রাঙামাটিতে গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল থেকে টানা আট দিনের বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিবর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যেই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন কাপ্তাই হ্রদ-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষ। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পর বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার ৯ উপজেলা ও ২ পৌর এলাকার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৪২২ জন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫০৬ জন অবস্থান করছিলেন। জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩১টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেতু ধসে দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক। এ ছাড়া তিন কিলো নামক স্থানে সড়ক ধসে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে চার দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
নতুন করে ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮২ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ আকস্মিক প্লাবনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। এর মধ্যে ফারুয়া বাজারের দেড় শতাধিক দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সেখানে চার দিনেও কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।
পাহাড়ধসের আশঙ্কা ও বন্যা পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও দুর্গতদের বেশির ভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ, গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর, মাছের ঘের ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশনব্যবস্থা। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বৃষ্টি আর উজানের ঢলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটি শহরসহ নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৯৭ দশমিক ৮০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিমাপক ‘রুল কার্ভ’ অনুযায়ী পানির উচ্চতা থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৭৬ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ হ্রদে রুল কার্ভের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ ফুট বেশি পানি রয়েছে।
রিফাত/