রাজস্ব ফাঁকি রোধ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর ফাঁকি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
রবিবার (১২ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে করপোরেট করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে এপিআই সংযোগ এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে বহাল রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পুরো আর্থিক খাতে একটি চলমান ‘ক্লিনিং প্রসেস’ পরিচালিত হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো আপস করা হবে না।’
এদিকে তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা আরও সহজ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। এছাড়া স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণের সুবিধাও অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।’
এলিস/রিফাত/