দেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে দেশের ৭টি জেলায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। বন্যায় মোট ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ত্রাণ কার্য হিসেবেই মোট ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬৪টি জেলার জন্য পৃথকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, এতে সর্বমোট চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। দুর্যোগ সহায়তায় নগদ অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সাতটি উপদ্রুত জেলায় গত কয়েকদিনের ত্রাণ সহায়তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবান জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে মন্ত্রণালয়। মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) তাদের কেন্দ্রীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন জেলা ইউনিটে নগদ অর্থ ও উদ্ধার সরঞ্জামও পাঠাচ্ছে তারা। বিডিআরসিএস ১২টি জেলা ইউনিটে রবার বোট, লাইফ ভেস্ট, রেইনকোট, ছাতা, জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। তারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
দুর্যোগের তীব্রতা মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও কারিতাস বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের আগাম সতর্কতামূলক ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/