ফুটবল বিশ্বের পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে যতটা না শিরোপার জন্য, তার চেয়েও বেশি এক বিব্রতকর রেকর্ডের কারণে আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে দলটি।
গুগলে বাংলা ভাষায় ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখে সার্চ করলেই ফলাফলে ভেসে ওঠে ব্রাজিলের নাম।
অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টি দেখে বিস্মিত হলেও এর পেছনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও বেদনাদায়ক একটি ম্যাচ।
২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এই ম্যাচ। সেই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিলকে নিয়ে অসংখ্য মিম, ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে সফট ড্রিংক ‘সেভেন আপ’-এর নামের সঙ্গে সেই ৭ গোলের মিল টেনে ব্রাজিলকে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ বলে ঠাট্টা করার প্রবণতা তৈরি হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাক্যটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, গুগলের সার্চ অ্যালগরিদমও বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অনলাইন কনটেন্টের ভিত্তিতে ব্রাজিলের সঙ্গে এই শব্দগুচ্ছের সম্পর্ক তৈরি করেছে।
তবে এটি গুগলের আনুষ্ঠানিক কোনো পরিচয় নয়। বরং ইন্টারনেটে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীদের তৈরি বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট ও আলোচনার কারণে সার্চ ফলাফলে এমন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল হওয়া সত্ত্বেও ২০১৪ সালের সেই ৭-১ গোলের হার এখনো ব্রাজিলকে তাড়া করে বেড়ায়। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল ভক্তদের রসিকতা এবং অনলাইন সংস্কৃতিতে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ কথাটি ব্রাজিলের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন ভুলে নতুন করে নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করেছিল। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠে তারা শেষ ষোলোতে জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। কিন্তু শেষ আটে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। ফলে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ প্রসঙ্গটি আবারও আলোচনায় এসেছে। আর্জেন্টিনা ও অন্য দলের অনেক সমর্থক গুগলে ওই শব্দগুচ্ছ লিখে ব্রাজিলের নাম দেখিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও মিম শেয়ার করছেন।