধরে কিছুই খাচ্ছে না এবং পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাহফুজুর রহমান/রিফাত/