হবিগঞ্জে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অবকাঠামো, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক হিসাবে জেলাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত শত কোটি টাকার বেশি।
কৃষি খাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার ৯ উপজেলায় ১হাজার ২৫৯ হেক্টর জমি আউশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট আবাদি আউশ জমির প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়াও ৬৮৫ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ১৫০ হেক্টর। আর ৬৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ২৩৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দ্বীপ কুমার পাল বলেন, ’প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নামার পর শতভাগ ক্ষতির চিত্র জানা যাবে।’
মৎস্য ও প্রাণী খাত
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিন উপজেলায় অন্তত ১ হাজার ১০০টি মাছের খামার ও পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাছ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক পোল্ট্রি খামারি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার কারণে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন গো-খাদ্য। ফলে কমেছে ডিম ও দুধের উৎপাদন। জেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ টন দুধ ও ১০ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও বন্যার কারণে দৈনিক দুধ উৎপাদন ২৫ টন। ডিম উৎপাদন নেমে এসেছে ৯০ হাজার পিসে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে উৎপাদিত ডিম, দুধ ও মাংস জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে সরবরাহ করা হয়। তবে বন্যার কারণে বর্তমানে জেলার চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অসংখ্য উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
অবকাঠামো খাত
বন্যার কারণে সম্প্রতি সংস্কার করা হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও সম্পূর্ণ ক্ষতির চিত্র জানা যায়নি।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ৬ হাজার ৪৪৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তালিকা তৈরি করা শুরু করেছি। ৪-৫ দিনের মধ্যেই ক্ষতির চিত্র নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তালিকা তৈরি শেষ হলে আমরা সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। পর্যাক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া শুরু হবে।
কাজল সরকার/খাদিজা রুমি/