কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন এক মা ও তার দেড় বছর বয়সী সন্তান।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার জারুল বুনিয়ার সাপের গাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে তসলিমা বেগম তার দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে খাটে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক অজানা শঙ্কায় তিনি খাট থেকে নেমে সন্তানকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়েন। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরই বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের ওই খাটে পড়ে। মাটির একটি বড় অংশ তাদের ওপরও এসে পড়ায় শিশুটি প্রায় চাপা পড়তে যাচ্ছিল। এতে তসলিমা কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান। তবে তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যরা মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তসলিমা তার শ্বশুর-শাশুড়ি থেকে আলাদা ঘরে বসবাস করেন। পাহাড়ের পাদদেশে তাদের ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শ্বশুর মো. ইসমাইল দুদিন আগেই তাদের ওই ঘরে এবং খাটে ঘুমাতে বারণ করেছিলেন। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের নিজেদের ঘরে নিয়েও গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এলাকায় চুরি-ডাকাতির উপদ্রব বেশি থাকায়, ঘরের জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার ভয়ে তসলিমা ও তার স্বামী পুনরায় নিজেদের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে ফিরে আসেন।
ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শিউরে ওঠেন তসলিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধান! আল্লাহ নিজ হাতে আমাদের বাঁচাইছে, না হলে আজ আমরা ওপারে চলে যেতাম।’
নাতি ও পুত্রবধূর অক্ষত ফিরে আসার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন তসলিমার শাশুড়ি। বিষণ্ণ চেহারায় ঘরের দরজার সামনে বসে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমার নাতি ও বউয়ের প্রতি রহম করেছেন। তা না হলে আজ আমরা তাদের চিরতরে হারাতাম।’
শ্বশুর মো. ইসমাইল বলেন, ‘আমি দুদিন আগেই তাদের ওই খাটে ঘুমাতে বারণ করেছিলাম। আজ সকাল থেকেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই ভয়টা বেশি ছিল। তবুও তারা জিনিসপত্রের মায়ায় সেখানে ফিরে যায়।’
টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়বেষ্টিত সাপের গাড়া এলাকায় এর আগেও অসংখ্য পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। চরম ঝুঁকি নিয়েই এসব পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন অসংখ্য পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন বারবার সতর্ক ও মাইকিং করলেও চুরি-ডাকাতি বা সহায়-সম্বল হারানোর ভয়ে অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে চান না, যা প্রতিনিয়ত বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছ।
রকিবুল হাসান/অমিয়/