কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, দুর্যোগে জেলার ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে জেলার আটটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা ও ১৯জন স্থানীয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৪২৭টি পরিবারের ২৯ হাজার ৭০৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৪৮৫টি পরিবারের ২৯ হাজার ৯৪২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৮০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবারের ৪৫ হাজার ৪৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবারের ৪০ হাজার ২০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কুতুবদিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১ হাজার ১২৫টি পরিবারের ৪ হাজার ৫০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল আলম বলেন, 'দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সব উপজেলায় ২১৫টি অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ লাখ ২৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ২ হাজার ৫০০টি জেরিক্যান বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৯১৮টি মৎস্য খামার ও ৪৫৩টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন সাদা মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩৫৬ মেট্রিক টন মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এম খালেকুজ্জামান বলেন, 'বন্যায় ৩০৩টি খামারের ১ হাজার ২৯০টি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৩০টি পোলট্রি খামারের ৯৭ হাজার ৫৮১টি হাঁস-মুরগিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, 'জেলার সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।'
তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/