জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছি, রক্ত দিয়েছি। একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের লুটপাটের জন্য বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দেয় নাই। ফলে আপনারা ভয় পাবেন না।’
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার তালতলা চত্বরে জুলাই পথযাত্রা ও পথসভায় বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে গত সোমবার সাভারে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীর দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পথসভায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বিগত সময় একটা দলের শাসন ছিল। আর কোনো দল কথা বলতে পারত না। কথা বললেই জেলে নিয়ে যাওয়া হতো। গুম করা হতো, হয়রানি করা হতো। আমরা দেখছি বাংলাদেশকে আবারও একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি দল শুধু কথা বলবে। অন্য দলকে কথা বলতে দেওয়া হবে না। সংসদে আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা জনসভায় কথা বলতে গেলে ককটেল ফোটানো হয়, বোমা মারা হয়।’ নাহিদ বলেন, ‘এই একদলীয় শাসন যদি আবার শুরু করার কথা কেউ ভাবে, আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা আপনারা ভাববেন। আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে একদলীয় শাসন করে দিল্লিতে হেলিকপ্টার নিয়ে পালাতে হয়েছিল। এখন তারা নিষিদ্ধ টাকা দিয়ে কয়েকটা মিছিল করে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাল্টে গিয়ে সেই সংস্কার এবং জুলাই সনদকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গণভোটকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা সংস্কার বাস্তবায়ন করে নাই। আমরা বলছি সংস্কার হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেট। আপনারা আমরা সবাই ভোট দিয়েছি সংস্কারের পক্ষে। কেন আমরা সংস্কার চাই? আমরা সংস্কার চাই যাতে পুলিশ সংস্কার হয়। পুলিশ কোনো দলীয় পুলিশ না হয়। প্রশাসন কোনো দলীয় পুলিশ প্রশাসন না হয়। আপনারা আদালতে গেলে যাতে ন্যায়বিচার পান। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কোনো কিছুই বন্ধ হবে না। মাদক কারবারি বন্ধ হবে না। কারণ পুলিশ দলীয় পুলিশে পরিণত হবে। এদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারবে না। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ উপজেলার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যুবলীগের দুই নেতা-কর্মী রিমান্ডে
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীর দুই দিনে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিরা হলেন সাবেক যুবলীগ নেতা মো. নুরুল ইসলাম ও যুবলীগ কর্মী মো. সজিব। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাখাওয়াত ইমতিয়াজ সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালতে আসামিদের রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুর করার পক্ষে শুনানি করে। শুনানি শেষে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।