ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেনকে ভয় নয়, সমীহ করছে ফ্রান্স ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য আগামী ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে ইসকনের ৯ দিনব্যাপী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ফরাসি দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, নিন্দার ঝড় পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’ বিশ্বকাপে ভিএআর সুবিধাভোগী আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, খেসারত দিলো ক্রোয়েশিয়া-ইরান দুই দিনের ব্যবধানে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অস্বাভাবিক বললেন মেসি পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার হাতিয়ায় পানিবন্দিদের পাশে ছাত্রদল গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট গোপালগঞ্জে ১২ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির পোনা জব্দ চাঁদাবাজির মামলায় কথিত সাংবাদিক শফিকুলসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭ নোবিপ্রবিতে গুচ্ছ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি, ক্লাস শুরু ১৯ জুলাই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য জাককানইবিতে শুরু হলো ৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ এএম
পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সমতলের বন্যা ও জোয়ারের পানি নিয়ে যখন চারদিকে ত্রাণ তৎপরতা ও আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই গহীন পাহাড়ি জনপদে নীরবে ঘটে গেছে এক বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়।

টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বর্ষণে পাহাড় ধসে সম্পূর্ণ মাটির নিচে চাপা পড়েছে শত শত কৃষকের শেষ সম্বল পানের বরজ। জীবিকা হারিয়ে মুহূর্তেই নিঃস্ব হওয়া এসব কৃষকের মাথার ওপর এখন ঝুলছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সমতলের দুর্গতদের কাছে ত্রাণবাহী নৌকা পৌঁছালেও, পাহাড়ি বিল ও কাদাপথ মাড়িয়ে প্রান্তিক চাষিদের কান্না শোনার যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী, বারবাকিয়া ও টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক বুকফাটা হাহাকারের দৃশ্য। এসব ইউনিয়নের মধ্যে জারুল বুনিয়ার সাপের গাড়ার ডালার মুখসহ বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। 

স্থানীয় জারুল বুনিয়ায় প্রতি মঙ্গলবার ভোরে বসে এক বিশাল পানের বাজার, যেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। পাহাড়ধসের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন সেই পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিই ধসে পড়েছে।

শিলখালীর জারুল বুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলম ২০ বছর সৌদি আরবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও তেমন একটা ভাগ্য ফেরাতে পারেননি। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে বিয়ে করেন, বর্তমানে তার ঘরে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। শেষ সম্বল আর এনজিও থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জীবনের প্রথম ২০ শতক জমিতে দুটি পানের বরজ করেছিলেন তিনি।

পাহাড়ধসে তার বরজ দুটি এখন মাটির নিচে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বদিউল আলম বলেন, আল্লাহ কি একবারও আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল না? আমি বারবার নিয়তির কাছে কেন হেরে যাই? সবাই বন্যার পানি নিয়ে নিউজ করে, কিন্তু আমাদের এই দুর্গম পাহাড়ে এসে কেউ আমাদের এই দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেও না, লেখেও না। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবিক মানুষ, তিনি বা প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের দিকে একটু তাকাতেন, তবে আমরা প্রাণে বাঁচতাম না হলে আমাদের সব শেষ।

একই নির্মম ভাগ্যের শিকার হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এনজিও থেকে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়ে বরজ করেছিলেন। মাত্র ১০ হাজার টাকার পান বিক্রি করতেই পাহাড়ধসে তার সব শেষ হয়ে গেছে। কথা বলতে বলতে তার চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল। একদিকে উপার্জনের পথ বন্ধ, অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরে থাকা একাদশে পড়ুয়া ছেলের পড়াশোনার খরচ ও প্রতি মাসের মেস ভাড়া। কম্পিউটার অপারেটরের ভুলের কারণে ছেলেটি বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া কলেজে ভর্তি হলেও তাকে চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারেই থাকতে হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর বলেন, ছেলের লেখাপড়ার জন্য এই বরজ করেছিলাম। কালকেও ছেলে টাকার জন্য ফোন করেছে। এখন সংসার চালাব কীভাবে, ছেলেকে টাকা দেব কীভাবে? দেখি কারও কাছ থেকে দেনা করে হলেও টাকা পাঠাতে পারি কিনা।

এদিকে এই চরম দুর্যোগের মধ্যেও এনজিও কর্মীদের ঋণের কিস্তির জন্য তাগাদা ও মানসিক চাপ কৃষকদের কষ্টকে বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুতুব উদ্দিন ৩০ শতক জায়গার ওপর পানের বরজ করেছিলেন। এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে গড়া বরজটি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। মাত্র ৩০ হাজার টাকার পান বিক্রি করতে পেরেছিলেন তিনি।

মোহাম্মদ জিসান দুটি পানের বরজই মাটিতে চাপা পড়েছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বরজ করার পর মাত্র ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি করতে পেরেছিলেন।

পেকুয়ার এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা এতটাই বেহাল যে, যেখানে প্রধান সড়ক বা গাড়ি চলাচল শেষ হয়, সেখান থেকে আরও ৩ কিলোমিটার পাহাড়ি বিল ও কর্দমাক্ত পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়। পথিমধ্যে জোকের আক্রমণ কিংবা বুনো হাতির পালের মুখোমুখি হওয়ার তীব্র আতঙ্ক মাথায় নিয়ে কেবল সংসারের খরচ চালানোর জন্য এই চাষিরা পান চাষ করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতি এক নিমেষেই তাদের সব স্বপ্ন মাটির নিচে চাপা দিয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন সমতলের বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পেকুয়ার এই প্রান্তিক পান চাষিদের দিকে মানবিক দৃষ্টি দেন। সরকারি জরুরি অনুদান, কৃষি পুনর্বাসন এবং এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি দ্রুত স্থগিত বা মওকুফ করা না হলে, ঋণের দায়ে এই পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর তালিকাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা যায়। 

তিনি আরও বলেন, পেকুয়া উপজেলার  পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পানচাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্তরা/

সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা
ছবিটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাহতাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিদিন জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
 
সুনামগঞ্জের ছাতক অংশের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত। একই ভাবে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপজেলার রাণীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইল গাঁও ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে এখনও সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শক্তিয়ারখলা ও দূগাপুর সড়কে ৬ দিন ধরে পানির ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি উঠে গেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের ৭৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় সুনামগঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানান কর্মকর্তারা।
 
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (২) মো. ইমদাদুল হক জানান, সুনামগঞ্জে একটি মাঝারি ধরণের বন্যার আশঙ্কা আছে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কম হলেও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ায় ঢলে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জে আরও ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে
 
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
 
দেওয়ান গিয়াস/আজহার/

মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

মাত্র তিন ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। রেকর্ড ১০৭ মিলিমিটারের আকস্মিক বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে ভেজা শরীর নিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে নগরীর কয়েকটি কন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের। এছাড়া কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষেরাও। 

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগেও পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নগরর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় যান চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে। অনেক পরীক্ষার্থী আবার নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুস সালাম জানান, কিছুই করার নেই। মেয়েকে নিয়ে এসেছি, কোমর ভিজিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এতক্ষণ ভেজা শরীর নিয়ে বসে কেমন পরীক্ষা দিবে জানি না। তার উপর রিকশা অটো কিছু নাই। চাঁনপুর থেকে আধাপথ হেঁটেই এসেছি।

কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিতে দেখা গেছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা যেন দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হয় এজন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোর থেকেই তারা কাজ করছেন। 

অতিভারী বর্ষণে নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জহির শান্ত/অন্তরা/

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর মহাদেবপুরে শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সকালে (১৩ জুলাই) উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, লোকমান মন্ডল (৪৭) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা (৪১)।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু জানান, নিহত লোকমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে ওই বাড়িতেই থাকতেন। রাত ৪টার দিকে ছেলে মুক্তার তার নিকটাত্মীয়দের ফোন করে। জানান, তার বাবা-মা দুজনেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফোন ছেড়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ঘরের দরজা খুলে ভেতরে তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুজনের শরীরের তেমন কোনো আঘাতে চিহ্ন নেই। তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তবে কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। এরই মধ্যে মরদেহ দুটি নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হারুন/খাদিজা রুমি/

মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও চোরাই ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (১৩ জুলাই) পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর এলাকার মো. সুমন (২৫), মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বেতকা এলাকার হৃদয় দেওয়ান (৩০) এবং একই উপজেলার আমতলী এলাকার সজীব পাইক (২৪)।

পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই বিকেলে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার পশ্চিম কুমারভোগ চৌরাস্তার নুরানি জামে মসজিদের সামনে থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মো. সজিবের একটি কালো রঙের মোটরসাইকেল চুরি হয়। 

এ ঘটনায় মামলার পর ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জুলাই গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে চক্রের সদস্য মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

পরে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীবাড়ীর বেতকা বাজার এলাকা থেকে হৃদয় দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইককে গ্রেপ্তার করে একটি হাঙ্ক ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা চোরাই সন্দেহে জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান অব্যাহত রেখে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার একটি দর্জি দোকানের পেছন থেকে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুটি পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানায় পুলিশ।

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

মোটরসাইকেল উদ্ধারের অভিযানের সময় লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় একটি দর্জি দোকানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলাল ওরফে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদক ও অন্যান্য চোরাই মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানায় পুলিশ।

সুমন/খাদিজা রুমি/

গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট
ছবি: খবরের কাগজ

প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে হেঁটে গাজীপুর থেকে ১৫০কিলোমিটার পরিভ্রমণে বেরিয়েছি তিন রোভার স্কাউট।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে চান্দনা মুক্ত স্কাউট গ্রুপের তিনজন রোভার সদস্য এই পরিভ্রমণে বের হন।

রোভার স্কাউটদের এ দীর্ঘ যাত্রায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া ও পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এবং স্কাউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে রোভার স্কাউটদের উৎসাহ প্রদান করেন।

রোভার স্কাউট শাকিব জানান, তিনিসহ তাদের তিন সদস্যের এ দলটি গাজীপুর-রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া-টোক বাজার-মনোহরদী-চালাকচর-(উয়ারী বটেশ্বর) বেলাবো ও শিবপুর-নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ করবেন। এ দীর্ঘ যাত্রায় তারা ৩ জন তিনটি সচেতনতা বার্তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। তাদের মধ্যে সাকিব- গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান বার্তা; মাহিম হোসেন- ট্রাফিক আইন মেনে চলুন বার্তা ও রিফাত হোসেন রনি- রোভারিং করবো , মাদকমুক্ত দেশ গড়বো বার্তার প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।

পলাশ প্রধান/থিওটোনিয়াস/