বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (এমপি) বলেছেন, ‘সব দুর্নীতিবাজ এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে।’ গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে জনগণ অস্থির। জনগণ চাঁদাবাজি করে না। জনগণ এই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের অবৈধ উৎস নেই। তারা ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমন করে বুঝবে, যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বৈষম্য দূর করে প্রথাগত রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে আমাদের সন্তানরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে। প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা করেন নাই। আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। তিস্তা নিয়ে আগো ভালো ভালো কথা বলছে। তিস্তা নিয়ে বাজেটে ১০ টাকার পদক্ষেপ নেই। জামায়াত আগামীতে সরকারের গঠন করলে ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই দাবি বাস্তবায়ন করবে।
জামায়াত আমির বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। পুশইন করছে। সরকার মুখে কুলুপ দিয়ে আছে। প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিজিবির সঙ্গে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটা শব্দ আসেনি। কার ভয়ে? কাকে খুশি করার জন্য?
এ সময় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।’ শেখ হাসিনার দেশে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা সাক্ষাৎকার শুনতে পেয়েছি। ডিসেম্বেরে কেউ একজন দেশে আসার অপেক্ষা করছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি করে রেখেছি। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায় সে আর ফিরে আসতে পারে না। পাকিস্তানরাও সম্মান নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা এই কাপুরুষের মতো এই দেশ ছেড়ে, জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনোই রাখবেন না।’
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপার) রাশেদ প্রধান, এপি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আকবর, এলডিপির প্রসিডেন্ট অলি আহমদসহ ১১-দলীয় জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।