কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পৌর সদরের কয়েকটি ওয়ার্ডসহ উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর, রায়পুরের প্লাবনভূমির মৎস্য প্রকল্পসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কাঁচা রাস্তা, কৃষিজমি, বীজতলা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডের তুজারভাঙা সতানন্দি, বাড়াগাঁও, গাজীপুর উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর, রায়পুর, হাসনাবাদ ভিটিকান্দি, জুরানপুর, সুন্দলপুর ও রায়পুর ও কুশিয়ারা বিভিন্ন গ্রামের মৎস্য চাষ প্রকল্পসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিমউদদীন আহম্মেদ বলেন, 'আমাদের গ্রাম ও আশেপাশে বাড়ির উঠান, বসতঘর ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন কলেজ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও দিনমজুররা।'
স্থানীয় রায়পুর গ্রামের কৃষক মো. মহাসিন আহম্মেদ জানান, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বেপারী বলেন, 'অতি বৃষ্টির কারণে দৌলতপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা জনদুর্ভোগের আকার নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
লিটন সরকার বাদল/তামান্না রুপা/