ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এনসিপি নেতা নিহত ভোলাহাটে তহসিলদারের ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল বরগুনায় সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎহীন ৬৭ হাজার গ্রাহক রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা বরিশালে মাছের এলাকায় মাছের দাম চড়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে সমর্থকদের উল্লাস সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় নামানোই ছিল সুইজারল্যান্ডের জয়ের মূল চাবিকাঠি চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ

রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্প বেসরকারি খাতে দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্প বেসরকারি খাতে দিচ্ছে সরকার
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে আছে, উৎপাদনে নেই ও অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ বা অচল হয়ে পড়ে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ৪৪টি বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিল্প এলাকার আকার হচ্ছে ৩০ হাজার বিঘার বেশি জমি। 

এ উদ্যোগে প্রায় ৫৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। যা দেশের শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করছে বাংলাদেশ সরকার। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার যৌথ উদ্যোগ (জেভি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজিং–এই তিন মডেল প্রস্তাব করছে। এ ব্যাপারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কাঠামোবদ্ধ ও সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদে দেশি ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতই সবচেয়ে উপযুক্ত। সরকারের কাজ ব্যবসা পরিচালনা নয়, বরং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলোকে অলস ফেলে রাখার সময় শেষ। বিদ্যমান অবকাঠামো, শিল্পভিত্তিক জনবল এবং কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে এগুলোকে আবারও উৎপাদনমুখী করা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য, এসব ব্রাউনফিল্ড সম্পদকে নতুন প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এমন শিল্পে রূপান্তর করা, যা একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমাবে, অন্যদিকে রপ্তানি সক্ষমতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের নতুন ভিত্তি তৈরি করবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আহ্বান করেছে। 

বিডার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে স্টেট ওউন ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও; যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর বড় অংশই দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। এগুলো কেবল খালি জমি নয় বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগসহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প অবকাঠামোসমৃদ্ধ ব্রাউনফিল্ড সম্পদ। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি সংযোগ বা অবকাঠামো নির্মাণে সময় ও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুত অবকাঠামো বা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবেন। বিনিয়োগের সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না কেবল ঐতিহ্যগত শিল্পে। কেমিক্যাল, সার, ইস্পাত, বস্ত্র, চিনি, পাট ও খাদ্যশিল্পের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি, সেমি কন্ডাক্টর, মাইক্রোচিপ, এপিআই, সোলার গ্লাস, সোলার প্যানেল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, লজিস্টিক হাব, আধুনিক কাগজ শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব ভারী শিল্পেও বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনেই সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ খুলনার নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিলস কমপ্লেক্সে ৪৭.২৭৫ একর জমির আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬৪.৯৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের ৯১.১৯ একর জমির মূল্য ১৯০.৮১ কোটি টাকা এবং সাভারের ঢাকা লেদার কোম্পানির ১৮ একর জমির মূল্য ২৬৪.১৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানির ১৯৭ একর, কর্ণফুলী পেপার মিলসের এক হাজার ৭০০ একরের বেশি জমি এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অব্যবহৃত শিল্প ভূমি নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন চিনিকলগুলোতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বর্তমানে দেশের মোট চিনির চাহিদার মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে। এই সীমাবদ্ধতাকে সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। কারণ শুধু সেতাবগঞ্জ সুগার মিলসের জমির পরিমাণই প্রায় ৩ হাজার ৮৬০ একর ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসের রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৮৭ একর জমি। রাজশাহী সুগার মিলও গড়ে উঠেছে ২৩০ একর জায়গায়। আম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে আম প্রক্রিয়াকরণ, জুস, জেলি, রপ্তানিমুখী খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়া সম্ভব।  

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতায়ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সিকেডি অ্যাসেম্বলি, জেমকোতে পাওয়ার ট্রান্সফর্মার উৎপাদন, অ্যাটলাস বাংলাদেশে ইভি টু-হুইলার ও ব্যাটারি সংযোজন শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়ায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বছরে ৩ লাখ টন উৎপাদনক্ষম পরিবেশবান্ধব আধুনিক স্টিল মিল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের প্রথম বৃহৎ স্টিল শিল্প হতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও বস্ত্রকলগুলোতেও বড় ধরনের সংস্কার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি পরিচালনা করছে বিদেশি বিনিয়োগকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের জন্য নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং কয়েকটি মিল এরই মধ্যে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার যৌথ উদ্যোগ (জেভি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজিং–এই তিন মডেল প্রস্তাব করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে ইক্যুইটি হিসেবে দেবে, আর বেসরকারি অংশীদাররা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। পিপিপি’র আওতায় ৩০ বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য চুক্তি, ভ্যাট সুবিধা এবং ৩৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। লিজ মডেলেও দীর্ঘমেয়াদি সময়, দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে বড় মূলধনি ও ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি বাজারটিতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে প্রধান শেয়ারবাজারে মন্দাভাব থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সেখানে সূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে লেনদেনের শেষভাগে এসে চিত্র বদলে যায়। বড় মূলধনের বেশির ভাগ ভালো কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত দরপতনের তালিকাটিই দীর্ঘ হয়, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ে সূচকে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২১টির দাম কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল। মূলত এই ভালো কোম্পানিগুলোর দরপতনই সূচককে টেনে নিচে নামিয়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। গতকাল বাজারটিতে মোট ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের (১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) চেয়ে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির মোট ৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যাপেক্স স্পিনিং, আইটি কনসালট্যান্টস, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৪ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গতকাল বেশ চাঙা ছিল; তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ১টির।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১ পয়সা কমেছে। সমান ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের দর কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে সিএসইতে মোট ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্প বেসরকারি খাতে দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্প বেসরকারি খাতে দিচ্ছে সরকার
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে আছে, উৎপাদনে নেই ও অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ বা অচল হয়ে পড়ে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ৪৪টি বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিল্প এলাকার আকার হচ্ছে ৩০ হাজার বিঘার বেশি জমি। 

এ উদ্যোগে প্রায় ৫৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। যা দেশের শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করছে বাংলাদেশ সরকার। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার যৌথ উদ্যোগ (জেভি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজিং–এই তিন মডেল প্রস্তাব করছে। এ ব্যাপারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কাঠামোবদ্ধ ও সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদে দেশি ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতই সবচেয়ে উপযুক্ত। সরকারের কাজ ব্যবসা পরিচালনা নয়, বরং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলোকে অলস ফেলে রাখার সময় শেষ। বিদ্যমান অবকাঠামো, শিল্পভিত্তিক জনবল এবং কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে এগুলোকে আবারও উৎপাদনমুখী করা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য, এসব ব্রাউনফিল্ড সম্পদকে নতুন প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এমন শিল্পে রূপান্তর করা, যা একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমাবে, অন্যদিকে রপ্তানি সক্ষমতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের নতুন ভিত্তি তৈরি করবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আহ্বান করেছে। 

বিডার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে স্টেট ওউন ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও; যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর বড় অংশই দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। এগুলো কেবল খালি জমি নয় বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগসহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প অবকাঠামোসমৃদ্ধ ব্রাউনফিল্ড সম্পদ। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি সংযোগ বা অবকাঠামো নির্মাণে সময় ও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুত অবকাঠামো বা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবেন। বিনিয়োগের সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না কেবল ঐতিহ্যগত শিল্পে। কেমিক্যাল, সার, ইস্পাত, বস্ত্র, চিনি, পাট ও খাদ্যশিল্পের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি, সেমি কন্ডাক্টর, মাইক্রোচিপ, এপিআই, সোলার গ্লাস, সোলার প্যানেল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, লজিস্টিক হাব, আধুনিক কাগজ শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব ভারী শিল্পেও বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনেই সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ খুলনার নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিলস কমপ্লেক্সে ৪৭.২৭৫ একর জমির আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬৪.৯৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের ৯১.১৯ একর জমির মূল্য ১৯০.৮১ কোটি টাকা এবং সাভারের ঢাকা লেদার কোম্পানির ১৮ একর জমির মূল্য ২৬৪.১৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানির ১৯৭ একর, কর্ণফুলী পেপার মিলসের এক হাজার ৭০০ একরের বেশি জমি এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অব্যবহৃত শিল্প ভূমি নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন চিনিকলগুলোতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বর্তমানে দেশের মোট চিনির চাহিদার মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে। এই সীমাবদ্ধতাকে সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। কারণ শুধু সেতাবগঞ্জ সুগার মিলসের জমির পরিমাণই প্রায় ৩ হাজার ৮৬০ একর ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসের রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৮৭ একর জমি। রাজশাহী সুগার মিলও গড়ে উঠেছে ২৩০ একর জায়গায়। আম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে আম প্রক্রিয়াকরণ, জুস, জেলি, রপ্তানিমুখী খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়া সম্ভব।  

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতায়ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সিকেডি অ্যাসেম্বলি, জেমকোতে পাওয়ার ট্রান্সফর্মার উৎপাদন, অ্যাটলাস বাংলাদেশে ইভি টু-হুইলার ও ব্যাটারি সংযোজন শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়ায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বছরে ৩ লাখ টন উৎপাদনক্ষম পরিবেশবান্ধব আধুনিক স্টিল মিল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের প্রথম বৃহৎ স্টিল শিল্প হতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও বস্ত্রকলগুলোতেও বড় ধরনের সংস্কার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি পরিচালনা করছে বিদেশি বিনিয়োগকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের জন্য নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং কয়েকটি মিল এরই মধ্যে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার যৌথ উদ্যোগ (জেভি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজিং–এই তিন মডেল প্রস্তাব করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে ইক্যুইটি হিসেবে দেবে, আর বেসরকারি অংশীদাররা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। পিপিপি’র আওতায় ৩০ বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য চুক্তি, ভ্যাট সুবিধা এবং ৩৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। লিজ মডেলেও দীর্ঘমেয়াদি সময়, দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার
ইউএস ডলার। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮৪৭ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৯৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নাঈম/

আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.54 140.57 --
ব্রিটেন পাউন্ড     164.49 164.54 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.40 85.41 --
জাপানি ইয়েন 0.7579 0.7580 --
কানাডিয়ান ডলার 86.47 86.48 --
সুইস ক্রোনা 12.74 12.77 --
সিঙ্গাপুর ডলার 95.04 95.08 --
চায়না ইউয়ান     18.0813 18.0816 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2876 1.2879 --
সৌদি রিয়াল 32.67 32.97 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.41 33.69  

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাস মে-তে ছিল ৯.৪২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমায় মূল্যস্ফীতিতে এই সামান্য স্বস্তি মিলেছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জুন মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে এসেছে।

এদিকে, বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার কমলেও মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি থেমে নেই। জুন মাসে জাতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে উঠেছে। অর্থাৎ এক মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। বিশেষ করে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রাম ও শহর, উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমেছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও দুই এলাকাতেই উন্নতি হয়েছে। গ্রামে এ হার ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনামূলক বেশি। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, শ্রমজীবী মানুষের আয়ের গতি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। জুনে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ কম থাকায় প্রকৃত আয় এখনো চাপে রয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষিতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ, শিল্পে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তিন ক্ষেত্রেই আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্তরা/