অকশনে আইফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি চক্রের মূল হোতা মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জসীম উদ্দিন খান জানান, গত সোমবার মধ্যরাতে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল। অভিযানকালে তার কাছ থেকে একটি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম জব্দ করা হয়।
সিআইডি বলছে, ইব্রাহিম নিজেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার’ পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কম মূল্যে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এ ঘটনায় গত ২২ জুন ভুক্তভোগী পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। পরে প্রতারণার সঙ্গে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের সম্পৃক্ততার সত্যতা পায় সিআইডি। এ ছাড়াও তিনি ভাটারা থানায় অন্য একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী রাজধানীর একটি বেসরকারি জীবন বিমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চক্রটি নিজেদের বিমানবন্দরের ‘অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দেন। আস্থা অর্জনের পর ইব্রাহিম নিজেকে বিমানবন্দরের অকশনে জব্দকৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য কম দামে দেওয়ার বিষয়টি জানান। পাশাপাশি তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবন বিমার পলিসি করবে বলেও দাবি করেন।
পরে ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া ডকুমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে চক্রটি। এরপর ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল ও ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
টাকা নেওয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যায়।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, তদন্তে চক্রটির অন্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।