সাধারণত পুষ্টির খোঁজে মানুষ খাসি বা মুরগির মাংসের ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার তরাই অঞ্চলের জঙ্গলে মেলা একটি বিশেষ সবজির কাছে দাম ও পুষ্টি-উভয় দিক থেকেই হার মানবে যে কোনো নন-ভেজ পদ!
স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সবজিটির নাম ‘কাটরুয়া’। বর্তমানে বাজারে এর প্রতি কেজির দাম ঠেকেছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। অতি বিরল এবং পুষ্টিগুণে ঠাসা হওয়ায় ভোজনরসিকদের কাছে এটি ‘নিরামিষভোজীদের মাংস’ নামেও পরিচিত।
মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা স্বাদের জাদুকর
কাটরুয়া কোনো সাধারণ চাষের সবজি নয়, এটি মূলত বর্ষাকালে শাল ও সেগুন গাছের শিকড়ের নিচে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। লোকচক্ষুর অন্তরালে মাটির নিচে বেড়ে ওঠা এই সবজিটি সংগ্রহ করতে স্থানীয় মানুষ জঙ্গলে পাড়ি জমান এবং মাটি খুঁড়ে তা বের করে আনে। বর্ষার এই বিশেষ উপহারের স্বাদ নিতে ভোজনরসিকরা সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তবে মাটির নিচে জন্মানোর কারণে রান্নার আগে এটিকে খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
এই ভেষজ সবজিটির পুষ্টিগুণের ভক্ত কেবল মানুষই নয়, জঙ্গলের প্রাণীরাও এর খোঁজে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দুধওয়া জঙ্গলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির হরিণদের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য এটি। বর্ষার মরসুমে জঙ্গলজুড়ে হরিণদের প্রায়ই মাটি খুঁড়ে পরম তৃপ্তিতে কাটরুয়া খেতে দেখা যায়।
স্বাস্থ্যের এক অনন্য ভাণ্ডারচিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কাটরুয়া ভিটামিন, খনিজ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি নিয়মিত ও পরিমিতভাবে খেলে শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং অলসতা দূর হয় এবং শরীরের কর্মক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সবজিটি দারুণ কার্যকর, যার ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত পথ্য। কাটরুয়ায় থাকা বিশেষ পুষ্টি উপাদান হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
আজহার/